আগামী রোববার থেকে সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শুরু হচ্ছে কার্গো ফ্লাইট। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও যুক্তরাজ্যে পণ্য রপ্তানি করা হবে এ টার্মিনাল থেকে। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, প্যাকেজিং হাউস ও সার্টিফিকেশন ল্যাব না থাকায় খাদ্য ও কৃষি পণ্য রপ্তানি এখনো বেশ চ্যালেঞ্জিং।
২০২২ সালে সিলেট বিমানবন্দরে নির্মাণ করা হয় অত্যাধুনিক কার্গো টার্মিনাল। কিন্তু যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের অনুমোদিত প্যাকেজিং ব্যবস্থা না থাকায় এর কার্যক্রম শুরু করা যায়নি। অবশেষে আগামী রোববার চালু হচ্ছে এ টার্মিনাল। ফলে সিলেট অঞ্চলের কৃষিজ ও হিমায়িত খাদ্যপণ্য, ফুল, হস্তশিল্প, চামড়াজাতসহ বিভিন্ন পণ্য এখন আন্তর্জাতিক বাজারে সরাসরি পৌঁছাতে পারবে। এতে খুশি স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
এ নিয়ে সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মজিবুর রহমান বলেন, ‘আমরা আসলে খুবই আনন্দিত। এবং সিলেট চেম্বারের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল এটা। আমরা অতীতে এটা নিয়ে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করেছি এবং চেষ্টা করেছি সিলেট থেকে একটা কার্গো বিমান চালু করার জন্য।’
প্রথম ধাপে স্পেনে ৬০ মেট্রিক টন গার্মেন্টস পণ্য রপ্তানির মাধ্যমে কার্গো টার্মিনালের যাত্রা শুরু হবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন এ টার্মিনাল রপ্তানি কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশে পণ্য রপ্তানিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে। কাস্টমস ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়াডিং এজেন্ট সুব্রত ধর চৌধুরী পার্থ বলেন, ‘শুধু স্পেন তো নয়, আরও কয়েকটি দেশে পাঠানো যাবে। যেমন এখান থেকে পণ্য পাঠানো যেতে পারে নেদারল্যান্ডস, জার্মানি।’
টার্মিনালের প্যাকেজিং হাউস ও সার্টিফিকেশন ল্যাব দ্রুত চালুর দাবি ব্যবসায়ীদের। সিলেট মেট্রোপলিটন চেম্বারের জ্যেষ্ঠ সহ সভাপতি আব্দুল জব্বার জলিল বলেন, ‘স্থানীয় কোনো ল্যাব নেই। এ ছাড়া নেই কোনো প্যাকেজিং সিস্টেম। আমার মনে হচ্ছে, সরকার এই উদ্যোগ গ্রহণ করতেছে। এটাকে আমি স্বাগত জানাই। সাথে সাথে সিলেটে একটা প্যাকেজিং সিস্টেম এবং ল্যাবের ব্যবস্থা গ্রহণ করা খুবই জরুরী।’
ওসমানী বিমানবন্দরে এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক মানের কার্গো ওয়্যারহাউজ নির্মাণ করা হয়েছে। দক্ষ জনবল নিয়োগের পাশাপাশি বসানো হয়েছে অত্যাধুনিক নিরাপত্তা যন্ত্রপাতি।



