পরকীয়ার সম্পর্কের বিরোধ আর ধর্ষণচেষ্টার জেরে হত্যা করা হয় সৌদি আরব প্রবাসী মোকাররম মিয়াকে। রাজধানীর মুগদায় পাওয়া খণ্ডিত মরদেহ নিয়ে তদন্তের পর এ তথ্য জানিয়েছে র্যাব। তারা বলছে, হত্যায় সরাসরি জড়িত পরকীয়া প্রেমিকা তাসলিমা এবং তার বান্ধবী হেলেনা। নরসিংদী থেকে হেলেনাকে গ্রেপ্তার এবং তার মেয়েকে হেফাজতে নিয়েছে র্যাব। তাসলিমাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
রাজধানীর মুগদার মান্ডা এলাকায় ঘটে যাওয়া এ নৃশংসতা যেন সিনেমার গল্পকেও হার মানায়। পরকীয়া সম্পর্কের টানাপড়েন থেকে সৌদি-ফেরত মোকাররম মিয়াকে হত্যা করা হয় শ্বাসরোধে। পরে বটি দিয়ে ৮ টুকরো করা হয় মরদেহ।
ঘটনার রহস্য উদঘাটনের পর ব্রিফিংয়ে র্যাব জানায়, প্রবাসী মোকাররম মিয়ার সাথে তাসলিমা আক্তারের পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। গত ১৩ মে মোকাররম দেশে ফেরেন। ওঠেন তাসলিমার বান্ধবী হেলেনার বাসায়। সেখানে বিয়ের বিষয়ে দুপক্ষের বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে আপত্তিকর ছবি ছড়ানোর হুমকি দিলে, মোকাররমকে হত্যার পরিকল্পনা করে তাসলিমা।
এদিকে সে রাতেই হেলেনার ১৩ বছরের শিশুকে মোকাররম ধর্ষণের চেষ্টা করেন বলে জানায় র্যাব। এতে হত্যার পরিকল্পনায় হেলেনও যুক্ত হন।
র্যাব-৩ উপঅধিনায়ক সাঈদুর রহমান জানান, হত্যার পরের রাতে মরদেহ টুকরো মান্ডা এলাকার বিভিন্ন ময়লার স্তূপে ফেলা হয়। কয়েক দিন পর, রোববার বিকেলে মাথা ছাড়া অন্য টুকরো উদ্ধার করে পুলিশ। সেদিন রাতে, প্রায় এক কিলোমিটার দূর থেকে, পলিথিনে মোড়ানো মাথাটি উদ্ধার করা হয়। ফিঙ্গারপ্রিন্ট থেকে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জের বাসিন্দা মোকাররমের পরিচয় শনাক্ত করে র্যাব।
তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নরসিংদী থেকে হেলেনাকে গ্রেপ্তার করে র্যাব-৩।



