বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় রাজধানীর উত্তরখান থানায় মামলা করেছেন তাঁর বাবা এনায়েতুল করিম। এই মামলায় তাহসিফের ব্যবসায়িক অংশীদার ও বন্ধু শাহরিয়ার রেজা দ্বীপকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। পরে তাকে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) নৌ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
শনিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে নৌ পুলিশ। তারা জানিয়েছে, শাহরিয়ার রেজা দ্বীপকে আদালতে তুলে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করবে নৌ পুলিশ। আজ দুপুর ১২টার দিকে দ্বীপকে নিয়ে আদালতে রওনা করবে তারা।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের বি ব্লকের একটি বাসার তৃতীয় তলা থেকে দ্বীপকে হেফাজতে নেয় পিবিআই। তিনি ওই এলাকার বাসিন্দা সেলিম রেজার ছেলে। নিখোঁজ হওয়ার আগে তাহসিফের সঙ্গে প্রায় ছয় ঘণ্টা সময় কাটিয়েছিলেন দ্বীপ। এ কারণে তার কাছ থেকে ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে তদন্ত শুরু করে পিবিআই।
গত শুক্রবার পিবিআইয়ের একটি তদন্ত দল দ্বীপকে নিয়ে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায় যায়। তুরাগ নদসংলগ্ন ২৯ নম্বর সীমানা পিলারের আশপাশে কী ঘটেছিল, তা জানার জন্য তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকা থেকে কালো রঙের একটি সুজুকি জিক্সার ১৫০ মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। মোটরসাইকেলটির কোনো নম্বরপ্লেট ছিল না।
পিবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদে দ্বীপ ঘটনার রাতের বিষয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন। সেদিন রাতে তিনি ও তাহসিফ তুরাগ নদসংলগ্ন মাজার বস্তি এলাকায় গিয়েছিলেন। সেখানে দুজনের কথা বলার সময় কয়েকজন তাদের ধাওয়া করেন। দ্বীপের ভাষ্য অনুযায়ী, ধাওয়াকারীদের মধ্যে দুজনের পরনে পুলিশের পোশাক ছিল।
দ্বীপ দাবি করেন, ওই ব্যক্তিদের দেখে তাহসিফ দৌড় দেন। একপর্যায়ে তিনি তুরাগ নদে ঝাঁপ দেন। অন্যদিকে দ্বীপ বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) ২৯ নম্বর সীমানা পিলারের আড়ালে লুকিয়ে পড়েন। পরে সেখান থেকে চলে যান তিনি।


তুরাগ নদী থেকে বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তার মরদেহ উদ্ধার
