তিন মাস পর পর ভ্যাট রিটার্ন ও অর্থ পরিশোধের নতুন ব্যবস্থা চালুর পর প্রথম দুই মাসেই আদায় কমেছে প্রায় ২২ শতাংশ। এ অবস্থায় আবারও মাসিক ভিত্তিতে ভ্যাট পরিশোধের নিয়ম ফিরিয়ে আনার কথা ভাবছে এনবিআর। ব্যবসায়ীরা বলছেন, নিয়ম পরিবর্তন হলেও, আগের মাসিক ভিত্তিতে ভ্যাট দিচ্ছেন তারা। বিশ্লেষকদের মতে, শুধু নিয়ম বদলানোর কারণেই ভ্যাট আদায় কমেনি, এর জন্য সার্বিক অর্থনীতির নেতিবাচক ধারাই দায়ী।
উল্লেখ্য, ব্যবসায়ীদের হয়রানি কমাতে চলতি অর্থবছরের বাজেটে ভ্যাট রিটার্ন ও অর্থ পরিশোধে আনা হয় বড় পরিবর্তন। আগের মতো প্রতি মাসের পরিবর্তে, তিন মাস পর পর রিটার্ন জমা ও ভ্যাট পরিশোধের সুযোগ দেওয়া হয় এবারের বাজেটে।
কিন্তু নতুন ব্যবস্থা চালুর পর প্রথম দুই মাসেই ভ্যাট আদায়ে দেখা দিয়েছে বড় পতন। এনবিআরের হিসাব বলছে, নতুন অর্থবছরের জুলাইয়ে ভ্যাট আদায় হয়েছে ৯ হাজার ৩০১ কোটি টাকা। আগের বছরের একই সময়ে হয়েছিল ১১ হাজার ৫৪৭ কোটি টাকা। আর আগস্টে আদায় ৮ হাজার ৩৬২ কোটি টাকা। গত বছরের আগস্টে যার পরিমাণ ছিল ১১ হাজার ৮১ কোটি টাকা।
ভ্যাট কনসালটেন্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি হাসানুল ইসলাম টিপু বলেন, 'মাসভিত্তিক যখন এই টাকাটা নেওয়া হতো, সেটা অত্যন্ত যৌক্তিক একটা ধারাবাহিকতা ছিল। এর ফলে কিন্তু আমাদের রাজস্ব আদায়টা একটা স্বাভাবিক গতি পেয়েছিল...বেশ কিছু উপাদান আছে, যে উপাদানগুলো আপনার ভ্যাট কালেকশন কম হওয়ার জন্য দায়ী। শুধু যে আপনার তিন মাস করার জন্যেই এটা হয়েছে (ভ্যাট আদায় কমে গিয়েছে) এটা না।'
তবে রাজস্ব আদায় ধরে রাখতে আবারো মাসিক ভিত্তিতে ভ্যাট পরিশোধের ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার চিন্তা করছে এনবিআর। এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠিও পাঠানো হয়েছে। এতে বলা হয়, ভ্যাট রিটার্ন তিন মাস পর পর জমা এবং ভ্যাটের অর্থ পরিশোধ করতে হবে প্রতি মাসে।
নতুন ত্রৈমাসিক ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ব্যবসায়ীরা। তিন মাস পর পর ভ্যাট দেওয়ার সুযোগ চালু হলেও, অনেক প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতি মাসেই আদায় করছে এনবিআর।
সভাপতি, বাজুস-এর সভাপতি এনামুল হক খান বলেন, 'অলিখিত একটা নির্দেশনা আছে এবং সেই নির্দেশনা মোতাবেক, বাজুস এবং আমার সম্পূর্ণ সংগঠন, বাংলাদেশের ৪০ হাজার জুয়েলারি দোকান- আমরা কিন্তু প্রতি মাসের ভ্যাট এখন পর্যন্ত আমরা মাসে মাসে দিয়ে যাচ্ছি। আপনার টাকা আপনাকে আমি ফেরত দিয়ে দিব, এটাই আমার দায়িত্ব হওয়া উচিৎ।'
দেশে বর্তমানে বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন নম্বরধারী (বিআইএন) ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা প্রায় ৮ লাখ।



