লোকজ ইতিহাস, সভ্যতা, সংস্কৃতি, পুরাকীর্তি, অনন্য পর্যটন এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের অজানা সব বৈচিত্র্যময় গৌরবগাথাকে দর্শকের সামনে তুলে ধরে ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’। সেই ধারাবাহিকতায় এবারের পর্বের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে নদীঘেরা উপকূলীয় জনপদ লক্ষ্মীপুরকে। স্থানীয় ইতিহাস ও সৌন্দর্যকে উপজীব্য করে মঞ্চ নির্মাণ করা হয়েছিল শতবর্ষ প্রাচীন দালাল বাজার জমিদারের স্মৃতিবহনকারী নবীন কিশোর উচ্চ বিদ্যালয়ের উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে।
ইত্যাদির ধারণকে ঘিরে পুরো লক্ষ্মীপুরজুড়ে ছিল উৎসবের আবহ। দুপুরের পর থেকেই অনুষ্ঠানস্থলে আসতে শুরু করেন দর্শকরা। প্রতিবারের মতো এবারও স্থানীয় জেলা প্রশাসনের মাধ্যমেই দর্শকদের জন্য আমন্ত্রণপত্র বিতরণ করা হয়। দেখতে দেখতে নির্ধারিত সময়ের আগেই অনুষ্ঠান প্রাঙ্গণ কানায়-কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। জেলা সদরে আয়োজিত হলেও দূর-দূরান্তের উপজেলা, এমনকি পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলা থেকেও ছুটে এসেছিলেন নানা শ্রেণী-পেশার দর্শক।

এবারের অনুষ্ঠানে থাকছে দুটি বিশেষ গান। একটিতে কণ্ঠ মিলিয়েছেন লক্ষ্মীপুরের কণ্ঠশিল্পী তানজিনা রুমা এবং ফেনীর কণ্ঠশিল্পী সাজিয়া সুলতানা পুতুল। গীতিকার কবির বকুলের কথায় দরদী সুরে গানটি সৃষ্টি করেছেন আকাশ মাহমুদ।
অন্যদিকে, প্রতিবারের মতো এবারও থাকছে জেলা-পরিচিতিমূলক নৃত্যগীত। মনিরুজ্জামান পলাশের কথায় গানটির সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন উজ্জ্বল সিনহা। তানজিনা রুমা ও রাজিবের কণ্ঠে সুরের মূর্ছনায়, এস কে জাহিদের কোরিওগ্রাফিতে মঞ্চ মাতিয়েছেন স্থানীয় নৃত্যশিল্পীরা।
দর্শকপর্বে লক্ষ্মীপুরকে ঘিরে করা প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে উপস্থিত দর্শকের মধ্যে থেকে চারজনকে নির্বাচন করা হয়। তারপর এই নির্বাচিত দর্শকরা তাঁদের জেলারই কৃতিসন্তান জনপ্রিয় অভিনেত্রী দিলারা জামানের সঙ্গে অভিনয় করেন।

পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ এভারেস্টজয়ী প্রথম বাংলাদেশি নারী, লক্ষ্মীপুরের সন্তান নিশাত মজুমদারের একটি বিশেষ সাক্ষাৎকার। বলেছেন পর্বতারোহণ ও ইত্যাদি নিয়ে তাঁর অনুভূতির কথা।
প্রতিবারের মতো এবারের পর্বেও থাকছে কয়েকটি অনবদ্য প্রতিবেদন। লক্ষ্মীপুরের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য বিস্তৃত মাঠজুড়ে সয়াবিনের সমারোহ, নারিকেল ও সুপারিগাছের সারি। এসবের চিত্র তুলে ধরার পাশাপাশি অনুষ্ঠানে জেলার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও গুরুত্বপূর্ণ স্থান-স্থাপনার ওপর রয়েছে একটি তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন। শিক্ষা ও উদ্দীপনার অনন্য এক উদাহরণ হিসেবে সেখানকার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ওপর রয়েছে উদ্দীপনামূলক প্রতিবেদন। এ ছাড়াও রয়েছে নদী আর ভাগ্যের সঙ্গে অবিরাম লড়াই করা লক্ষ্মীপুরের এক নিঃস্ব মাঝিকে নিয়ে একটি মানবিক প্রতিবেদন। একসময় নদী যাঁর আয়ের উৎস ছিল, আজ সেই নদীই তাঁদের নিঃস্ব করেছে।
এবারের বিদেশি পর্বে রয়েছে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ-ফেরত সৈনিকদের তৈরি অন্যতম জনপ্রিয় ও চোখধাঁধানো উপকূলীয় পথ বিশ্বের দীর্ঘতম যুদ্ধস্তম্ভ ‘গ্রেট ওশান রোড’।

থাকছে কাশেম টিভির রিপোর্টার ও নাতির প্রাণবন্ত আলাপ। এ ছাড়াও ইত্যাদির নিয়মিত আয়োজন চিঠিপত্র পর্ব ছাড়াও রয়েছে বেশকিছু সামাজিক অসংগতি ও সমসাময়িক প্রসঙ্গনির্ভর তীক্ষ্ম ও তীর্যক নাট্যাংশ। তৈল টিভি, মুখোশের অন্তরালে, স্ক্রিনবন্দি জীবন, উন্নয়ন প্রতারণা, বিয়ে যন্ত্রণা, সবাই ডাক্তার, ইউটিউব ফিভার, ডিজিটাল চিকিৎসা, খাঁটি সোনা ও নকল সোনাসহ বেশ কয়েকটি নাট্যাংশ।
এবারের ইত্যাদিতে উল্লেখযোগ্য শিল্পীরা হলেন সোলায়মান খোকা, আজম খান, সুভাশিষ ভৌমিক, আবদুল্লাহ রানা, মীর নাসিমুল ইসলাম সেলিম, জিল্লুর রহমান, আব্দুল আজিজ, বড়দা মিঠু, শরাফ আহমেদ জীবন, হারুন রশিদ বান্টি, আশরাফুল আলম সোহাগ, সুমন পাটোয়ারী, আমিন আজাদ, মুকিত জাকারিয়া, আনন্দ খালেদ, সাইদুর রহমান পাভেল, এমএনইউ রাজু, আনোয়ারুল আলম সজল, আনোয়ার শাহী, জামিল হোসেন, সাবরিনা নিসা, জাহিদ শিকদার, কামাল বায়েজিদ, সাজ্জাদ সাজু, নূরে আলম নয়ন, সুজাত শিমুল, সুবর্ণা মজুমদার, তারিক স্বপন, মুকুল সিরাজ, নজরুল ইসলাম, ইকবাল হোসেন, সূচনা শিকদার, নিপু, বেলাল আহমেদ মুরাদসহ আরও অনেকে। শিল্প নির্দেশনা ও মঞ্চ পরিকল্পনায় ছিলেন মুকিমুল আনোয়ার মুকিম।
আগামী শুক্রবার বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) রাত ৮টার বাংলা সংবাদের পর প্রচার হবে দর্শকপ্রিয় ইত্যাদির এই পর্ব। রচনা, পরিচালনা ও উপস্থাপনা করেছেন হানিফ সংকেত। নির্মাণ করেছে ফাগুন অডিও ভিশন। স্পন্সর করেছে যথারীতি কেয়া কসমেটিকস লিমিটেড।


আন্দোলনে পুলিশের ভ্যান থামিয়ে ভাইরাল হওয়া কে এই মডেল?
