আইনি জটিলতা ও প্রশাসন ক্যাডারের বিরোধিতায় ঝুলে আছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) দুই ভাগে বিভক্ত করার কার্যক্রম। সংস্কারের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আদালতে রিট হওয়ায় পুরো প্রক্রিয়া এখনো এগোতে পারেনি। বিশ্লেষকরা বলছেন, আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করতে সরকারকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
গত বছর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ভেঙে 'রাজস্ব নীতি' ও 'রাজস্ব ব্যবস্থাপনা' নামে দুটি স্বতন্ত্র বিভাগে বিভক্ত করা হয়। তবে বিভক্তির প্রক্রিয়াটি কাগজে-কলমে থাকলেও মাঠপর্যায়ে বা প্রশাসনিকভাবে পূর্ণ বাস্তবায়ন এখনো হয়নি।
আলাদা করার সিদ্ধান্তের পর নজিরবিহীন আন্দোলন শুরু করেন এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। দুই বিভাগের সচিব নিয়োগে কর ও শুল্ক ক্যাডারের কর্মকর্তাদের প্রাধান্য দেওয়ার দাবিও তোলেন তাঁরা। এরপর আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনের পর অন্তর্বর্তী সরকার দুই বিভাগের দায়িত্ব ও জনকাঠামো চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়। পরে প্রশাসন ক্যাডারের বিরোধিতায় তা আবার আটকে যায়, যা গড়ায় আদালত পর্যন্ত।
অন্তর্বর্তী সরকার এর রূপরেখা প্রায় চূড়ান্ত করলেও বর্তমান সরকারকে এটি বাস্তবায়নে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশ্লেষকরা।
এনবিআরের সাবেক সদস্য আমিনুর রহমান বলেন, ‘বিভিন্ন সময় প্রায় ১৭৬টি অধ্যাদেশ হয়েছে। সেগুলোর কোনগুলো নতুন সরকার করবে, তা এবারের বাজেট অধিবেশনের তালিকায় আছে। যদি স্থগিত না হয়ে থাকে, তবে এটি বাস্তবায়নে কোনো বাধা নেই। আর স্থগিতাদেশ থাকলে আদালতের রায়ের অপেক্ষা করতে হবে।’
রাজস্ব আয় ও স্বচ্ছতা বাড়াতে প্রশাসন ক্যাডারের বাধা উপেক্ষা করে নতুন সরকারকে দুই ভাগের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করার তাগিদ দিয়েছেন বিশ্লেষকরা।
আইসিএবির সভাপতি এন কে এ মবিন বলেন, ‘এটি জনগণের ম্যান্ডেটের সরকার। আশা করি, তারা বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবেই দেখবে এবং বাস্তবায়নের চেষ্টা করবে। কিছু সমঝোতা করে হলেও এটি যেন শেষ পর্যন্ত ভেস্তে না যায়। এর পেছনে প্রচুর কাজ হয়েছে। এটি যেন বাস্তবায়িত হয়।’
এদিকে সংস্কার আন্দোলনের ঘটনায় এনবিআরের যেসব কর্মীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল, তাঁদের প্রায় সবাইকে চাকরিতে পুনর্বহাল করা হচ্ছে।



