ডিসেম্বরে বাতাসের মান অস্বাস্থ্যকর হয়ে উঠেছে। আগামী কয়েকদিন রাজধানীসহ উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে বায়ু দূষণের মাত্রা বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন পরিবেশ গবেষক ও আবহাওয়াবিদরা। সড়ক ও অবকাঠামো নির্মাণ, ইটভাটা, স্থানীয় যানবাহন ও সীমান্ত এলাকার দূষণে দেশের বাতাস অসহনীয় হয়ে ওঠে। গবেষকরা বলছেন, শীত বা শুষ্ক মৌসুমে বৃষ্টি না থাকায় তীব্র হয় দূষণ।
নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত দূষণের মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। এসময় সবচেয়ে দূষিত থাকে ঢাকার বাতাস। বৃষ্টি না হওয়ায় আকাশে ধুলা ও কুয়াশার কুণ্ডলী জমাট বাঁধে। গবেষণায় জানা যায়, মেঘনা ও শীতলক্ষ্যার তীর জুড়ে সিমেন্ট ও স্টিল কারখানা দূষণ ছড়াচ্ছে। এর সাথে উত্তর দিকে আমিন বাজার এলাকায় ইটভাটার ধোঁয়া রাজধানীর বাতাসকে করছে আরও ভারী।
পরিবেশবাদী সংগঠন ক্যাপসের সভাপতি ড. কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, ‘নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই চারমাসে আন্তঃসীমান্ত বায়ুদূষণ বাংলাদেশে প্রবেশ করে এবং দূষণের মাত্রাকে একটি সিভিয়ার (মারাত্মক) জায়গায় নিয়ে যায়। এর ফলে, দূষণ অস্বাভাবিক পর্যায়ে পৌঁছে যায়।’
বায়ুমণ্ডলে সালফার ডাই-অক্সাইড, নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইডসহ বিভিন্ন দূষকের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে অস্বাস্থ্যকর হয়ে ওঠে বাতাস। এসব উপাদানের ঘনত্ব অনুযায়ী একিউআই নির্ধারিত হয়। শুষ্ক মৌসুমে রাজধানীর বাতাসে প্রতি ঘনমিটারে ২ দশমিক ২৫ পিএম ক্ষুদ্র ও বিপজ্জনক বস্তুকণা থাকছে প্রায় ৭০ থেকে আড়াইশ মাইক্রোগ্রাম। যেখানে এর সহনীয় মাত্রা ত্রিশ থেকে ৫০ মাইক্রোগ্রাম। স্থানীয় দূষণের পাশাপাশি সীমান্ত দূষণও বাড়ছে। এতে পাঁচ বছর ধরে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষেই থাকছে ঢাকা।
ড. কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, ‘সিটি করপোরেশন যদি পরিবেশসম্মত নির্মাণকাজে বাধ্য করতে পারে, তাহলে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি এবং নির্মাণকাজ থেকে দূষণ হয় না। ঢাকার প্রায় ৬১টি জায়গায় বর্জ্য পোড়ানো হচ্ছে, এগুলো যদি বিচ্ছিন্নভাবে বন্ধ করা যায় তাহলেও দূষণ কমে আসবে।’
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের আকাশ মেঘমুক্ত থাকছে। তাই আগামী কয়েকদিনে দূষণের মাত্রা বৃদ্ধির ঝুঁকি রয়েছে।
জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ ড. বজলুর রশীদ বলেন, ‘গড়ে ২ থেকে ৩ ডিগ্রি তাপমাত্রা সারাদেশে কমবে। এরপর থেকে তাপমাত্রা অনেকটা স্টেবল (স্থিতিশীল) থাকবে। হয়তো আগামী ১৮ থেকে ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত এরকমই থাকবে। ২০ ডিসেম্বরের পর অনেক স্থানে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ আসবে।’
শীতের এই সময়ে দূষণে শ্বাসকষ্ট, সর্দি-কাশি, অ্যালার্জি ও অন্যান্য বায়ুবাহিত রোগের প্রকোপ বাড়তে পারে। তাই এখন থেকেই বাইরে বের হলে মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ স্বাস্থ্যবিদদের।



