ইউটিউবে যখন লোকেশ কানাগারাজের ‘কুলি’ সিনেমার গান ‘মনিকা’ মুক্তি পেল, তখন কে জানত রজনীকান্ত-নাগার্জুন-আমির খানের মতো মহাতারকার উপস্থিতি সত্ত্বেও আলোচনার আসল কেন্দ্র হয়ে উঠবেন একজন মালয়ালম অভিনেতা—সৌবিন শাহির।
গানের শুরুর সব আকর্ষণ ছিল পূজা হেগড়েকে ঘিরে, কিন্তু হঠাৎ করেই ফ্রেমে হাজির সৌবিন, আর সেখানেই যেন আগুন জ্বলে উঠল। তাঁর অপ্রত্যাশিত এনার্জি, অদ্ভুত ছন্দে ঝাঁপিয়ে পড়া নাচ আর মুখভরা এক্সপ্রেশন মুহূর্তেই ইউটিউব দর্শককে চমকে দিল। কমেন্ট সেকশন ভরে উঠল প্রশংসায়, যেখানে অনেকেই লিখল—‘পূজাকে ছাপিয়ে গেছেন সৌবিন।’
স্টেজে শোতে এখন দক্ষিণ ভারতে বেশি কাঙ্ক্ষিত হয়ে উঠেছেন এ তারকা। ছবির প্রমোশনে তিনিই আসছেন স্টেজে। এমন একটা ভিডিও ভাইরালও হয়েছে। সৌবিনের নাচ শেষ হওয়া মাত্রই বসে থাকা রজনীকান্ত আর আমির খান পর্যন্ত উঠে দাঁড়িয়ে হাততালি দিতে বাধ্য হয়েছেন।

কিন্তু সৌবিনের পথচলা তো এমন ছিল না শুরুতে। জন্ম ১৯৮৩ সালের ১২ অক্টোবর, কেরালার ফোর্ট কোচিতে। সিনেমার রক্ত তাঁর শিরায় বহমান ছিল বলা যায়, কারণ তাঁর বাবা বাবু শাহির ছিলেন প্রোডাকশন কন্ট্রোলার। ছোটবেলা থেকেই শুটিং সেটের গন্ধ, আলো-ছায়ার মায়াজাল তাঁর চোখে লেগে থাকত। কিন্তু প্রথম পদক্ষেপ ক্যামেরার সামনে নয়, বরং পেছনে। তিনি কাজ শুরু করেছিলেন সহকারী পরিচালক হিসেবে। একে একে সিদ্দিক, রাজীব রবি, ফজিল, রঞ্জিত, সঞ্জীব, আমল নীরদ, আর অনোয়ার রশিদের মতো পরিচালকদের সহকারী ছিলেন। সেই অভিজ্ঞতা তাঁকে শিখিয়েছিল সিনেমা আসলে কীভাবে তৈরি হয়, গল্পকে কীভাবে গড়ে তুলতে হয়।

অভিনয়ে তাঁর আত্মপ্রকাশ ২০১৩ সালের ‘আন্নায়ুম রাসুলুম’ দিয়ে। তবে দর্শকের হৃদয়ে স্থান করে নেন ২০১৫ সালের ‘প্রেমাম’ ছবির পি টি স্যার চরিত্রে। এক কড়া স্বভাবের, কিন্তু মজাদার শিক্ষক চরিত্র তাঁকে রাতারাতি জনপ্রিয়তা এনে দেয়। এরপর তিনি আর থামেননি। ‘মাহেশিন্টে প্রতিকারাম’, ‘কুম্বালঙ্গি নাইটস’, ‘সুদানি ফ্রম নাইজেরিয়া’—একে একে তাঁর ক্যারিয়ারকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যায়। বিশেষ করে সুদানি ফ্রম নাইজেরিয়া তাঁকে এনে দেয় কেরালা স্টেট ফিল্ম অ্যাওয়ার্ড, আর কুম্বালঙ্গি নাইটস আধুনিক মালয়ালম সিনেমার ক্লাসিক হিসেবে তাঁকে অমর করে রাখে।
শুধু অভিনয় নয়, সৌবিন নিজের প্রতিভা ছড়িয়ে দেন পরিচালনায়ও। ‘পরাভা’ ছিল তাঁর পরিচালনায় প্রথম সিনেমা, যা সমালোচক মহলে প্রশংসা পায়। প্রযোজক হিসেবেও তিনি হাজির হন, আর ২০২৪ সালের ‘মঞ্জুমাল বয়েজ’ তাঁকে এনে দেয় কেরালার ইতিহাসের অন্যতম বাণিজ্যিক সাফল্য।
এই সব কিছুর ভেতরেই তিনি এক ধরনের ইমেজ গড়ে তুলেছিলেন—সিরিয়াস রোল, সংবেদনশীল গল্প, বাস্তবধর্মী চরিত্র। কিন্তু কুলি সিনেমার ‘মনিকা’ গান তাঁকে নতুন করে চেনাল! পুরনো ইমেজ খানখান, হয়ে উঠলেন তুমুল এক ড্যান্সার। হঠাৎ এক গানেই এমন ঝড় তুললেন যে, দক্ষিণ ভারতের বাইরে গোটা দেশের মানুষ এখন সৌবিনকে চিনছে এক নতুন পরিচয়ে—ড্যান্স সেনসেশন।
পরিচালক লোকেশ কানাগারাজ পরে এক সাক্ষাৎকারে জানান, তিনি আসলে সৌবিনকে এই গানে আনেন ‘ভিষ্মা পারভম’ সিনেমার এক দৃশ্যে তাঁর ছোট্ট ড্যান্স মুভ দেখে। সেই ছোট্ট মুহূর্তই লোকেশকে বিশ্বাস করায়, এই মানুষটা ভিন্ন কিছু করতে পারবেন। সেই বিশ্বাসেই ছাপিয়ে গেলেন অনেক কিছু। রজনীকান্ত, আমির খান, পূজা হেগড়ের মতো তারকাদের সঙ্গে থেকেও তিনি এখন স্পটলাইটে।


বাংলাদেশে কি মুক্তি পাচ্ছে দেব-শুভশ্রীর ‘ধূমকেতু’
