তীব্র গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে বড় ধরনের চাপে পড়েছে টেক্সটাইল শিল্প। গত দেড় মাসে স্পিনিং, নিটিং, ডায়িং কারখানায় উৎপাদন সক্ষমতা নেমেছে ৩ ভাগের এক ভাগে। কোথাও গ্যাসের চাপ এতটাই কম যে মেশিন চলছে না, আবার কোথাও লোডশেডিংয়ে উৎপাদন বন্ধ রাখতে হচ্ছে। উদ্যোক্তারা বলছেন, এতে উৎপাদন খরচ বাড়ছে, অন্যদিকে সময়মতো পণ্য সরবরাহ করতে না পারায় রপ্তানি আদেশ হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জানা গেছে, গাজীপুর ও আশুলিয়ার শিল্পকারখানাগুলোতে প্রতিদিন প্রায় ৫৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন। কিন্তু তিতাস সরবরাহ করছে মাত্র ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এতে গ্যাসের চাপ বেশিরভাগ সময় ২ পিএসআই বা তার নিচে নেমে গেছে। যদিও স্বাভাবিক উৎপাদনের জন্য ৫ থেকে ১৫ পিএসআই চাপ প্রয়োজন।
টেক্সটাইল শিল্প মালিক সমিতি-বিটিএমএ জানায়, দেশের বস্ত্রকল ও স্পিনিং মিলগুলোর উৎপাদন সক্ষমতার ৩০ থেকে ৪০ শতাংশে নেমে এসেছে। এতে সময়মতো সরবরাহ, ব্যাংক ঋণ পরিশোধ ও শ্রমিকদের বেতন দিতে সমস্যায় পড়ছেন কারখানা মালিকেরা।
বিটিএমএ-এর জ্বালানি বিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটির সভাপতি রাজিব হায়দার বলেন, ‘কোনো কোনো মিলে জিরো পিএসআই, কোনো মিলে আউটলেটে এখন ওয়ান পিএসআই আছে, কারো হয়তো ম্যাক্সিমাম আড়াই। আমরা এই পিএসআই দিয়ে সবগুলো মেশিনে উৎপাদন করতে পারি না। তখন আমাদের কোনোটা বন্ধ রাখতে হয়, কোনোটা চালাতে হয়। প্রসেসটি র্যাশোনিং করতে হয়।’
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে হবে। দীর্ঘমেয়াদে আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে দেশিয় গ্যাসক্ষেত্রের সক্ষমতা বাড়ানোর পরামর্শ তাদের।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ইজাজ হোসেন বলেন, ‘উৎপাদনকে একদম সম্পূর্ণরূপে থামিয়ে দেওয়াটা একিবারে বিগ মিসটেক। আমরা পদে পদে ডিসিশনগুলোতে ভুল করছি। লং টার্ম প্লানিংয়েও নাই, শর্ট টার্ম, মিড টার্ম প্ল্যানিংয়ে যেগুলো করা দরকার সেগুলোও কিছু করছে না।’
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ শফিকুল আলম বলেন, ‘তেলভিত্তিক উৎপাদন কিছুটা বাড়িয়ে, যেটা সরকার পদক্ষেপ নিয়েছে। গ্যাসভিত্তিক যে বিদ্যুৎখাতের উৎপাদন আছে, আপাতত অল্প কিছুদিনের জন্য ওই গ্যাসটা শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে দেওয়া।’
দেশের পোশাক কারখানাগুলোর প্রয়োজনীয় কাপড়ের বেশিরভাগ আসে স্থানীয় বস্ত্র কারখানা থেকে। জ্বালানি সংকটে এখাতের বড় অঙ্কের বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান হুমকিতে পড়েছে।



