জ্বালানি সংকটের কারণে চাপে বিশ্ব অর্থনীতি, বাড়ছে মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি। বড় মন্দা এড়ানো গেলেও কমছে প্রবৃদ্ধির গতি। জাতিসংঘ এবং ওইসিডির পূর্বাভাস, এ বছর কমবে বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও উচ্চ ঋণ ব্যয় ঝুঁকি বাড়ালেও এআই-কেন্দ্রিক বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি বাণিজ্যের কারণে কিছুটা স্থিতিশীল অর্থনীতি।
মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে দীর্ঘদিন ধরেই অস্থিতিশীল বিশ্ব জ্বালানি বাজার। অস্থিরতার কারণে চাপ বাড়ছে বিশ্ব অর্থনীতিতে। বাড়ছে মূল্যস্ফীতির ঝুঁকিও। একই সঙ্গে উচ্চ সুদহার, বাড়তে থাকা সরকারি ঋণ ও সংকুচিত আর্থিক সক্ষমতা অনিশ্চয়তা আরও বাড়াচ্ছে। এরই মধ্যে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি কমার পূর্বাভাস দিয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা।
জাতিসংঘ বলছে, এ বছর বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি হতে পারে ২ দশমিক ৬ শতাংশ। তবে অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থা—ওইসিডি কিছুটা বেশি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে। সংস্থাটি বলছে, এ বছর বৈশ্বিক অর্থনীতি ২ দশমিক ৯ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে ৩ শতাংশ বাড়তে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে তৈরি পণ্য ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কা বেশি স্থায়ী হচ্ছে, মনে করে সংস্থাটি।
ওইসিডির মহাসচিব ম্যাথিয়াস করম্যান বলেন, ‘পরিস্থিতির সঙ্গে বিশ্ব অর্থনীতি খাপ খাইয়ে নিলেও ঝুঁকির বাইরে নয়। এখন সরকারগুলো যে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেবে, তার ওপরই নির্ভর করবে পরবর্তী ধাক্কা আমরা কত ভালোভাবে মোকাবিলা করতে পারব।’
দুই সংস্থার পূর্বাভাসেই বলা হয়েছে, জ্বালানি সংকটই অন্যতম বড় ঝুঁকি। জাতিসংঘ বলছে, ফেব্রুয়ারির পর ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের কাছাকাছি উঠেছে। ডিজেল, জেট ফুয়েল ও হিটিং অয়েলের দামও দ্রুত বেড়েছে।
তবে সংকট কিছুটা সামাল দিচ্ছে এআই। বিভিন্ন এআই অবকাঠামোয় বড় বিনিয়োগ যুক্তরাষ্ট্রের প্রবৃদ্ধিকে সহায়তা করছে। এর ফলে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তিপণ্য রপ্তানিও বাড়ছে। জাতিসংঘের হিসাবে, বছরের প্রথম ৫ মাসে বৈশ্বিক পণ্য বাণিজ্য ৫ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে, যার বড় অংশই এআই-সম্পর্কিত পণ্য।



