বাংলাদেশে মোট উৎপাদিত ধান ও চালের বড় জোগান আসে দিনাজপুর থেকে। বিশেষ করে সুগন্ধি কাটারিভোগ চালের জন্য বিখ্যাত জেলা দিনাজপুর। তাই শস্য ভাণ্ডার খ্যাত দিনাজপুরে নিরাপদ ধান উৎপাদনে ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছে কৃষি বিভাগ। ধান উৎপাদনে ক্ষতিকারক পোকা দমনে কীটনাশকের ব্যবহার কমাতে ‘আলোক ফাঁদের’ ব্যবহার শুরু করেছে তারা।
দিনাজপুর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মাসুদ জানান, দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আফজাল হোসেনসহ উপজেলা পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা নিজে ফসলের মাঠে গিয়ে কৃষকদের নিয়ে আলোক ফাঁদের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। এতে করে আমন ধান উৎপাদনে ব্যাপক হারে কীটনাশক ব্যবহার কমে গেছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আফজাল হোসেন জানান, ধানের খেতে উপকারী এবং শত্রু দুই ধরনের পোকা থাকে। কৃষকেরা পোকা চিহ্নিত না করেই ব্যাপকহারে রাসায়নিক কীটনাশক ব্যবহার করে। যা নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ব্যাহত করে। আলোক ফাঁদ পদ্ধতির মাধ্যমে প্রতি সপ্তাহে একবার রাতে ফসলের জমিতে উপকারী পোকা এবং শত্রু পোকা চিহ্নিত করা হয়। পরে শত্রু পোকার ধরন বুঝে জৈব বালাইনাশক ব্যবহারের মাধ্যমে ফসলকে পোকা মুক্ত করা হয়। এছাড়াও দিনাজপুরের ধানের জমিতে ফেরোমোন ফাঁদসহ বিভিন্ন নিরাপদ পদ্ধতি ব্যবহার বাড়ানো হয়েছে। ফসলের শত্রু ও বন্ধু পোকা চিহ্নিত করতে প্রতিনিয়ত প্রশিক্ষণ চলছে। এতে করে নিরাপদ ধান উৎপাদন সম্ভব হবে।
আফজাল হোসেন আরও জানান, এ বছর ২ লাখ ৬১ হাজার হেক্টর জমিতে নিরাপদ আমন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যে জেলার ১৩টি উপজেলায় ৩১২টি ব্লকের মাধ্যমে আলোক ফাঁদ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। যা আমন ধান কাটা পর্যন্ত চলমান থাকবে।



