নতুন গানে বরাবরই শ্রোতাদের মুগ্ধ করেছেন গায়ক আসিফ আকবর। তবে তাঁর সংগীত ক্যারিয়ারে সবচেয়ে জনপ্রিয় এক গান ‘ও প্রিয়া তুমি কোথায়’, যা প্রকাশের পর রাতারাতি দেশজুড়ে তিনি খ্যাতি লাভ করেছিলেন। চলতি বছর সেই অ্যালবাম কিংবা গান প্রকাশের ২৫ বছর পূর্তি হলো! আর সেই বিশেষ ক্ষণে গায়ক ফিরে গেলেন স্মৃতির পাতায়। নিজের সংগীতজীবনের পাশাপাশি শোবিজ ইন্ডাস্ট্রির বাস্তবতা এবং শিল্পীদের সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় সামাজিকমাধ্যম ফেসবুকের এক পোস্টে আসিফ বলেন, ‘‘৯৭ সালের অক্টোবরে সপরিবারে ঢাকায় আসা গায়ক হবার স্বপ্ন চোখে নিয়ে। ৯৯ সালে ঢাকায় জন্ম নেয় দ্বিতীয় সন্তান। অনার্স-মাস্টার্স কমপ্লিট করেও চাকরিতে যাচ্ছি না। বাংলাদেশের সবচেয়ে অনিরাপদ ও অনিশ্চিত পেশায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার সংগ্রামও একদিন শেষ হলো। ‘ও প্রিয়া তুমি কোথায়’ বদলে দিল আমাকে, কেটে গেল একটা জীবন।’’
শোবিজ ইন্ডাস্ট্রির বাস্তবতা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘শোবিজকে বাইরে থেকে ঝলমলে মনে হলেও সবচেয়ে জরাজীর্ণ অবকাঠামো এখানেই। কোনো পর্যায়েই নেই সামাজিক নিরাপত্তা। তারকা আসে তারকা যায়, পরিবর্তন আসে না সিস্টেমে। এটার মূল কারণ শিল্পীদের বৈচিত্র্যপূর্ণ আত্মকেন্দ্রিক মানসিকতা, এখানে কেউ কারও নয়।’
সবশেষে ‘বাংলা গানের যুবরাজ’খ্যাত এই গায়ক আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ বাংলা গানে সমৃদ্ধ কোনো পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়াই। এখানে গান লেখা, গাওয়া, সুর, সংগীত সবই হবে, শুধু কখনও আসবে না সম্পৃক্তদের সামাজিক নিরাপত্তা। সবসময় একটা অভিশপ্ত বলয়ে আটকে থাকবে শিল্পচর্চা। ও প্রিয়া তুমি কোথায় অ্যালবামের গানগুলো পঁচিশ বছর পেরিয়ে এখনও সগৌরবে বেজে যাচ্ছে মানুষের মনে, এটাই প্রশান্তি।’
প্রসঙ্গত, ২০০১ সালের ৩০ জানুয়ারি প্রকাশ পেয়েছিল আসিফের প্রথম অ্যালবাম ‘ও প্রিয়া তুমি কোথায়’। বিশিষ্ট গীতিকার-সুরকার ইথুন বাবুর কথা ও সুরে প্রকাশিত এই অ্যালবাম দারুণ সাড়া ফেলে সংগীতমহলে। শহর থেকে গ্রাম, দেশের সর্বত্র বাজতে থাকে আসিফের গান।


শুরু হচ্ছে ‘আমার ভাষার চলচ্চিত্র’, দেখা যাবে ২৩ সিনেমা
