মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি ও ঝুঁকিতে থাকা ইউরোপের অর্থনীতির কারণে নতুন শ্রমবাজার খুঁজছে বাংলাদেশ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ক্ষেত্রে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া মূল লক্ষ্য হতে পারে। এসব দেশের চাহিদা বুঝে সরকারকে দক্ষ জনশক্তি তৈরির পরামর্শ দিচ্ছেন তারা। সমঝোতা স্মারক নয়, চুক্তি করার তাগিদ বিশ্লেষকদের। সমন্বিতভাবে কাজে লাগাতে হবে প্রবাসী খাত সংশ্লিষ্টদের।
জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য বলছে, মার্চের প্রথম ১০ দিনে বিদেশে যেতে ছাড়পত্র নেওয়া কর্মীর সংখ্যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ কমেছে। মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর হওয়ায় ঝুঁকিতে বাংলাদেশের শ্রমবাজার।
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত দীর্ঘ হলে অনিশ্চয়তায় পড়বেন ৪৫ থেকে ৫০ লাখ বাংলাদেশি। এরইমধ্যে কয়েকজন প্রবাসী মারা গেছেন। এ অবস্থায় বাড়ছে সমুদ্রপথে ঝুঁকিপূর্ণ ইউরোপ যাত্রা। মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ইউরোপ, জাপান বা দক্ষিণ কোরিয়ায় দক্ষ শ্রমিকের চাহিদা থাকলেও তা কাজে লাগানো যায়নি।
এ অবস্থায় ইউরোপ, আফ্রিকাসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে নতুন শ্রমবাজার খুঁজছে সরকার। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তাড়াহুড়ো করলে আবারও মুখ থুবড়ে পড়বে পরিকল্পনা। প্রথম মনোযোগ দিতে হবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীর বলেন, ‘সাউথ-সাউথ মাইগ্রেশন। অর্থাৎ দক্ষিণ গোলার্ধের দেশ হয়তো উন্নত নয় মধ্যম আয়ের দেশ। এরকম দেশগুলোতে যদি মাইগ্রেশন প্রমোট করা যায় এবং তা ধরে রাখতে হয় তাহলে সেটির জন্য আমাদের মানুষগুলোকে আগে প্রস্তুত করতে হবে।’
অভিবাসন বিশেষজ্ঞ ড. মোহাম্মদ রাশেদ আলম ভূঁইয়া জানান, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া দক্ষ শ্রমশক্তি পাঠাতে হবে।
শ্রমবাজার সম্প্রসারণে প্রবাসী ও খাত সংশ্লিষ্টদের কাজে লাগানোর পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা।
দক্ষ জনশক্তি তৈরি না করে ইউরোপে মৌসুমি ভিসার সুযোগ-বাজার নষ্ট করছে। তাই স্বল্পমেয়াদি সমঝোতায় না যাওয়ার আহ্বান বিশেষজ্ঞদের।
আসিফ মুনীর আরও বলেন, ‘ব্যাকএন্ডে রিসার্চ করে জানতে হবে আমার কী প্রস্তুতি আছে। সে অনুযায়ী এখানে ব্যবসায়ী মহল বা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যারা কাজ করছে তাদেরকে আধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরির দিকে খেয়াল রাখতে হবে। যেহেতু সামনে এআই যুগ আসছে।’
ড. মোহাম্মদ রাশেদ আলম ভূঁইয়া আরও বলেন, ‘ফরেন পলিসি ও উইংগুলো যে রয়েছে তারা খুঁজে বের করবে কোন দেশগুলোতে সুযোগ রয়েছে। যেমন জাপানে সামনে একটি সুযোগ রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।’



