বিজ্ঞানসম্মত জীবনযাপন, রোগ প্রতিরোধ এবং সুস্থ ও দীর্ঘ জীবনযাপনের গুরুত্ব তুলে ধরতে রাজধানীর বনানীতে ক্লাব নটরডেমিয়ান্স বাংলাদেশ লিমিটেডে (সিএনবিএল) বিশেষ স্বাস্থ্য সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার সন্ধ্যায় ক্লাবের হেলথ সাবকমিটির উদ্যোগে ‘সায়েন্টিফিক লাইফস্টাইল অ্যান্ড দি সাইন্স অব লিভিং লংগার’ শীর্ষক এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। ক্লাবের ফাদার পিসেতো হলের আয়োজনে ক্লাবের প্রেসিডেন্ট, এক্সিকিউটিভ কমিটির সদস্য, সাধারণ সদস্য ও তাদের পরিবারের সদস্যসহ শতাধিক মানুষ অংশ নেন।
সেমিনারের মূল লক্ষ্য ছিল বিজ্ঞানসম্মত জীবনযাপনের মাধ্যমে শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা বজায় রাখা, রোগ প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়ানো এবং সুস্থ ও দীর্ঘ জীবনের গুরুত্ব তুলে ধরা।
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন কোয়ান্টাম হার্ট কেয়ারের কো-অর্ডিনেটর ডা. মনিরুজ্জামান। তিনি সুস্থ ও দীর্ঘায়ু জীবনের বৈজ্ঞানিক ভিত্তি, সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম, পর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ, মেডিটেশন এবং ইতিবাচক জীবনধারার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।
দৈনন্দিন জীবনে স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলার পাশাপাশি অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি কমাতে জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
সেমিনারে উদ্বোধনী ও স্বাগত বক্তব্য দেন ক্লাবের প্রেসিডেন্ট সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ। সদস্যদের মধ্যে স্বাস্থ্যসচেতনতা বাড়াতে এ ধরনের উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি নিয়মিত স্বাস্থ্যবিষয়ক কর্মসূচি আয়োজনের ওপর জোর দেন।
মূল আলোচনা শেষে অনুষ্ঠিত হয় প্রশ্নোত্তর ও মতবিনিময় পর্ব। এতে অংশগ্রহণকারীরা স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, রোগ প্রতিরোধ এবং মানসিক সুস্থতা নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করেন। বিশেষজ্ঞের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শও নেন তাঁরা।
ক্লাবের ইসি মেম্বার (ফুড অ্যান্ড হেলথ) ও হেলথ সাবকমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত ডা. মো. জোবায়ের হোসেন জানান, সদস্য ও তাদের পরিবারের মধ্যে স্বাস্থ্যসচেতনতা বাড়ানো এবং প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবার ধারণা ছড়িয়ে দেওয়াই এ ধরনের আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য।
তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে অস্টিওপোরোসিস, হৃদ্রোগ, কিডনি ও লিভারের স্বাস্থ্য, নারী ও শিশুর স্বাস্থ্য এবং মানসিক স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন বিষয়ে ধারাবাহিক সচেতনতামূলক কর্মসূচি আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় এবং ছুটি গ্রুপের পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য, নৈশভোজ, র্যাফেল ড্র ও ধন্যবাদ জ্ঞাপনের আয়োজন করা হয়।
ক্লাব কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করে, এ ধরনের উদ্যোগ সদস্য ও তাদের পরিবারকে সুস্থ ও ইতিবাচক জীবনধারায় উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সামাজিক বন্ধন আরও সুদৃঢ় করবে।


