জাপানের জনপ্রিয় গোয়েন্দা থ্রিলার সিরিজ ‘ভিভান্ত’-এর দ্বিতীয় সিজন ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে চীনে। সিরিজটির গল্পে চীনা গোয়েন্দা সংস্থার উপস্থাপন এবং জাপানের সামরিক ইতিহাসের চিত্রায়ণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম। তাদের দাবি, সিরিজটিতে চীনকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপনের পাশাপাশি জাপানের অতীত সামরিক কর্মকাণ্ডকে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।
জাপানের টিবিএস টেলিভিশনের এই সিরিজে অভিনয় করেছেন দেশটির জনপ্রিয় কয়েকজন অভিনেতা। বড় বাজেটের নির্মাণ, আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট এবং গোয়েন্দা তৎপরতানির্ভর গল্পের কারণে দর্শকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করেছে ‘ভিভান্ত’-এর নতুন সিজন।
চীনা পক্ষের সমালোচনার কেন্দ্রে রয়েছে সিরিজে চীনা গোয়েন্দা এজেন্টদের চিত্রায়ণ। তাদের অভিযোগ, জাপানি গোয়েন্দা সংস্থাকে আধুনিক ও দক্ষ হিসেবে দেখানো হলেও চীনা সংস্থাকে তুলনামূলকভাবে পশ্চাৎপদ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়া জাপানি এজেন্টদের আঙুল কেটে ফেলা ও ছুরিকাঘাতের মতো নির্যাতনের দৃশ্য নিয়েও আপত্তি জানানো হয়েছে। চীনা পক্ষের দাবি, এসব দৃশ্য দেশটির মানুষের নেতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি করতে পারে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় চীনে জাপানি সামরিক আগ্রাসন, নানচিং গণহত্যা এবং যুদ্ধকালীন অপরাধের ইতিহাস কীভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। পাশাপাশি জাপানের কিছু ডানপন্থী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ইতিহাসের ভাষ্য পরিবর্তনের চেষ্টা করার অভিযোগ আনা হয়েছে।
উল্লেখ্য, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানের সামরিক আগ্রাসনের ইতিহাস চীন-জাপান সম্পর্কের অন্যতম সংবেদনশীল বিষয়। দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগ থাকলেও ইতিহাসের মূল্যায়ন ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে মতপার্থক্য দীর্ঘদিনের।


