বিমান ভ্রমণের আগে অনেক যাত্রীর মনেই প্রশ্ন জাগে, কী নেওয়া যাবে, কী ফেলে যেতে হবে, কতটা নেওয়া যাবে। বিশেষ করে পারফিউম, লোশন বা কোলোনের মতো তরল জিনিসপত্র নিয়ে অনেকে দ্বিধায় পড়েন। তবে যেকোনো আন্তর্জাতিক বা অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটেই এ ধরনের পণ্য হাতে বহন করার জন্য রয়েছে নির্দিষ্ট কিছু বিধিনিষেধ।
আন্তর্জাতিক উড়োজাহাজ সংস্থা (আইএটিএ)-এর নিয়ম অনুযায়ী, ক্যাবিন ব্যাগে পারফিউম নেওয়া যাবে ঠিকই, তবে সেটা হতে হবে ১০০ মিলিলিটার বা তার কম পরিমাণের। শুধু পারফিউম নয়, যেকোনো তরল, জেল বা লোশন নিতে হলে তা রাখতে হবে একটি স্বচ্ছ, পুনরায় সিলযোগ্য প্লাস্টিক ব্যাগে, যার সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা ১ লিটার।
এই নিয়ম এত কঠোর কেন? এর পেছনে রয়েছে বিজ্ঞানসম্মত ব্যাখ্যা। পারফিউম অত্যন্ত দাহ্য, অর্থাৎ এতে সহজেই আগুন ধরে যেতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, একটি ছোট আগুনের সামনে পারফিউম স্প্রে করলে তা মুহূর্তেই বড় অগ্নিকাণ্ডের রূপ নিতে পারে। বিমানের ভেতরে যদি কোনোভাবে আগুন লাগে এবং আশপাশে বেশি পরিমাণে পারফিউম থাকে, তাহলে আগুন আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।
এমন ঝুঁকি এড়াতেই কেবিন ব্যাগে পারফিউম নেওয়ার পরিমাণ সীমিত রাখা হয়েছে। তবে লাগেজে (চেক-ইন ব্যাগে) তুলনামূলক বেশি পরিমাণে পারফিউম নেওয়ার অনুমতি রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ট্রান্সপোর্টেশন সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (টিএসএ)-এর দেওয়া ‘৩-১-১ লিকুইডস রুল’ এখন বিশ্বের বেশিরভাগ এয়ারপোর্টেই অনুসরণ করা হয়। এই নিয়ম অনুযায়ী, যাত্রীরা সর্বোচ্চ ১০০ মিলিলিটার করে তরল বহন করতে পারবেন। সব বোতল রাখতে হবে এক লিটারের একটি প্লাস্টিক ব্যাগে। আর একজন যাত্রী সর্বোচ্চ একটি ব্যাগ বহন করতে পারবেন। কিছু কিছু এয়ারলাইনে নিরাপত্তা চেক-ইনের সময় এসব আলাদা করে দেখাতে বলা হয়। নির্ধারিত সীমার বেশি হলে লাগেজে দিতে হবে কিংবা এয়ারপোর্টেই ফেলে যেতে হবে।
তবে একটু সচেতন হলেই এই জটিলতা এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব। ভ্রমণের জন্য ছোট আকারের ট্রাভেল সাইজ পারফিউম বেছে নেওয়া যেতে পারে। চাইলে সলিড পারফিউম বা রোল-অনও ব্যবহার করতে পারেন। আর যদি সম্ভব হয়, তবে গন্তব্যস্থলে পৌঁছে পারফিউম কেনাও একটা সহজ সমাধান।
তথ্যসূত্র: টাইমস নাউ


এই গরমে রোড ট্রিপে যাচ্ছেন? সঙ্গে যা যা রাখবেন
ভ্রমণে যাবেন? এই ট্রাভেল হ্যাকগুলো আপনার জন্যই
