পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবারের মতো ক্ষমতার মসনদে বসছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। বিধানসভা নির্বাচনে ২০৬টি আসনে জয় পেয়েছে দলটি। আর এই পরিবর্তনের আবহে সংগীতশিল্পী কবীর সুমনের এক মন্তব্যে তোলপাড়! গত দেড় দশক ধরে যাঁকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের খাঁটি অনুরাগী হিসেবে চিনে এসেছেন সবাই, এমনকি তৃণমূলের টিকিটে লোকসভা নির্বাচনেও দাঁড়িয়েছেন; সেই তিনিই কিনা বলছেন, ‘আমি তৃণমূলপন্থী নই!’
গত মার্চেও মঞ্চে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে বসে ক্ষমতাসীন বিজেপির বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছিলেন সুমন। কিন্তু এবার ফলপ্রকাশের পর তাঁর গলায় অন্য সুর! সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, ‘আমি তো তৃণমূলের সদস্য নই, আমি তৃণমূলপন্থীও নই। আমায় মমতা প্রায় হাতে-পায়ে ধরে দাঁড় করিয়েছিলেন।’
গায়ক আরও মনে করিয়ে দেন যে, সংসদ সদস্যের মেয়াদ শেষ হওয়া মাত্রই তিনি পদত্যাগ করেছিলেন। এমনকি কখনোই কোনো রাজনৈতিক দলের শৃঙ্খলে বাঁধা ছিলেন না।
তৃণমূলের এই ভরাডুবির কারণ বিশ্লেষণ করতে গিয়েও বিস্ফোরক সুমন। তাঁর মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সব কাজ ঠিকভাবে সামলাতে পারেননি। বিশেষ করে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি কিংবা চাকরিখাত যেভাবে কলঙ্কিত হয়েছে, মানুষ তা মেনে নিতে পারেনি। তবে সমালোচনা করলেও মমতার ‘সবুজসাথী’র মতো প্রকল্পের প্রশংসা করতে ভোলেননি তিনি। এমনকি আবেগপ্রবণ হয়ে মন্তব্য করেন, ‘এইসব ভালো কাজের জন্য হয়তো একদিন মমতার মন্দির হবে।’
তবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে কবীর সুমনের আগামীদিনের অবস্থান নিয়ে। নতুন সরকারকে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি শিল্পী তাঁর সুপ্ত ‘বাম’ সত্ত্বাকেও উসকে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘সেরকম কোনো কমিউনিস্ট পার্টি এলে আমি এই বুড়ো বয়সেও তাঁদের সদস্য হওয়ার চেষ্টা করব। তাঁদের জন্য গান বাঁধব।’
গায়ককে নিয়ে এখন নেটিজেনদের মনে একটিই প্রশ্ন, ফের ‘লাল পতাকা’র দিকেই ঝুঁকছেন তিনি? নাকি ‘ডিগবাজি’র এই রাজনীতি কেবলই সময়ের দাবি? সেই উত্তর তোলা থাক সময়ের হাতেই!


মুখ্যমন্ত্রী হতে যে সমীকরণের সামনে বিজয়
