ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে পুশ-ইন ঘিরে ক্রমশ বাড়ছে উত্তেজনা। নয়াদিল্লিতে বিজিবি–বিএসএফ ডিজি পর্যায়ের সম্মেলন শেষ হতে না হতেই শুক্রবার মৌলভীবাজার সীমান্তে বিএসএফ এর গুলিতে নিহত হয় এক বাংলাদেশি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সীমান্তে হত্যা ও পুশ ইন শুধু ভারতীয় আইন নয় আন্তর্জাতিক আইনেরও পরিপন্থী। সমস্যার সমাধানে বিজিবি-বিএসএফ বৈঠকই নয়, রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করার পরামর্শ তাদের।
ভারতের নয়াদিল্লিতে ৮ থেকে ১১ জুন বিজিবি-বিএসএফের মহাপরিচালক পর্যায়ের সম্মেলন হয়। পরে দই দেশের যৌথ বিবৃতিতে স্থান পায় সীমান্ত হত্যা, নিরাপত্তা, সহিংসতা প্রতিরোধ, পুশ-ইন ও মাদক-চোরাচালানসহ নানা বিষয়।
সম্মেলন শেষের একদিন পরেই বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মৌলভীবাজারের কুলাউড়া সীমান্তে বিএসএফ এর গুলিতে মারা যান মুজিব আলী নামের ২০ বছরের এক বাংলাদেশি। রোববার ভোরে চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে বিএসএফের ১৪ জনকে পুশইনের চেষ্টা আটকে দেয় বিজিবি।
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি রাজ্য সরকার গঠন করার পর সীমান্তে উত্তেজনা বাড়ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। পুশ–ইন ও সীমান্ত হত্যা শুধু ভারতীয় নয় আন্তর্জাতিক আইনেরও পরিপন্থী বলে মনে করছেন তারা।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, একটা জিনিস পরিষ্কার,পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর পুশ–ইন বেড়েছে। পুশ–ইন, হত্যা– এসব আইনের বিরুদ্ধে। এটা শুধু আন্তর্জাতিক আইনের বিরুদ্ধে না, ভারতের আইনেরও বিরুদ্ধে।
দুই দেশের সীমান্ত সঙ্কট সমাধানে রাজনৈতিক পদক্ষেপের পাশাপাশি জনসচেতনতায় গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক এয়ার কমডোর (অব.) ইশফাক ইলাহী চৌধুরী বলেন, আমাদের জনগণকে সতর্ক হতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক হতে হবে। আমাদের সীমান্তে যে সমস্যা এটা বিজিবি–বিএসএফ পর্যায়ে নয়।
তিনি বলেন, কনফারেন্স তো ছয় মাস পর পর হয়েই আসছে। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সমাধান করতে হবে। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় আসার জন্য একটা কার্ড ব্যবহার করেছে, এখন তারা প্রমাণ করতে চাইছে যে ওই মানুষগুলো ভারতে অনুপ্রবেশকারী।
সঙ্কট সমাধানে শুধু সরকারের ওপর নির্ভর না করে সব শ্রেণি–পেশার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দুই দেশের সম্পর্ক উন্নতি হতে পারে বলেও মন্তব্য তাদের।



