দীর্ঘ ৫ বছর পর সৌদি আরব থেকে নিজ গ্রামে ফিরেছেন প্রবাসী যুবক মাকসুদ আখঞ্জি। তবে তার এই ফেরা ছিল আড়ম্বরপূর্ণ। সঙ্গে নিয়ে এসেছেন তাঁর সৌদি নিয়োগকর্তা অর্থাৎ ‘কফিল’ মিশাল আমি য়ামীকে। শনিবার দুপুরে ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে চড়ে সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের বালিজুরি ইউনিয়নের রামনগর গ্রামে পৌঁছান তাঁরা।
সরজমিন দেখা যায়, শনিবার বেলা ১টার দিকে উপজেলার রাজনগর গ্রাম সংলগ্ন মাঠে একটি হেলিকপ্টারটি অবতরণ করে। প্রবাসী মাকসুদের সঙ্গে একজন সৌদি নাগরিক আসার খবর আগে থেকেই ছড়িয়ে পড়ায় সকাল থেকে ওই মাঠে উৎসুক জনতা ভিড় করেন। হেলিকপ্টার থেকে নামার পরপরই স্থানীয়রা উল্লাসে ফেটে পড়েন। মাকসুদের বাবা শাহ আলম আখঞ্জিসহ স্থানীয়রা সৌদি নাগরিক মিশাল আমি য়ামীকে ফুলেল শুভেচ্ছা দিয়ে বরণ করে নেন।
প্রবাসী মাকসুদ আখঞ্জি জানান, গত ৫ বছর ধরে তিনি সৌদি আরবের রিয়াদ শহরে মিশাল আমি য়ামীর মালিকানাধীন একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন। সেখানে নিজের কর্মদক্ষতা আর সততা দিয়ে তিনি কপিলের আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন।
মাকসুদ বলেন, ‘আমার কফিল খুব ভ্রমণপিপাসু মানুষ। তিনি প্রায়ই বলতেন আমার দেশ (বাংলাদেশ) দেখতে আসবেন। তাকে সম্মান জানাতেই হেলিকপ্টার ভাড়া করে গ্রামে নিয়ে আসা। তাঁর এই আগমনে আমার পরিবার ও গ্রামের মানুষ অত্যন্ত খুশি।’
প্রথমবার বাংলাদেশে এসে মিশাল আমি য়ামী বলেন, ‘মাকসুদ অত্যন্ত ভালো ছেলে। সে আমার ব্যবসা দেখাশোনা করে। বাংলাদেশ খুব সুন্দর দেশ। আমি এখান থেকে মাকসুদের মতো আরও পরিশ্রমী ও সৎ শ্রমিক নিতে চাই।’ এ সময় তিনি বারবার ‘মাশাআল্লাহ’ বলে বাংলাদেশের প্রতি তার ভালো লাগার কথা জানান।
স্থানীয় বাসিন্দা মশিউর রহমান বলেন, ‘মাকসুদ আমাদের এলাকার গর্ব। বিদেশের মাটিতে মালিকের সাথে এমন সুসম্পর্ক দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করে। প্রতিটি প্রবাসীর উচিত মাকসুদের মতো সততার পরিচয় দেওয়া।’
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মিশাল আমি য়ামী এক সপ্তাহ মাকসুদের বাড়িতে অবস্থান করবেন এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখবেন। সফর শেষে তারা পুনরায় একসাথে সৌদি আরবে ফিরে যাবেন।



