ঢাকা-১ (দোহার ও নবাবগঞ্জ) আসনে বেসরকারি ফলাফলে বিজয়ী হয়েছেন ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি ও বায়রার সদস্য খন্দকার আবু আশফাক। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে জয়লাভ করেন। নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর দোহার ও নবাবগঞ্জজুড়ে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা যায়।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. রেজাউল করিম বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন। ঘোষিত ফল অনুযায়ী, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী খন্দকার আবু আশফাক পেয়েছেন ১ লাখ ৭৩ হাজার ৭৮১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম পেয়েছেন ১ লাখ ১২ হাজার ৬২২ ভোট। অর্থাৎ প্রায় ৬১ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে তিনি বিজয় নিশ্চিত করেন।
এ আসনে তৃতীয় হয়েছেন হরিণ প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী অন্তরা সেলিম হুদা। তিনি পেয়েছেন ৪ হাজার ৮৮০ ভোট। এছাড়া ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী পেয়েছেন ৬ হাজার ৬০০ ভোট, লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী মো. নাসির উদ্দিন মোল্লা পেয়েছেন ১ হাজার ৩৬২ ভোট এবং বাংলাদেশ লেবার পার্টির প্রার্থী শেখ মো. আলী পেয়েছেন ২৭৩ ভোট।
ঢাকা-১ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৪৫ হাজার। মোট ভোটকেন্দ্র ছিল ১৮৫টি। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। ভোটার উপস্থিতিও ছিল সন্তোষজনক। নির্বাচনী এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা ছিল লক্ষণীয়।
খন্দকার আবু আশফাক দীর্ঘদিন ধরে দোহার-নবাবগঞ্জ এলাকায় রাজনৈতিকভাবে সক্রিয়। তিনি স্থানীয় সংগঠনকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত ছিলেন। স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় ও তৃণমূল পর্যায়ে সক্রিয় যোগাযোগ তার নির্বাচনী প্রচারণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি তিনি ব্যবসায়িক অঙ্গনেও পরিচিত মুখ। তার মালিকানাধীন রিক্রুটিং প্রতিষ্ঠান ‘খোন্দকার ওভারসিজ’। তিনি এ প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিস (বায়রা)-এর নিবন্ধিত সদস্য হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
দলীয় নেতাকর্মীরা আশা প্রকাশ করেছেন, সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর খন্দকার আবু আশফাক দোহার-নবাবগঞ্জের অবকাঠামো উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন। নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের মাধ্যমে এলাকার উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে—এমন প্রত্যাশাই এখন স্থানীয় জনগণের।



