তথ্য ফাঁস করলে ইন্সপেক্টরকে ঝুলিয়ে মারার বক্তব্য দেওয়া খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ রাশিদুল ইসলামকে প্রত্যাহার করেছে পুলিশ সদরদপ্তর। গতকাল শনিবার পুলিশ সদরদপ্তরের পার্সোনেল ম্যানেজমেন্ট-১ শাখার অতিরিক্ত ডিআইজি রায়হান উদ্দিন খান স্বাক্ষরিত এক আদেশে তাঁকে বর্তমান কর্মস্থল থেকে প্রত্যাহার করা হয়।
আদেশে আগামী ২১ জুন পুলিশ সদরদপ্তরে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত ১৭ জুন খুলনা মহানগরীর লবণচরা থানা এলাকায় আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময় করেন কেএমপির কর্মকর্তারা। সেখানে অপরাধ সংক্রান্ত তথ্যদাতাদের পরিচয় গোপন রাখার বিষয়ে আশ্বাস দিতে গিয়ে মোহাম্মদ রাশিদুল ইসলাম বলেন–কোনো তথ্য কোনো ইন্সপেক্টরকে দেওয়ার পর তা ফাঁস হলে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবেন।
বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘আমি নিজে ওই ইন্সপেক্টরকে এই গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে দেব, আপনারা নিজে পিটাইয়া মারবেন।’
তার এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পুলিশ বাহিনীর একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার মুখে এমন মন্তব্যকে অনাকাঙ্ক্ষিত ও বিতর্কিত হিসেবে দেখছেন অনেকে।
এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন। শনিবার সংগঠনটির পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সম্পর্কে এমন বক্তব্য বাহিনীর পেশাগত মর্যাদা ও ভাবমূর্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। একই সঙ্গে এ ধরনের মন্তব্যের বিষয়ে যথাযথ মূল্যায়নের আহ্বান জানানো হয়।
বিতর্কিত ওই বক্তব্যের কয়েকদিনের মাথায় কেএমপি কমিশনারকে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।



