খুলনায় রাতের মিল (ভাত) খেয়ে ফেলা ও চুরির অভিযোগে মেসমেটদের নির্যাতনের শিকার হয়ে ছাদ থেকে লাফিয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। নিহতের বাবা বলছে রাতে তার ছেলের নাম্বার দিয়ে ফোন করে এক লাখ টাকা নিয়ে আসতে বলা হয় খুলনায়। পুলিশ বলছে, এটি হত্যাকাণ্ড নাকি অন্যকিছু বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার হল রোডের মসজিদ গলির আকিব সাহেবের পাঁচতলা ভবন। এখানে প্রায় ৪৫ জন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা থাকে। এই ভবনের চারতলার একটি রুমে থাকত নর্থ ওয়ের্ষ্টান ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগের ছাত্র আজমল হোসেন।
শুক্রবার রাতে সে মেসের খাবার চুরি করে খেয়েছে এমন অভিযোগ তুলে মেসে থাকা রবিন, রিফাতসহ অন্যরা তাকে ছাদে নিয়ে জিজ্ঞাসা করে। এ সময় আজমল ছাদ থেকে লাফ দিয়ে পড়ে আহত হয়। তাকে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসারত অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত আজমলের পিতা মো. কুতুব উদ্দিন জানান, শুক্রবার চুয়াডাঙ্গা থেকে খুলনা ফেরে আজমল। রাতে একবার কথাও হয়। পরে গভীর রাতে আজমল নাম্বার থেকে ফোন দিয়ে অজ্ঞাত একজন একলাখ টাকা নিয়ে দ্রুত খুলনা আসতে বলে। রাতেই তারা খুলনা রওনা দেন। সকালে এসে দেখেন লাশ মর্গে।
হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকবাল হোসেন বলেন, ‘আজমলের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ছাদ থেকে পড়ে তার পা ভেঙে গেছে। মাথার চুলও কাঁটা। মেসটির ছাদে আজমলের ওপর নির্যাতন করা হয়েছে এরকম আলামত পাওয়া গেছে।’
চুয়াডাঙ্গার দর্শনা এলাকার কুতুবউদ্দিনের দুই ছেলের মধ্যে বড় ছেলে আজমল। আদরের ছেলের এমন মৃত্যু মানতে পারছেন না তিনি।



