বাণিজ্যিকভাবে নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিদ্যুৎ শিল্পগ্রাহকদের কাছে পৌঁছাতে ১০ বছর পর্যন্ত সঞ্চালন খরচে বিশেষ সুবিধা চান উদ্যোক্তা ও ব্যবহারকারীরা। যদিও উচ্চমূল্যের গ্রাহক কমে গেলে আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছে বিতরণ সংস্থাগুলো।
তবে সৌরবিদ্যুতে শুল্ক আরো কমানোর সুযোগ দেখছে কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ- ক্যাব। আর এখাতে ঘুষ-দুর্নীতি বন্ধ করতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিইআরসি'র অগ্রণী ভূমিকা রাখারও তাগিদ দিয়েছে সংগঠনটি। আজ রোববার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে এসব দাবি-দাওয়া ও চাহিদার কথা উঠে আসে।
রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্পে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ ব্যাবহার করতে চাপ বাড়াচ্ছে ক্রেতারা। ২০৩০ সালের মধ্যে এমন জ্বালানির ব্যবহার নিশ্চিত করতে না পারলে ইউররোপসহ বিভিন্ন বাজারে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়তে পারে বাংলাদেশ। এজন্য বেসরকারি উদ্যোগে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিপণনের সুযোগ দিয়ে মার্চেন্ট পাওয়ার পলিসি করেছে সরকার।
নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনস্থল থেকে শিল্পগ্রাহক পর্যায়ে পৌছাতে জাতীয় গ্রিড ও বিতরণ লাইন ব্যবহার করা হবে। এজন্য বিইআরসি'র গণশুনানিতে ভোল্টেজভেদে প্রতি ইউনিট ১ টাকা ৬৭ পয়সা থেকে ৩ টাকা ৪২ পয়সা পর্যন্ত মাশুল চায় বিতরণ সংস্থাগুলো। তাদের মতে, ক্রস-সাবসিডি বন্ধ হয়ে গেলে তারা খরচের পুরোটাও তুলে আনতে পারবে না। পাশাপাশি, যে সকল বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো লেট-মিটারিং ব্যবহার করছে তাদের ক্ষেত্রে ব্যাপকহারে ট্যারিফ কমে যাচ্ছে বলেও জানিয়েছে বিতরণ সংস্থার কর্মকর্তারা।
তবে সরকারি গ্রিড ও বিতরণ লাইন ব্যবহারের জন্য বিশেষ সুবিধা চান শিল্পমালিকরা। উৎপাদনকারীদের দাবি, প্রতি ইউনিট নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ প্রায় ৪ টাকার জ্বালানি সাশ্রয় করবে। তৈরি পোশাক খাতে ১০ বছর কোনো ধরণের সারচার্জ আরোপ না করার দাবি জানিয়েছেন গার্মেন্টস শিল্পমালিকরা।
শুনানীতে বিইআরসি'র কারিগরি কমিটি সঞ্চালন মাশুল প্রতি ইউনিটে ১ টাকা ৬০ পয়সা পর্যন্ত প্রস্তাব করে। তবে ২০ শতাংশ পর্যন্ত পিডিবি'র কাছে এ বিদ্যুৎ বিক্রিতে বেঞ্চমার্ক ট্যারিফ সুপারিশ করে ৬ টাকা ৪৮ পয়সা।
ক্যাব-এর জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম শামসুল আলম বলেন, 'ভারতের থেকে কম সক্ষম না। ওরা যে দামে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে, আমরাও পারি। এ রকম কথাও আপনাদের কেউ কেউ আমাকে বলেছে যে, যদি আমাদের ঘুষ দিতে না হয়।' লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে বিইআরসি-কে ওয়ান-স্টপ সেবা দেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য, আগামী ২৭ আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন পক্ষের কথা বলার সুযোগ রেখেছে বিইআরসি। তারপর সার্বিক পর্যালোচনা শেষে মতামত দেবে সংস্থাটি।



