বিশ্বজুড়ে এয়ারলাইনস নির্বাহীরা মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা বোয়িংয়ের ওপর বিরক্ত। কারণ উড়োজাহাজগুলোর নিরাপত্তা ইস্যুতে এয়ারলাইনসগুলো তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারছে না।
কিন্তু বিশ্বে যেখানে বড় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান মাত্র দুটি, সেখানে এয়ারলাইনসগুলোর সামনে আর কোনো বিকল্পও নেই। বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, এ কারণে বোয়িংয়ের ওপর তাদের নির্ভর করতেই হচ্ছে।
এই পরিস্থিতির মধ্যে ইউনাইটেড এয়ারলাইনসের প্রধান নির্বাহী স্কট কিরবি ফ্রান্সে উড়াল দেন। তাঁর উদ্দেশ্য এয়ারবাসের সঙ্গে আলোচনায় বসা। বোয়িংয়ের এ সংকট তৈরি হওয়ার পরও এয়ারলাইনসগুলো নতুন উড়োজাহাজের অর্ডার জারি রেখেছে।
গত ৫ জানুয়ারি থেকে বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ সরবরাহ সূচিতে মারাত্মক পরিবর্তন এসেছে। নির্ধারিত সময়ের অনেক পরেও তারা উড়োজাহাজ সরবরাহ করতে পারছে না। এর মধ্যে ফ্লাইট চলাকালীন কেবিনে বিস্ফোরণের ৫টি ঘটনা তাদের উৎপাদনকালীন নিরাপত্তার বিষয়ে শঙ্কা তৈরি করেছে। কিন্তু প্রতিদ্বন্দ্বী এয়ারবাসও উড়োজাহাজ সরবরাহের ক্ষেত্রে একই সমস্যায় রয়েছে। ফলে এয়ারলাইনসগুলোর জন্য রাতারাতি বোয়িং থেকে এয়ারবাসে আসার সুযোগ কম।
এয়ারলাইনসগুলো বোয়িংয়ের এ পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাওয়াতে নতুন নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করছে। তারা এক ধরনের উড়োজাহাজের ক্রয়াদেশ দিচ্ছে, যাতে করে অন্য মডেলের উড়োজাহাজ পাওয়া সহজ হয়। একই সঙ্গে তারা জোর আলোচনা চালাচ্ছে, যাতে নির্ধারিত সময়ে উড়োজাহাজ সরবরাহ করা না হলে নতুন অর্ডারে ডিসকাউন্ট বা অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণও দাবি করছে।
একটি এভিয়েশন পরামর্শক প্রতিষ্ঠান লেহাম কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক স্কট হ্যামিলটন বলেন, ‘বোয়িংয়ের ক্রেতাদের সামনে খুব বেশি বিকল্প নেই। তাদের বোয়িংয়ের সঙ্গেই থাকতে হবে, তারা পছন্দ করুন বা না করুন।’
ইউনাইটেড এয়ারলাইনসের প্রধান নির্বাহী স্কট কিরবি অবশ্য প্রকাশ্যেই বোয়িংয়ের ওপর তাঁর হতাশার কথা জানিয়েছেন। ইউনাইটেডের বহরে থাকা বোয়িং সেভেন থ্রি সেভেন ম্যাক্স নাইন মডেলের উড়োজাহাজগুলো কর্তৃপক্ষ গ্রাউন্ডেড করার নির্দেশ দিয়েছে। ম্যাক্স টেন উড়োজাহাজের সনদ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে কর্তৃপক্ষ। যদিও এই উড়োজাহাজগুলো এই বছরই তাদের বহরে যুক্ত হওয়ার কথা। মূলত এই কারণেই কিবরি এয়ারবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
ইউনাইটেড ২৭৭টি ম্যাক্স টেন উড়োজাহাজের ক্রয়াদেশ দিয়েছে। আরও ২০০ টির বিষয়েও কথাবার্তা চলছে। কিন্তু উদ্ভূদ পরিস্থিতিতে বিকল্প হিসেবে এয়ারলাইনসটি এখন এয়ারবাসের এ–থ্রিটুওয়ান নিও মডেলের উড়োজাহাজের দিকে নজর দিয়েছে। ইউনাইটেডের সঙ্গে এয়ারবাসের আলোচনা ফলপ্রসু হলে বোয়িং তার সবচেয়ে বিশ্বস্ত ক্রেতাকে হারাবে।
অবশ্য ২০৩০ সাল পর্যন্ত এয়ারবাসের অর্ডার বুক পরিপূর্ণ। বৃহস্পতিবার কিরবি জানিয়েছেন, ইউনাইটেড এ–থ্রিটুওয়ান জেট কিনতে চায়, কিন্তু এগুলোর জন্য অতিরিক্ত অর্থ ব্যায় করা হবে না।
এই পরিস্থিতির সঙ্গে পরিচিত একজন জানিয়েছেন, এরপরেও ইউনাইটেডের ম্যাক্স টেন সমস্যার সমাধান হবে না বলে প্রতিষ্ঠানটির অনেকের ধারণা। এর পরিবর্তে ইউনাইটেড চাইছে সরবরাহ বিঘ্নের সুযোগে অন্য উড়োজাহাজ কেনার ক্ষেত্রে সুবিধা আদায় করতে।
কিরবি জানান, ইউনাইটেড বোয়িংকে সরবরাহের জন্য ম্যাক্স নাইন উড়োজাহাজ তৈরি করতে বলেছে। তাদের পরিকল্পনা সনদ পেয়ে গেলে এই অর্ডারকে ম্যাক্স টেনে পরিবর্তন করা হবে।
কয়েক সপ্তাহ আগে আমেরিকান এয়ারলাইনসের সিইও রবার্ট আইজমও বোয়িংয়ে মান নিয়ে বড় প্রশ্ন তোলেন। গত সপ্তাহে তারা এয়ারবাস এ–থ্রিটুওয়ান উড়োজাহাজের বিকল্প হিসেবে তাদের প্রথম ম্যাক্স টেনের ক্রয়াদেশ দিয়েছে।



