ঢাকার দুই সিটিতে ফুটওভার ব্রিজে ৮টি চলন্ত সিঁড়ির মধ্যে ৬টিই বিকল। চালুর কিছু দিনের মধ্যে অচল হয়ে পড়ে এসব সিঁড়ি। ২৫ কোটি টাকার বেশি খরচে নির্মিত এসব সিঁড়ি এখন সুবিধার বদলে ভোগান্তির কারণ হয়ে উঠেছে। এসব চলন্ত সিঁড়ি মেরামতের উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলছেন উত্তর সিটির প্রশাসক। আর দক্ষিণ সিটির প্রশাসক বলছেন, বিগত সরকারের আমলে করা এসব চলন্ত সিঁড়ির সিদ্ধান্ত ভুল ছিল।
নিউ মার্কেটের এই ফুটওভার ব্রিজটি চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি খুলে দেয়া হয়। কিন্তু এখানকার চলন্ত সিঁড়িটি দুই মাসের মাথায় পুরো অকেজো হয়ে পড়ে। এখন ফুটওভার ব্রিজে চলাচলকারীদের গলার কাঁটা এটি। এটি নির্মানে খরচ হয়েছিল ৯ কোটি ৭৭ লাখ টাকা।
২০১৪ সালে দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বনানী ফুটওভার ব্রিজের চলন্ত সিঁড়িরও বেহাল দশা। চুরি হয়ে গেছে চলন্ত সিঁড়ির বেশিরভাগ যন্ত্রপাতি।
রাজধানীর বিমানবন্দর সড়ক, ইসিবি চত্ত্বর, প্রগতী সরণী এবং শেরেবাংলা নগরের ফুটওভার ব্রিজের সিড়ি অকেজো। চালু আছে শুধু বাড্ডা এবং ফার্মগেইট ফুটওভার ব্রিজের চলন্ত সিঁড়ি।
এক পথচারী বলেন, ‘যেহেতু এটা একটা পাবলিক প্লেস, চলন্ত সিঁড়ির কোনো দরকারই ছিল না। এটা টাকার অপচয়।’
আরেক নারী পথচারী বলেন, ‘এই সিঁড়ি দিয়ে উঠতে গেলে বয়স্ক মানুষের হাঁটুতে ব্যথা হয়।’
স্থানীয় এক দোকানদার বলেন, ‘দু–তিন মাস আগে বৃষ্টি এসেছিল। তখন নষ্ট হয়ে গেছে। আর ঠিক করা হয়নি।’
নগর পরিকল্পনাবিদেরা বলছেন, যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাবে আধুনিক উদ্যোগগুলো উপকারের বদলে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় ও বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নগরপরিকল্পনাবিদ ড. আদিল মোহাম্মদ খান বলেন, ‘প্রকিউরমেন্টের পেছনে দুর্নীতির যে গল্পগুলো থাকে, সেই গল্পগুলোই তাদেরকে বারবার এ ধরনের ব্যয়বহুল প্রকল্প নিতে উৎসাহিত করে। অথচ ঢাকা শহরে আমরা দেখি স্বাভাবিক ফুটওভার ব্রিজগুলো অনেক বেশি কার্যকর হয়। এ ধরনের প্রকল্পে যারা জড়িত ছিলেন, যারা আমাদের মূল্যমবান টেক্সের টাকা নষ্ট করেছেন তাদেরকে আইনের আওতায় আনা উচিত।’
এসব ফুটওভার ব্রিজ নিমাণে ঢাকার দুই সিটির খরচ ২৫ কোটি টাকার বেশি। উত্তরের প্রশাসক বলছেন, অচল সিঁড়িগুলো মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ডিএনসিসির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘একটা টেন্ডার প্রক্রিয়ায় গেলেও সেই প্রক্রিয়া শেষ করতে চার মাস সময় লাগে। খুব দ্রুত সংস্কার কাজ করে আমরা এটাকে চলমান রাখব। ’
তবে দক্ষিণ সিটির প্রশাসক বলছেন, চলন্ত সিঁড়ির সিদ্ধান্ত ছিল ভুল। নতুন উদ্যোগ নেয়ার কথাও জানান তিনি।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেন, ‘লক্ষাধিক মানুষ প্রতিদিন যেখানে ওঠানামা করবে, সেই জায়গায় তো এই ধরনের সিঁড়ি ব্যবহার করাই ঠিক হয়নি। এটা যখন টেন্ডার শিডিউল করেছে সেটাই অযৌক্তিক। কাজেই ভবিষ্যতে আমি খেয়াল রাখব, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের কোনো প্রকল্প না হয়।’
উন্মুক্ত জায়গায় চলন্ত সিঁড়ির মতো প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য নাগরিকদের সচেতনতা এবং সিটি করপোরেশনের সক্ষমতার ঘাটতি রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।


