দেশে বর্তমানে বিক্রির অপেক্ষায় রয়েছে প্রায় ৬০ লাখ অবৈধ মোবাইল ফোন। আর ১০ লাখের বেশি আইএমইআই ক্লোন করা স্মার্টফোন ব্যবহৃত হচ্ছে। নাগরিক নিরাপত্তা সংরক্ষণ, সাইবার অপরাধ প্রতিরোধ ও রাজস্ব ফাঁকি নিয়ন্ত্রণে অবৈধ হ্যান্ডসেট ব্যবহার ও বিক্রি বন্ধের বিকল্প দেখছে না বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।
১৬ ডিসেম্বরের পর দেশে আর কোনো অবৈধ মোবাইল ফোন চলবে না বলে ঘোষণা দিয়েছে বিটিআরসি। এ সময়ের আগে কেনা সব ধরনের মোবাইল ফোন নিবন্ধন করে দেওয়া হবে এনইআইআর বা ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টারে। যেগুলো বর্তমানে সক্রিয় সেগুলোর সবগুলোই বৈধতা পাবে বলে আশা করছেন কর্মকর্তারা।
বিটিআরসি স্পেকট্রাম বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আমিনুল হক বলেন, ‘মোবাইল হ্যান্ডসেট ব্যবহার করে অনেক ধরনের ক্রাইম হচ্ছে। বিশেষ করে বাংলাদেশে মোবাইল ফাইনানসিয়াল সাভিস যেটা আছে, এই রিলেটেড অনেক ক্রাইম বাংলাদেশে হচ্ছে। আপনারা অত্যন্ত দুঃখ পাবেন জেনে যে, সাধারণ মানুষ এবং নিম্ন শ্রেণির মানুষ যারা তারা কিন্তু এই মোবাইল ফোনের ব্যবহারের মাধ্যমে ক্রইমের শিকার হচ্ছে।’
দেশে বর্তমানে ব্যবহৃত ১০ লাখের বেশি অবৈধ ফোনসেটের কারণে বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি দেখছে পুলিশ। সাইবার অপরাধ, অর্থ লেনদেনে জালিয়াতির পাশাপাশি হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য।
সিআইডি হেডকোয়ার্টার্সের বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান বলেন, ‘ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট কখনও হারিয়ে যায় না। সেটার একটা লজিক থাকে, সেই লজিক ফলো করে আমরা আল্টিমেটলি ওই লোকটাকে আমরা ধরতে পারি। কিন্তু আমার বৃহৎ সমাজ ব্যবস্থায় যদি এটাকে যদি আমরা গ্রহণ করি তাহলে আমি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একজন কর্মকর্তা হিসেবে অল্প সংখ্যক লোকবল দিয়ে এই পুরোটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারব না। আমাদের রেগুলেটরি বডি দরকার।’
বাজারে বৈধ ফোনসেটের দাম যাতে না বাড়ে- সে জন্য স্থানীয় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মডেল অনুযায়ী দামের তথ্য সংগ্রহ করছে বিটিআরসি। এছাড়া অপারেটরদের কিস্তিতে বিক্রি করা ফোনে আগামী জানুয়ারি থেকে চালু হবে ‘ক্যারিয়ার লক’ সুবিধা। এক অপারেটর থেকে ফোনসেট কিনলে ব্যবহার করা যাবে না অন্য অপারেটরের সিম।
বিটিআরসি স্পেকট্রাম বিভাগের কমিশনার মাহমুদ হোসেন বলেন, ডিভাইস লকিং বা যেটাকে বলে ক্যারিয়ার লকিং এটি আগামী ১ জানুয়ারি থেকে চালু হবে।
দেশে বিক্রির অপেক্ষায় থাকা প্রায় ৬০ লাখ অবৈধ সেটের বিষয়েও চিন্তাভাবনা করছে বিটিআরসি। বিশেষজ্ঞদের মতে, অবৈধ ফোন ব্যবহার বন্ধ হলে–সাইবার অপরাধ কমবে। লাভবান হবেন বৈধ ব্যবসায়ীরা, রাজস্ব হারাবে না সরকার।



