ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে বহুল প্রতীক্ষিত শান্তিচুক্তি নিয়ে জোর আলোচনা চলছে। এরই মধ্যে চুক্তির একটি খসড়া সম্পর্কে জানা গেছে। ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাতে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স রোববার এই চুক্তির খসড়া নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
শান্তিচুক্তির খসড়ায় যা যা আছে
ইরানের ওই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা স্মারকের চূড়ান্ত খসড়ায় তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি থেকে শুরু করে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং ইরানের তেলের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞায় ছাড় দেওয়ার মতো বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। উভয় পক্ষের মধ্যে এ বিষয়ে সমঝোতা হওয়ার পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তি নিয়ে আলোচনা হবে।
হরমুজ প্রণালি: শান্তিচুক্তির খসড়া সবচেয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে হরমুজ প্রণালির ওপর। ইরান অবিলম্বে সব বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেবে, আর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ তুলে নেবে।
আর্থিক বিষয়: চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে না বলেও উল্লেখ রয়েছে চুক্তিতে। নির্দিষ্ট সময়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেলের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞায় ছাড় দেবে, যাতে তেহরান তেল বিক্রি করতে এবং এ থেকে উপার্জিত অর্থ নিতে পারে।
ইরানের জব্দ থাকা ২৫ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ অবমুক্ত করতেও যুক্তরাষ্ট্র সম্মত হবে। এর মধ্যে সরাসরি নগদ অর্থ স্থানান্তর, আঞ্চলিক দেশগুলোর সহযোগিতা এবং আর্থিক ঋণসুবিধার ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
পারমাণবিক কর্মসূচি: তেহরান সম্মত হবে যে তারা পারমাণবিক অস্ত্র উৎপাদন বা সমৃদ্ধকরণ কোনোটিই করবে না। চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত তেহরান পারমাণবিক কর্মসূচির বর্তমান অবস্থা বজায় রাখবে। এর মধ্যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ না করা এবং পারমাণবিক স্থাপনা সম্প্রসারণ না করার বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
তেহরান নিজেদের ভূখণ্ডের মধ্যেই উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত তরলীকরণ (ডাইলিউট) করবে বলেও যুক্তরাষ্ট্রকে সম্মত হতে হবে। এ প্রক্রিয়ার কার্যপদ্ধতি নিয়ে ৬০ দিনের মধ্যে আলোচনা হবে।



