সেকশন

বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
Independent Television
ad
ad
 

বিশ্বের বৃহত্তম চিপ তৈরিকারী তাইওয়ানে জ্বালানি সংকট চরমে

আপডেট : ২০ মে ২০২৪, ১১:০০ এএম

বিশ্বের বৃহত্তম চিপ তৈরিকারী অঞ্চল তাইওয়ান। বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম তৈরির এ অতিগুরুত্বপূর্ণ উপাদানটি উৎপাদনের জন্য বিপুল বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়। কিন্তু স্বায়ত্তশাসিত দ্বীপটিতে জ্বালানি সংকট সম্প্রতি চরমে পৌঁছেছে। বিশ্বের উন্নত চিপের ৬০ শতাংশের বেশি উৎপাদনকারী দেশটি এ সংকট কি মেটাতে পারবে? এ প্রশ্ন ঘুরেফিরে আসছে।

তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে আজ সোমবার শপথ নিয়েছেন লাই চিং-তে। গত জানুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জয় পান তিনি। লাই এরইমধ্যে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় উচ্চাবিলাসী পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। নতুন প্রেসিডেন্ট দ্বীপটির নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের উৎপাদন ২০৩০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশে উন্নীত করতে চান। দেশটির বর্তমান নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের পরিমাণ ১১ শতাংশ। 

অন্যদিকে ২০৫০ সালের মধ্যে নিজেদের কার্বন নিঃসরণের পরিমাণ শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনতে চান লাই। কিন্তু গত কয়েক বছরে কয়েকবার বড় ধরনের বিদ্যুৎ বিপর্যের মুখে পড়া দ্বীপাঞ্চলটি এ লক্ষ্য কীভাবে পূরণ করবে, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের প্রশ্ন রয়েছে। 

তাইওয়ানের বিদায়ী প্রেসিডেন্ট সাই ইং-ওয়েন ২০১৬ সালে ক্ষমতাগ্রহণের পর একই সঙ্গে কার্বন নিঃসরণ কমানো ও কার্বনমুক্ত পারমাণবিক জ্বালানি উৎপাদন ধাপে ধাপে বন্ধের ঘোষণা দেন। ২০১৬ সালে দ্বীপটির পারমাণবিক জ্বালানি উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ১২ শতাংশ। বর্তমানে তা ৭ শতাংশেরও নিচে নেমে এসেছে। 

বিদায়ী প্রেসিডন্ট সাই ও নতুন প্রেসিডন্ট লাই দুজনই ডেমোক্রেটিক প্রগ্রেসিভ পার্টির (ডিপিপি) সদস্য। দলটি যে কোনো ধরনের পারমাণবিক কার্যক্রমের ঘোরতর বিরোধী। তাদের আদর্শিক এ অবস্থান বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বিভিন্ন পরিসংখ্যানে এমনটি উঠে আসছে। তাইওয়ানের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটর গবেষক লিয়াং ছি-ইউয়ান জানান, ২০১৭ ও ২০২২ সালের মধ্যে পরিকল্পিত বায়ুবিদ্যুতের মাত্র এক-চতুর্থাংশ উৎপাদন করা সম্ভব হয়েছে। 

তাইওয়ানের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে। ছবি: রয়টার্স  এদিকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির জন্য নির্মাণাধীন টার্মিনালগুলোর কাজ শেষ হতে নির্দিষ্ট সময়ের চেয়ে দেরি হচ্ছে। তাইওয়ানের মোট জ্বালানির অর্ধেক এলএনজি থেকে সংগ্রহ করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তা ছাড়া এলএনজিসহ তাইওয়ানের মোট জ্বালানির প্রায় ৯৭ শতাংশ আমদানিনির্ভর। এলএনজিসহ দ্বীপটির অন্য জ্বালানির এতটা আমদানি নির্ভরতা নানা উদ্বেগ তৈরি করছে। এ উদ্বেগের প্রধান কারণ, তাইওয়ানকে ঘিরে ২০২২ সালে চীনের বড় ধরনের সামরিক মহড়া। 

এ পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, তাইওয়ানের বন্ধ করে দেওয়া পুরোনো পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পুনরায় চালু করা উচিত। কাজ প্রায় শেষ করে ২০১৪ সালে বন্ধ করে দেওয়া চতুর্থ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটিও চালু করা উচিত। এর পেছনে বিশেষজ্ঞদের যুক্তি, বিদ্যুৎ উৎপাদনের অন্য জ্বালানিগুলোর তুলনায় অল্প পরিমাণ ইউরেনিয়াম দীর্ঘ সময় ব্যবহার করা যায়।  

এদিকে গত সাত বছরে তাইওয়ানে তিনটি বড় ধরনের বিদ্যুৎ বিপর্যয় ঘটেছে। একই সময়ে ছোট-খাট আরও অনেক বিপর্যয়ও ঘটেছে। ২০২২ সালের এক বিপর্যয়ে ৫০ লাখের বেশি ঘর-বাড়ি বিদ্যুতহীন হয়ে পড়েছিল। এ বিপর্যয়ের কারণে সেমিকন্ডাক্টর, পেট্রোকেমিক্যাল ও ইস্পাত শিল্পের প্রায় এক কোটি ৬০ লাখ ডলার ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। তাইওয়ানের ন্যাশনাল সিং হুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পারমাণবিক বিদ্যুৎ বিশেষজ্ঞ ইয়েহ সাং-কুয়াং বলেন, ‌‌বিদ্যুৎ সরবরাহ দিনে দিনে অস্থিতিশীল হচ্ছে।

কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করেন, তাইওয়ানের বড় বড় কোম্পানিগুলোর বছরে যে পরিমাণ বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে, সরকারে তা সরবরাহ করার কোনো পরিকল্পনা নেই। নিউইয়র্কভিত্তক থিঙ্ক-ট্যাঙ্ক ম্যানহাটন ইনস্টিটিউটের গবেষক জর্ডান ম্যাকগিলিস বলেন, সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে বিপুল বিদ্যুৎ দরকার হয়। তাইওয়ানের মোট বিদ্যুতের প্রায় ৩৭ শতাংশ শুধু বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম তৈরির কাজে ব্যবহৃত হয়।

বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের জন্য তাইওয়ানের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অপারেটর ও অতিকেন্দ্রীভূত গ্রিড ব্যবস্থাকে দায়ী করছেন। দ্বীপটির সিংহভাগ বিদ্যুৎ উৎপাদন হয় দক্ষিণে, কিন্তু অধিকংশ বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয় উত্তরে। 

ক্ষমতাগ্রহণ করতে যাওয়া নতুন প্রেসিডেন্ট লাই এ সমস্যার সমাধান করার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি দেশটির বিদ্যুৎতের ব্যবহারকে আরও সুচারু করার কথা বলছেন। এমনকি দরকার হলে একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুরও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
 
গত কয়েক বছরে কয়েকবার বড় ধরনের বিদ্যুৎ বিপর্যের মুখে পড়ে তাইওয়ান। ছবি: রয়টার্স  বিশেষজ্ঞদের ধারণা, পুরোনো পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো চালু করতে চাইলেও অন্তত তিন বছর লেগে যাবে। এ অবস্থায় বিশ্বের চিপের সূতিকাগার খ্যাত তাইওয়ান কীভাবে জ্বালানি ও বিদ্যুতের চাহিদা মেটাবে তা দেখার বিষয়।

এদিকে চীনে সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনের জেরে দেশটিতে কার্যক্রম সীমিত করছে তাইওয়ানের সেমিকন্ডাক্টর কোম্পানিগুলো। চীন ছেড়ে এসব কোম্পানি জাপানে তাদের কার্যক্রম বাড়াচ্ছে। গত দুই বছরে তাইওয়ানের অন্তত ৯টি চিপ কোম্পানি জাপানে কার্যক্রম শুরু করেছে বা ব্যবসা সম্প্রসারণ করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, তাইওয়ানের সেমিকন্ডাক্টর কোম্পানিগুলোর জাপানে কার্যক্রম বাড়ানোর পেছনে ভূরাজনৈতিক কারণ রয়েছে। সেমিকন্ডাক্টর খাতে চীনের অগ্রগতি সীমিত করতে চায় আমেরিকা। এ জন্য মিত্র দেশগুলোর মধ্যে অংশীদারত্ব বাড়াতে এবং চীনের সঙ্গে সম্পর্ক হ্রাস করতে ওয়াশিংটন তাইওয়ানকে চাপ দিচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। 

তথ্যসূত্র: দ্য ইকোনমিস্ট, রয়টার্স, ফিন্যান্সিয়াল টাইমস

নেপাল থেকে ৫ বছরের জন্য ৪০ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ আমদানি করবে সরকার। এতে প্রতি ইউনিটের দাম পড়বে ৮ টাকা ১৭ পয়সা। বুধবার ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ প্রস্তাব অনুমোদন হয়। ভারতের গ্রিড ব্যবহার...
প্রণোদনা ও ভর্তুকি খাতে আসন্ন বাজেটে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ বাড়াচ্ছে সরকার। রাখা হচ্ছে ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকার বেশি। পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শহীদুজ্জামান সরকার বলছেন, অর্থনীতি গতিশীল...
জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় ক্ষোভ জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ। তারা বলছেন, এর প্রভাবে নিত্যপণ্যের দাম আরও বাড়বে। এ ছাড়া শুধু পরিবহন নয়, অন্যান্য সব খাতেই পড়বে এর প্রভাব। মূল্যস্ফীতি এড়াতে জ্বালানি খাতে কর...
দেশের বাজারে আবারও বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম। বিশ্ববাজারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে বৃহস্পতিবার জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করে প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। এতে দেখা যায়,...
আট মাসের বেশি সময় ধরে ফিলিস্তিনের গাজায় টানা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। অভিযানে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানির পাশাপাশি দেখা দিয়েছে তীব্র মানবিক সংকট। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, গাজার...
লোডিং...
পঠিতনির্বাচিত

এলাকার খবর

 
By clicking ”Accept”, you agree to the storing of cookies on your device to enhance site navigation, analyze site usage, and improve marketing.