গরমের দাবদাহে যখন নাজেহাল অবস্থা। তখন বর্ষার বৃষ্টি যেন আশীর্বাদ হয়ে আসে। ঠান্ডা বাতাস, মেঘলা আকাশ আর কখনো হালকা বৃষ্টি। সব মিলিয়ে বাইরে বের হলে মনটা ভালই থাকে। কিন্তু এই ভালো লাগার আবহাওয়াই ত্বকের জন্য হয়ে উঠতে পারে চিন্তার কারণ।
বর্ষায় বাতাসে আর্দ্রতা বেড়ে যায়। ফলে ত্বকে কখনো বেশি তেল জমে, আবার কখনো তা হয়ে পড়ে রুক্ষ। অনেকের ত্বকে তখন ব্রণ, র্যাশ বা অস্বস্তিকর চুলকানিও দেখা দেয়। তাই বর্ষায় ত্বকের দরকার আলাদা যত্ন।
চলুন দেখে নেওয়া যাক, কীভাবে বর্ষায় ত্বকের যত্ন নিলে তা থাকবে উজ্জ্বল ও সুস্থ।
দিনে দু’বার ত্বক পরিষ্কার করুন
বর্ষাকালে ঘাম ও ধুলাবালু জমে ত্বকের ছিদ্রে আটকে যায়। এতে ব্রণ ও দাগ হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। তাই দিনে অন্তত দু’বার মুখ ধোয়া জরুরি। বাজারে অনেক ফেসওয়াশ পাওয়া যায়। তবে সেবামেড ক্লিয়ার ফেস ক্লেনজিং ফোম এক্ষেত্রে কার্যকর। এতে থাকা মন্টালিন সি৪০ নামের উপাদান পাঁচ মিনিটেই ত্বকের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া দূর করে। এর পিএইচ ৫.৫, যা ত্বকের প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখে।

ত্বককে হাইড্রেটেড রাখুন
অনেকেই ভাবেন, বর্ষায় ত্বক এমনিতেই স্যাঁতসেঁতে থাকে, তাই ময়েশ্চারাইজার দরকার নেই। আসলে এটা ভুল ধারণা। ত্বক ভিতর থেকে আর্দ্র না থাকলে তা রুক্ষ হয়ে পড়ে, দেখা দেয় খুসকি বা খোসপাঁচড়া।
এজন্য সেবামেড ময়েশ্চারাইজিং ক্রিম ব্যবহার করতে পারেন। এটি হালকা, সহজে ত্বকে মিশে যায় এবং মেকআপের নিচেও ব্যবহার করা যায়। এতে রয়েছে ২.৩ শতাংশ ভিটামিন ই, যা ত্বককে ভিতর থেকে সজীব রাখতে সাহায্য করে।
বর্ষায়ও সানস্ক্রিন লাগাতে হবে
মেঘলা দিন মানেই রোদ নেই, এই ভুল ধারণা। মেঘের আড়াল থেকেও ইউভি রশ্মি ত্বকে ক্ষতি করতে পারে। তাই বর্ষাতেও নিয়ম করে সানস্ক্রিন লাগানো জরুরি। অন্তত এসপিএফ ৩০ যুক্ত সানস্ক্রিন ব্যবহার করলে ত্বক সূর্যের ক্ষতি থেকে অনেকটাই রক্ষা পায়।
ভারী মেকআপ নয়, হালকা সাজ
বর্ষায় অতিরিক্ত মেকআপ ত্বকের ছিদ্র বন্ধ করে দেয়, এতে ব্রণ বা র্যাশ দেখা দিতে পারে। তাই হালকা মেকআপই সবচেয়ে ভালো। যেমন-
ভারী ফাউন্ডেশনের বদলে বিবি ক্রিম বা টিনটেড ময়েশ্চারাইজার।
- হালকা লিপ টিন্ট।
- লিকুইড মেকআপ পণ্য।
ত্বককে যতটা পারবেন হালকা রাখুন। তাহলেই বরং আপনাকে সুন্দর দেখাবে।
পর্যাপ্ত পানি পান করুন
ত্বক ভিতর থেকে ভালো রাখতে হলে পানির কোনো বিকল্প নেই। প্রতিদিন অন্তত ৮ গ্লাস পানি খাওয়ার চেষ্টা করুন। পানি শরীর থেকে টক্সিন বের করে দেয় এবং ত্বক রাখে আর্দ্র ও ঝলমলে।
বর্ষাকালে খেতে পারেন বেশি পানিযুক্ত ফল-মূল। যেমন- তরমুজ, কমলা বা শসা। এই খাবারগুলো ত্বকে প্রাকৃতিক জেল্লা আনতে সাহায্য করে।
খাবারে সচেতনতা জরুরি
ত্বক সুন্দর রাখার পেছনে খাবারের বড় ভূমিকা রয়েছে। তাই খাবারের তালিকায় রাখতে পারেন বিভিন্ন রঙের ফল ও সবজি, বাদাম ও বীজ, দুধ ও দই। অন্যদিকে, চিনি ও তেলযুক্ত খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন। এগুলো ত্বকের ছিদ্র বন্ধ করে দিয়ে ব্রণ, ফুসকুড়ি বাড়ায়।
- খেয়াল রাখবেন এসব বিষয়ও
- ভেজা মুখ নিয়ে কখনও বাইরে যাবেন না।
- মুখ তোয়ালে দিয়ে ঘষে মুছবেন না, হালকা ট্যাপ করে মুছুন।
- রাতে ঘুমানোর আগে ত্বক পরিষ্কার করে তবেই ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন।
বর্ষা মানেই শুধু বৃষ্টি নয়, বরং ত্বকের যত্ন নেওয়ার সময়। এই সময়ে একটু বাড়তি খেয়াল রাখলেই আপনার ত্বক থাকবে উজ্জ্বল, পরিষ্কার ও প্রাণবন্ত। মনে রাখবেন, ত্বককে ভালোবাসুন, যত্ন নিন নিয়ম করে। তবেই ত্বক আপনাকে ফিরিয়ে দেবে তার সৌন্দর্যের উপহার।


মেকআপ ঠিক রেখেই কীভাবে লাগাবেন সানস্ক্রিন, জেনে নিন
ত্বকের যত্নে প্রাকৃতিক সমাধান অ্যালোভেরা
