নীলফামারীর সৈয়দপুরে চব্বিশের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ছাত্র–জনতার ওপর গুলি চালিয়ে একজনকে আহত করার মামলার আসামি আনোয়ার হোসেন সরকার বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কামারপুকুর ইউনিয়ন সভাপতি ও ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান।
গত রোববার রাতে কামারপুকুর ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন আব্দুল গফুর সরকারের চাতালে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে ফুল দিয়ে আনোয়ার হোসেনকে বরণ করে নেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির সভাপতি ও নীলফামারী-৪ আসনের বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী আব্দুর গফুর সরকার।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, আনোয়ার হোসেন সরকার চব্বিশের গণ–অভ্যুত্থানের সময় গুলি চালিয়ে নুর ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে আহত করেছেন। এ ঘটনায় ২০২৪ সালে ৬ সেপ্টেম্বর হওয়া বিষ্ফোরক মামলায় আটক হয়েছিলেন এবং বর্তমানে জামিনে রয়েছেন। মামলা নম্বর- ০৪, জিআর ১৮৭/২৪। ধারা- ১৪৩/৩৩২/৩২৬/৪৩৬/৪১১/৩৪ সহ ১৯০৮ সালের বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের ৫/৬।
তাছাড়া চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে তিনি ব্যাপক দুর্নীতি করে আসছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ব্যাপারে কামারপুকুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘তারা খুন, গুম, লুটের মামলা থেকে বাঁচার জন্য বিএনপিতে যোগদান করেছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে তারা আবারও আওয়ামী লীগের হয়ে আমাদের ওপর নির্যাতন করবে। এই যোগদানের বিষয়ে আমাকে জানানো হয়নি এবং অনুষ্ঠানে ডাকাও হয়নি।’
রাফি নামে এক ছাত্রনেতা ফেসবুক পোস্টে বলেন, ‘নিজস্ব ভোটে জয়ের সম্ভাবনা নেই, তাই ফ্যাসিস্টদের ভোট পাওয়ার আশায় এসব লোকজনকে দলে ভেড়ানো হচ্ছে। যাদের নিজেদেরই কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই সমাজে। আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের এই কালচার কখনোই ইতিবাচক কিছু বয়ে আনবে না।’
রাফির পোস্টে কমেন্ট করে ফিরোজ নামে এক যুবদল নেতা লিখেছেন, ‘আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনকারীদের বিরুদ্ধে একসাথে আন্দোলন শুরু করতে হবে।’
এ বিষয়ে সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুর গফুর সরকার বলেন, ‘নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের দমন-পীড়ন ও গণতন্ত্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে মানুষ এখন বিএনপিতে যোগ দিচ্ছে। জনগণের ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে বিএনপিই সক্ষম দল। গতকাল রাতে আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা বিএনপিতে যোগদান করেছেন। তাদের তালিকা আজ হাতে পেলে চূড়ান্তভাবে জানা যাবে ঠিক কতজন যোগদান করেছেন। এদের মধ্যে অনেকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত, আবার অনেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন না।’
আব্দুর গফুর সরকার আরও বলেন, ‘জুলাই-আগস্ট গণআন্দোলনের কোনো মামলায় আনোয়ার সরকারের নাম ছিল না। পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে থাকলে সেটা পুলিশের ব্যাপার। আমাদের কোনো অভিযোগ নেই তার বিরুদ্ধে। তিনি আমাদের দলে যোগ দিয়েছেন এটাই কথা। আর তিনি যদি চেয়ারম্যান হিসেবে কোনো অনিয়ম দুর্নীতি করে থাকেন তা তার বিষয়। অপরাধ প্রমাণিত হলে তিনি তার পরিণতি ভোগ করবেন। প্রমাণ না হওয়া পর্যন্ত আমরা তাকে অপরাধী বলতে পারি না।’
জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট এস এম ওবায়দুর রহমান বলেন, ‘আমরা যাদের দলে নিয়েছি, তাদের অনেক বাছাই করেই নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে যারা আমাদের ওপর কোনো প্রকার দমন–পীড়ন বা নির্যাতন করেনি, বরং ভিন্ন দলের হয়েও সহাবস্থান ছিল এবং যাদের দলে নিলে ভালো হবে তাদেরই প্রাথমিকভাবে স্বাগত জানানো হয়েছে। এখনও কোনো সদস্য পদ দেওয়া হয়নি।’



