টানা দুবার নড়াইল–২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে ভক্ত, অনুরাগী, শুভাকাঙ্ক্ষীদের ফুলেল শুভেচ্ছা ও ভালোবাসায় সিক্ত হলেন জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। গতকাল নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই মাশরাফির ভক্ত–অনুরাগীদের উচ্ছ্বাসের যেন কমতি নেই। বিজয়ের পর মাশরাফিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেছেন, ‘ভোট দিয়ে আমাকে জয়ী করে যারা সংসদে পাঠিয়েছেন আমার প্রথম ও শেষ চাওয়া থাকবে– এই মানুষগুলোকে যেন আমি অবহেলা না করি, মানুষগুলো যেন সুখে–শান্তিতে থাকতে পারে।’
আপাতত নড়াইল পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ড এলাকায় মামা বাড়িতেই থাকছেন মাশরাফি। গতকাল রাত থেকে বাড়িটিকে ঘিরে উৎসবের আমেজ বইছে।
নির্বাচনে মাশরাফির বিজয়ে ভক্ত–সমর্থক–শুভাকাঙ্ক্ষীরা ছুটে আসছেন কেউবা ফুলের তোড়া, মালা বা মিষ্টি নিয়ে। পাশাপাশি মাশরাফিও ছুটে চলেছেন নড়াইল-২ নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন প্রান্তে। আবার দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ভক্ত সমর্থকদের কেউ কেউ ফিরে যাচ্ছেন বিজয়ের আনন্দে, বিচ্ছেদের অশ্রুশিক্ত নয়নে।
সবাই মাশরাফিকে জানাচ্ছেন বিজয়ের অভিনন্দন। নড়াইলবাসীর প্রত্যাশা, প্রিয় মানুষ মাশরাফিকে এবার মন্ত্রিত্বে আসনে বসাবেন প্রধানমন্ত্রী।
স্থানীয় বাসিন্দা খোকন শাহ বলেন, ‘মাশরাফি মানেই নড়াইলের মানুষের কাছে আস্থার একটি নাম। তাঁর হাত ধরেই অবহেলিত নড়াইল হবে প্রজন্মের শ্রেষ্ঠ বাসস্থান। তাই তো পুনরায় মাশরাফি বিজয়ে তাঁর কাছে প্রত্যাশা সব শ্রেণিপেশার মানুষের।’
নড়াইলের আরেক স্থানীয় বাসিন্দা গাজী আবদুল মজিদ বলেন, ‘মাশরাফিকে আমি সন্তানের মতো মনে করি। ওর জন্য আমার কিছু না থাকলেও দোয়া আছে আজীবন। আমি মনে করি, বাংলাদেশের মধ্য সর্বশ্রেষ্ঠ এমপি মাশরাফি।’
মাশরাফির হাত ধরে বদলেছে নড়াইল। তাই তো ভক্ত–সমর্থক–শুভাকাঙ্ক্ষীদের চাওয়া শুধু সংসদ সদস্য নয়, মাশরাফিকে এবার মন্ত্রিত্ব দেওয়া হোক।
সরফুল আলম লিটু নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ‘আমরা গর্বিত নড়াইলের সন্তান হিসাবে। আমরা মাশরাফিকে দেখেছি ভাই হিসাবে। কখনো পেয়েছি খেলোয়াড় হিসেবে খেলার মাঠে। এরপর পেয়েছি সংসদ সদস্য হিসেবে। এবার প্রধানমন্ত্রীর কাছে চাওয়া আমরা মাশরাফিকে মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাই।’
ভোলা জেলা থেকে ভালোবাসার টানে নড়াইলে এসে ২১ ডিসেম্বর থেকে মাশরাফির নির্বাচনে প্রচার করেছেন প্রতিবন্ধী যুবক মো. রাজিব। আজ ফিরে যাচ্ছেন বাড়িতে, মাশরাফির বিজয়ে আনন্দিত হলেও বিদায় নিয়েছে অশ্রুসিক্ত নয়নে।
মো. রাজিব বলেন, ‘আমি ধন্য, আমি প্রতিবন্ধী হয়েও ভালোবাসার মানুষের নির্বাচন করতে আইছি। মাশরাফি ভাই যেভাবে নড়াইলের উন্নয়নে কাজ করেছে, সেভাবে যাতে কাজ করে যেতে পারে সেই দোয়া করি।’
তবে নড়াইলবাসী এমন ভালোবাসা পেয়ে নিজেও আবেগাপ্লুত মাশরাফি। তিনি বলেন, ‘সংসদ সদস্য হিসেবে আমি সবসময় চেয়েছি এবং ভবিষ্যতেও চাইব, আমার নড়াইলবাসী বিশেষ করে নড়াইল-২ আসনের মানুষ যেন ভালো থাকে। ভোট দিয়ে আমাকে জয়ী করে যারা সংসদে পাঠিয়েছেন আমার প্রথম ও শেষ চাওয়া থাকবে– এই মানুষগুলোকে যেন আমি অবহেলা না করি, মানুষগুলো যেন সুখে–শান্তিতে থাকতে পারে।’
বিসিবি সভাপতি হওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মাশরাফি বলেন, ‘যেহেতু আমি এখনো ঘরোয়া ক্রিকেট খেলছি, এজন্য এটি নিয়ে এখনই ভাবছি না।’
ভক্ত, সমর্থক ও দলীয় নেতাকর্মীদের সর্ম্পকে প্রশ্নের জবাবে মাশরাফি বলেন, ‘প্রথমত আমি নড়াইলের এই জনপদের প্রত্যেকটি মানুষকে ধন্যবাদ জানাই। উনারা এভাবে দলমতনির্বিশেষে সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে এসে আমাকে ভোট দিয়েছে, আমাকে জয়ী করেছে।’
নড়াইল–২ আসনের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সর্ম্পকে এই ক্রিকেটার বলেন, ‘নড়াইল একটি সি ক্যাটাগরির জেলা, উন্নয়ন শুধু মুখ দিয়ে চাইলেই হবে না। আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার সম্মীলন থাকতে হবে। আমাদের বাধাগুলো কোথায় বা নীতিমালা কি না জেনে অনেক কিছু চেয়ে বসি। প্রধানমন্ত্রী নড়াইলের জন্য অনেক কিছু দিচ্ছেন। তবে এটার জন্য লেগে থাকতে হবে, রাতারাতি সবকিছু হবে না।’
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নড়াইল-২ আসনে মাশরাফি ১ লাখ ৮৯ হাজার ১০২ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এই আসনে মোট ৮ জন প্রার্থী ছিলেন। মোট ভোটার ছিলেন ৩ লাখ ৬৫ হাজার ৭২৯ জন। ভোটকেন্দ্র ছিল ১৪৭টি।



