দেশে আলুর দাম পড়ে যাওয়ায় বিপাকে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। উৎপাদন খরচের অর্ধেকও মিলছে না দাম। লাভের আশায় এ বছর অতিরিক্ত চাষের কারণেই এবার বাজার নিম্নমুখী। পাশাপাশি মৌসুমের শেষ দিকে এসেও বিপাকে মজুতদাররা। হাজার হাজার টন আলু হিমাগারে পড়ে থাকায় বিপাকে হিমাগার মালিকেরাও।
দেশে আলু উৎপাদনে এগিয়ে থাকা জেলাগুলোর একটি রংপুর। এবার জেলায় নতুন রেকর্ড হলেও চাষিদের মুখে নেই হাসি। উৎপাদন খরচ বাড়লেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত দাম।
২০২৪–২৫ অর্থবছরে প্রায় ৫৪ হাজার হেক্টর জমিতে আলু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও আবাদ হয়েছে ৬৬ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে। উৎপাদন ছাড়াতে পারে ১৮ লাখ মেট্রিক টনের বেশি; যা আগের বছর ছিল ১৫ লাখ ৪২ হাজার মেট্রিক টন।
কৃষক ও ব্যবসায়ীরা জানান, নীলফামারী ও মুন্সীগঞ্জে মৌসুমজুড়ে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হয়েছে ১২ থেকে ১৫ টাকা দরে। অথচ উৎপাদন ও সংরক্ষণ মিলে প্রতি কেজিতে খরচ গুনতে হচ্ছে ২৫ টাকা পর্যন্ত। এতে লাভের বদলে উল্টো লোকসান গুনতে হচ্ছে।
নীলফামারীর একজন কৃষক বলেন, ‘এখন তো আলুর দাম একেবারেই নাই। বীজ আছে, জমি আছে—জমি তো আর ফেলে রাখা যাবে না। সেজন্যই আবাদ করেছি। এখন আল্লাহ যদি চান, যদি দাম হয় তাহলে আগামীতে আবার করব। না হলে আলু বিদায়।’
এদিকে ঠাকুরগাঁও–রাজশাহীতে আলুর ক্ষেতে পরিচর্যার কাজে ব্যস্ত কৃষক–শ্রমিক। আগামী ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যেই বাজারে আসবে নতুন আলু। সেক্ষেত্রে কিছুটা বাড়তে পারে এই জাতের আলুর দাম।
ঠাকুরগাঁওয়ের একজন কৃষক বলেন, ‘আলু আবাদ করলে পুঁজি পাওয়া যায় না। এ কারণে অনেকেই আর আলু চাষ করবে না।’
জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মাজেদুল ইসলাম বলেন, ‘আলুর আবাদ কিছুটা কমবে। তবে খুব বেশি কমবে বলে মনে হয় না। যিনি আলু রেখেছেন, তিনি যখন এটা বিক্রি করতে পারবেন না, তখন তিনি নিজের জমিতেই আবার রোপণ করবেন।’
আলু চাষে আগ্রহ ধরে রাখতে এবং লোকসান থেকে বাঁচাতে সরকারি সহায়তা ও রপ্তানির ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে কৃষকরা।



