গোপালগঞ্জ পৌর এলাকার রেশমা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল কেন্দ্রে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটছে। এতে দুই আনসার সদস্য ও এক কিশোরী সহ তিন জন আহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ৯ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন–ব্যাটেলিয়ন আনসার সদস্য ফরিদপুর জেলার মধুখালি উপজেলার বামনদি গ্রামের আ. খালেক মোল্লার ছেলে মো. জামাল মোল্লা ও সদর উপজেলার তেতুলিয়া গ্রামের সুনীল মজুমদারের ছেলে সুকান্ত মজুমদার (২৮) ও শহরের আরামবাগ এলাকার আশরাফ আলী খানের মেয়ে আমেনা খানম (১৩)। এর মধ্যে আমেনা খানমের বাম পায়ে এবং আনসার সদস্যদের চোখের উপরে হালকা জখম হয়।
ঘটনার খবর শুনার সাথে গোপালগঞ্জ সদরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) বাবলী শবনমসহ মোবাইলকোর্ট টিমের সদস্য ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।
আরামবাগ এলাকার ভোটার অবিনাশ সরকার বলেন, ‘হঠাৎ কেন্দ্রের মধ্যে বিকট শব্দ ও ধোয়া সৃষ্টি হয়। মনে হলো দূর থেকে কেউ ককটেল জাতীয় কিছু একটা ছুড়ে মেরেছে। পরে দেখলাম একটি কিশোরীর মেয়ের বামপায়ে ও দুইজন আনসার সদস্যের চোখের উপরে কিছু একটা লেগে জখম হয়েছে। মূলত ভোটার যাতে কেন্দ্রে না আসে, ভীতি সৃষ্টি করতে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে।’
রেশমা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল কেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসার জহিরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘সকাল থেকে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ চলছিল। সকাল সোয়া ৯টার দিকে একটি বিকট শব্দ হয়। রুম থেকে বের হয়ে দেখি কেন্দ্রের মেইন গেটে উপর একটি একটি কেকটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। এতে কেন্দ্রের ভেতরে দায়িত্বরত দুই আনসার সদস্য ও একটি কিশোরী মেয়ে সামান্য আহত হয়েছেন। তবে, ভোটগ্রহণ স্বাভাবিক রয়েছে।’
এর আগে গতকাল বুধবার সন্ধ্যার পর থেকে গোপালগঞ্জ পৌর এলাকার নিলারমাঠ শহীদ মাহাবুব প্রাধমিক বিদ্যালয়, শহরের বিনাপানি স্কুল, রঘুনাথপুর দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দূর্গাপুর হাই স্কুল, মাঝিগাতী হাই স্কুল এবং টুঙ্গিপাড়া উপজেলার গুয়াদানা বিন্দুবাসিনী উচ্চ বিদ্যালয়সহ অন্তত ১০টি ভোটকেন্দ্রে ও এর আশেপাশে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় দুর্বৃত্তরা।
এসব ঘটনায় গতকাল বুধবার রাতে সেনাবাহিনীর টিম গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বোড়াশী পূর্বপাড়া এলাকা থেকে খালেদ মোল্লার ছেলে জিসান মোল্লাকে (২৪) আটক করে পুরিশে সোপর্দ করেছে।
অন্যদিকে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত গোপালেগঞ্জে ৩৯৭টি ভোট কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ চলছে। তবে, সকাল থেকে ভোটার উপস্থিতি কম লক্ষ্য করা গেছে।
এর আগে মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনের সড়কে একটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এছাড়া, গত ৩০ জানুয়ারি গোপালগঞ্জ শহরের বেদগ্রাম এলাকায় আনসার ব্যাটাডলিয়ান অফিস কম্পাউন্ডে, গত ২৮ জানুয়ারি গোপালগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারকের বাস ভবনে, ২৬ জানুয়ারি গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিদ্যালয়ের মূল গেটের সামনে এবং গত বছরের ১২ ডিসেম্বর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্টেট আদালতের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পর পর কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটলেও এখন পর্যন্ত কোনো কুল কিনারা পাননি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।



