জন্মের পর প্রতিটি শিশুকে নিয়ে চিন্তিত থাকেন অভিভাবকরা। শিশুর ঘুম, খাবার, পোশাক থেকে শুরু করে চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায় মাড়িতে দাঁত ওঠা নিয়েও।
অভিভাবকদের এ চিন্তা অবশ্যই যুক্তিযুক্ত। কারণ শিশু জন্মের পর সন্তানের দিকে ঠিকমতো খেয়াল না রাখলে যেকোনো মুহূর্তেই ঘটে যেতে পারে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। যা শিশুর জন্য ক্ষতির কারণ যেমন হতে পারে, তেমনি হতে পারে বিপদজনকও।
শিশুদের মধ্যে সাধারণ যে সমস্যাগুলো হতে দেখা যায়, তার একটি হলো দেরিতে দাঁত ওঠা। সাধারণত, ৬ থেকে ১২ মাসের মধ্যে শিশুদের দাঁত উঠতে শুরু করে। তবে, প্রতিটি শিশুর শারীরিক গঠন ও বিকাশের হার ভিন্ন, তাই কারো কারো ক্ষেত্রে দাঁত উঠতে সামান্য দেরি হতে পারে। যদি শিশুর ১৫ মাসের বেশি বয়স হয়ে যায় এবং দাঁত না ওঠে, তাহলে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
দেরিতে দাঁত ওঠার কারণ
১. বংশগত: মা-বাবার কিংবা পরিবারের কারো ছেলেবেলায় দাঁত দেরিতে ওঠার সমস্যা থেকে শিশুরও দেরিতে দাঁত উঠতে পারে। এ ক্ষেত্রে চিন্তিত হওয়ার কারণ নেই। চিকিৎসকের পরামর্শমতো ব্যবস্থা নিতে হবে। একই কারণে দাঁতের গঠনগত ত্রুটিসহ কোনো কোনো দাঁত বা কোনো দাঁতই না-ও উঠতে পারে। সে ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।
২. জন্মগত: যেসব শিশু ৩৭ সপ্তাহের আগে অর্থাৎ প্রিবার্থ শিশু জন্মগ্রহণ করে, তাদের দাঁত দেরিতে উঠতে পারে এবং দাঁতের গঠনগত দুর্বলতা থাকতে পারে।
৩. অপুষ্টি: অপুষ্টি, ভিটামিন বা খনিজ, বিশেষ করে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন-ডির অভাবে কোনো কোনো শিশুর দেরিতে দাঁত উঠতে পারে।
৪. হরমোনজনিত কারণ: হাইপোথাইরয়েডিজম, হাইপোপ্যারাথাইরয়েডিজম, হাইপোপিট্যুইটারিজম।
৫. জেনেটিক ডিসঅর্ডার: বিভিন্ন জেনেটিক ডিসঅর্ডার যেমন - ডাউনস সিনড্রোম, এপার্ট সিনড্রোম, এলিস ভ্যান ক্রিভেল্ড সিনড্রোম। এ ক্ষেত্রে হরমোন রোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে। এই রোগে দাঁত উঠতে দেরি হতে পারে।
৬.দাঁতের ডেভেলপমেন্টে অস্বাভাবিকতা: দাঁতের ডেভেলপমেন্টে অস্বাভাবিকতা যেমন - ক্লিডোক্রেনিয়াল ডিসপ্লাসিয়া, এক্টোডার্মাল ডিসপ্লাসিয়াস, রিজিওনাল ওডোন্টোডিসপ্লাসিয়া।
৭. ত্রুটিপূর্ণ খাদ্যাভ্যাস: শিশুর দাঁত নেই দেখে শুধু তরল আর ব্লেন্ডেড অর্ধতরল খাবার খাওয়াতে থাকা, মাড়ি ব্যবহারের সুযোগই না দেওয়া।
৮. চোয়াল ও মাড়ির সমস্যা: মাড়ি ও চোয়ালের শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণেও অনেক সময় দাঁত মাড়ি থেকে বেরোতে দেরি হয়। এ ক্ষেত্রে দন্ত চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।
শিশুর দাঁত দেরিতে উঠলে দাঁতের সৌন্দর্যের মারাত্মক বিঘ্ন ঘটে। এ জন্য মা-বাবা ও অভিভাবকদের সব সময় দাঁত ওঠার সময় জানা অত্যন্ত জরুরি। দাঁত ওঠার সময় কোনো সমস্যা হলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।
দেরিতে দাঁত উঠলে করণীয়:
১. ডাক্তারের পরামর্শ নিন
যদি ১৫ মাসের বেশি বয়স হয় এবং শিশুর দাঁত না ওঠে, তবে একজন শিশু বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরামর্শ করা উচিত
২. অন্যান্য লক্ষণ খেয়াল রাখুন
দাঁত দেরিতে ওঠার পাশাপাশি শিশুর ওজন বৃদ্ধি, সামগ্রিক বিকাশে দেরি, অলসতা বা দুর্বলতা আছে কিনা, তা খেয়াল রাখতে হবে।
৩. অপুষ্টি আছে কিনা দেখুন
ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পুষ্টির অভাব হলে দাঁত উঠতে দেরি হতে পারে। তাই শিশুর খাদ্য তালিকায় এসব উপাদান আছে কিনা, তা নিশ্চিত করুন।
৪. শিশুকে পর্যাপ্ত দুধ খাওয়ান
দুধ ক্যালসিয়ামের একটি ভাল উৎস, যা দাঁত ও হাড়ের বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয়। তাই শিশুকে পর্যাপ্ত পরিমাণে দুধ পান করাতে হবে।
৫. শিশুকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখুন
দাঁত ওঠার সময় শিশুর মাড়ি ফুলে যেতে পারে, তাই পরিষ্কার আঙুল বা নরম কাপড় দিয়ে আলতোভাবে ম্যাসাজ করে দিন।
যদি শিশুর দাঁত দেরিতে ওঠার সাথে সাথে জ্বর, ডায়রিয়া, বমি বা অন্যান্য গুরুতর লক্ষণ দেখা যায়, তবে দ্রুত ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন।
লেখক: ডেন্টাল সার্জন, সিকদার ডেন্টাল কেয়ার, মিরপুর।


শিশুর ডায়াবেটিস হলে যা করবেন
