মাদারীপুরে রাজৈরে বিয়ে বাড়িতে উচ্চস্বরে সাউন্ড বক্সে গান বাজাতে নিষেধ করা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে দুইজন আহত হয়। আহতদের মধ্যে রাজৈর পৌরসভা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বাদশাহ মীরকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে ৮টা পর্যন্ত জেলার রাজৈর পৌরসভা এলাকার বেপাড়ীপাড়া মোড় ও পশ্চিম রাজৈর গ্রামে দুই দফায় এ ঘটনা ঘটে। এসময় একটি দোকান ও দুটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। এ নিয়ে ওই এলাকায় বর্তমানে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাজৈর পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড পশ্চিম রাজৈর গ্রামের শহীদ শেখের মেয়ের বিয়ে উপলক্ষে উচ্চস্বরে গান বাজানো হয়। শুক্রবার দুপুরে জুম্মার নামাজের সময় নিষেধ করে রাজৈর উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক ও সাবেক ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর খান (৪৫)। এ সময় মসজিদের ভেতরে বসেই শহীদের ভাই অলি শেখের (৪০) সাথে জাহাঙ্গীরের কথা-কাটাকাটি হয়। এরই জের ধরে সন্ধ্যায় রাজৈর বাজারের বেপারীপাড়া মোড়ে দুই পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়।
এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। জাহাঙ্গীর খানের জ্বালানি কাঠের দোকান ও দুটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে অলি শেখের লোকজন। খবর পেয়ে রাজৈর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে পশ্চিম রাজৈর গ্রামে ফিরে মীমাংসার জন্য অলি পক্ষের লোকজন জাহাঙ্গীরের বাড়ি গেলে মারধরের শিকার হন রাজৈর পৌরসভা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বাদশাহ মীর। পরে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া এ সংঘর্ষে আরও একজন আহত হয়েছেন।
মাদারীপুরের রাজৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘মারামারি থামানোর পর এলাকায় গিয়ে মীমাংসার কথা বলতে জাহাঙ্গীরের বাড়িতে যায় অপর পক্ষের লোকজন। এসময় অলি পক্ষের একজনকে মারধর করা হয়েছে। তাকে ঢাকায় নিয়ে গেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। আমরা নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাস্তায় টহলে আছি।’



