চট্টগ্রাম অঞ্চলে সাম্প্রতিক বন্যায় কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় শুধু যাত্রী ভোগান্তিই নয়, বড় অংকের আর্থিক চাপে পড়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। প্রাথমিকভাবে টাকার অংকে শুধু টিকিট বাবদই যাত্রীদের ফেরত দিতে হয়েছে অন্তত: এককোটি টাকা। একইসঙ্গে ফেরত নিতে হয়েছে ১১ হাজারের বেশি টিকিট। বিঘ্ন ঘটেছে পরবর্তী দিনগুলোর অগ্রিম টিকেট বিক্রিতেও।
ভারী বৃষ্টিতে রেললাইন ডুবে যাওয়ায় গত ৭ জুলাই থেকে ১১ জুলাই পর্যন্ত চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ ছিল। ফলে এই রুটে অগ্রিম কেটে রাখা ১১ হাজার ৩৩৭টি টিকেট ফেরত নিতে হয়েছে রেল কর্তৃপক্ষকে। এসব টিকিটের বিপরীতে ফেরত দিতে হয়েছে ৮৭ লাখ ৮৫ হাজার ৩৪৪ টাকাও।
এর বাইরে উল্লিখিত দিনগুলোতে অগ্রিম টিকিট বিক্রি বন্ধ থাকায় পরবর্তী সময়ে এই রুটে কাঙ্খিত যাত্রী পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা দূরপাল্লার যাত্রীরা কক্সবাজার ভ্রমন বাতিল করায়, পরোক্ষভাবেও বিভিন্ন রুটে যাত্রী হারিয়েছে রেল।
বাংলাদেশ রেলওয়ের (পূর্ব) মহাব্যবস্থাপক মো. সুবক্তগীন জানান, অতিবৃষ্টিতে চট্টগ্রাম নগরীর ৫শ মিটার এলাকায় দুই ফুট পানিতে ডুবেছে রেললাইন। এতে অবকাঠামোজনিত বড় কোনো ক্ষতি হয়নি। তবে যাত্রীদের নিরাপত্তা বিবেচনায় বন্ধ রাখতে হয়েছে ট্রেন চলাচল। ঢাকা-কক্সবাজার রুটের দুই জোড়া ট্রেন চট্টগ্রাম পর্যন্ত যাত্রী বহন করেছে।
চট্টগ্রামের রেল স্টেশন মাস্টার আবু জাফর মজুমদার জানান, সাধারণত রেললাইনের উপরে চার ইঞ্চি পর্যন্ত পানি উঠলে, ট্রেন চলাচল চালু রাখা হয়। তবে এবার চট্টগ্রাম–কক্সবাজার রুটে রেল ট্র্যাক ডুবেছে অন্তত: দুই ফুট পানির নীচে। একইসঙ্গে অন্তত: তিনদিন রেললাইন পানির নীচে থাকায় পানি কমার পরও পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষা শেষ করতে কিছু সময় লেগেছে। পরে ১২ জুলাই এডভান্সড পাইলটিং বা সীমিত গতিতে ট্রেন চালু করা হয়।
রেল সংশ্লিষ্টরা আরও বলছে, উল্লেখিত সময়ে ট্রেনের সাপ্তাহিক বন্ধের দিন থাকায় প্রকৃত অপারেশনাল ক্ষতির হিসাব কিছুটা কমলেও জনপ্রিয় রুটটিতে ট্রেন চলাচল টানা বন্ধ থাকায় যাত্রীসেবায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে। জলাবদ্ধতা ও বন্যার ঝুঁকি কমাতে রেললাইনের ঝুঁকিপূর্ণ অংশে টেকসই অবকাঠামো উন্নয়ন, পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা করা দরকার।



