রাজশাহীর কাটাখালী পৌরসভার বাখরাবাজ এলাকায় বিদ্যুতের অতিরিক্ত ভোল্টেজের কারণে তিনটি মহল্লার প্রায় অর্ধেক বাড়ির টিভি-ফ্রিজসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস পুড়ে গেছে। গত সোমবার রাত ২টার দিকে ওই এলাকায় একটি ট্রান্সফরমার চালুর পরই এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যুতের অকেজো ট্রান্সফরমার সোমবার গভীর রাতে মেরামত করা হয়। পরে সংযোগ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুড়ে যায় মসজিদের বাল্ব। নেসকোর কর্মীরা তখনই সংযোগ বন্ধ করে দেন। কিন্তু তার আগেই কাটাখালী পৌরসভার তিনটি মহল্লায় প্রায় ৩০০ বাড়ির ইলেকট্রনিকস পণ্য পুড়ে নষ্ট হয়ে যায়।
স্থানীয়রা জানান, রাতে বাখরাবাজ এলাকায় মসজিদের সামনে থাকা একটি ট্রান্সফরমার অকেজো হয়ে যায়। এতে বাখরাবাজ মোল্লাপাড়া, বাখরাবাজ মধ্যপাড়া ও বাখরাবাজ স্কুলপাড়া মহল্লার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ সময়েও বিদ্যুৎ না আসায় লোকজন নর্দার্ন ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানির (নেসকো) কাটাখালী অফিসে ফোন করেন।
পরে নেসকোর কর্মীরা গিয়ে দেখেন, ট্রান্সফরমার অকেজো হয়ে গেছে। এরপর রাত ২টার দিকে তারা একটি পোর্টেবল ট্রান্সফরমার নিয়ে গিয়ে লাইন চালু করেন। সঙ্গে সঙ্গে মসজিদের সামনে থাকা একটি বৈদ্যুতিক বাল্ব পুড়ে যায়। এটি দেখে নেসকোর কর্মীরা সংযোগ বন্ধ করে দেন। কিন্তু তার আগেই তিনটি মহল্লার অনেক বাড়ির ইলেকট্রনিক ডিভাইস পুড়ে যায়। তখন একে একে মহল্লাবাসী বেরিয়ে এসে নেসকোর কর্মীদের আটকে রাখেন। কেউ কেউ ক্ষুব্ধ হয়ে তাদের মারধরও করেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে নেসকোর কর্মীরা থানায় ফোনকল করেন। পুলিশ এসে তাদের উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
কাটাখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুমন কাদেরী বলেন, ‘এটা নেসকোর কর্মীদের ভুল। সম্ভবত তারা অতিরিক্ত ভোল্টেজ দিয়েছিলেন। সে জন্য অনেকের বাড়ির ইলেকট্রনিক ডিভাইস পুড়ে যায়। ক্ষুব্ধ হয়ে এলাকার লোকজন নেসকোর কর্মীদের আটকে রাখেন। পরে নেসকো আমাদের জানালে পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে। এর বেশি কোনো ঘটনা ঘটেনি।’
নেসকোর রাজশাহীর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-৫-এর নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয় তিনটি লাইনের মাধ্যমে। কোনো কারণে দুটি লাইন এক হয়ে গেলে আনলিমিটেড বিদ্যুৎ যাবে। এটা অত্যন্ত বিপজ্জনক। এই ক্ষেত্রে এমনই হয়েছে। এটা কোনো গ্রাহকের বাড়িতেও হতে পারে, মূল লাইনেও হতে পারে। কোথায় হয়েছে, সেটা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।’
ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘বিদ্যুতের ভালো ও খারাপ দুটি দিকই আছে। আমরা সব সময় ভালো কাজের জন্য বিদ্যুৎ ব্যবহার করি। এখন দুর্ঘটনা ঘটে গেলে তো আর এতগুলো বাড়ির ক্ষতিপূরণ দেওয়া সম্ভব নয়।’



