দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম চামড়া বাজার নাটোরে এখন লবণসহ কাঁচা চামড়ার ভরপুর আমদানি। গুণগত মান ভালো হওয়ায় কেনা-বেচা সন্তোষজনক হলেও, আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ও পরিবহন খরচ বৃদ্ধিতে কোরবানির ঈদের আগে বড় লোকসানের আশঙ্কা করছেন আড়তদারেরা।
নাটোরের চকবৈদ্যনাথ এলাকায় দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম চামড়া বাজার। সেখানকার ব্যবসায়ীদের এখন দম ফেলার অবসর নেই। ঈদুল ফিতরের পর আড়তে এসেছে বিপুল লবণ দেওয়া চামড়া। ব্যবসায়ীরা বলছেন, কোরবানির ঈদের চেয়েও এই সময় চামড়ার গুণগত মান অনেক বেশি।
সাধারণ ব্যবসায়ীরা বলছেন, ১০০০ থেকে ১৫০০ টাকার মধ্যে দামাদামি করে পণ্য কেনা-বেচা হয়। সার্বিকভাবে চামড়ার বাজারের অবস্থা বেশ ভালো।
তবে কেনা-বেচা ভালো হলেও আড়তদারদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ আর আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে অস্থিরতার প্রভাব নাটোরেও। ঢাকাগামী ট্রাকের ভাড়া এক লাফেই ১৫ হাজার থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ থেকে ২২ হাজার টাকায়। ফলে প্রতি পিস চামড়ায় খরচ বাড়ছে অন্তত ৫০ টাকা।
জ্বালানি সংকটের কারণে অনেক বড় কোম্পানি এখনও চামড়া সংগ্রহে নামেনি। আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা কমা এবং প্রক্রিয়াজাত করার প্রয়োজনীয় কেমিক্যালের অভাবে বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা।
নাটোর চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হালিম বলেন, চামড়া প্রসেসিংয়ের জন্য যে কেমিকেলগুলো প্রয়োজন সেগুলো সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত আমদানির ব্যবস্থা করলে ভালো। কারণ সামনে ঈদুল আযহা আসছে, এগুলো প্রসেসিংয়ে প্রচুর কেমিকেল প্রয়োজন।
নাটোর চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সাইদার খান জানান, দুই ঈদের পর যেসব বড় প্রতিষ্ঠান চামড়া কিনতে আসে তারা এবার তেলের অভাবে গাড়ি নিয়ে আসতে পারেনি। যার জন্য ছোট প্রতিষ্ঠানগুলো এসে চামড়া কিনে নিয়ে গেছে। এখনও নাটোরে অনেক চামড়া পড়ে আছে।
এবার ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে নাটোরে প্রায় ৭০ হাজার গরুর চামড়া এবং ৪৫ হাজার ছাগলের চামড়া আমদানি হয়েছে। পরিবহন ও বৈশ্বিক সংকট সমাধান না হলে কোরবানির ঈদে বড় ধরনের বিপর্যয়ের শঙ্কায় রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।



