ঈদের সকাল মানেই আনন্দ আর প্রার্থনার বিশেষ মুহূর্ত। আর সেই আনন্দ যদি হয় আল-আকসা মসজিদের প্রাঙ্গণে। তবে তার আবহ আলাদা এক অনুভূতি তৈরি করে। প্রতি বছর হাজারো মানুষ ভোর থেকেই এখানে জড়ো হন। একে অন্যকে শুভেচ্ছা জানান, প্রার্থনায় অংশ নেন। পুরো এলাকা যেন উৎসবের রঙে রঙিন হয়ে ওঠে।
কিন্তু এবার সেই চিরচেনা দৃশ্য দেখা যায়নি। প্রায় ৬০ বছরের মধ্যে এই প্রথম ঈদের নামাজের জন্য পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছে আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণ। ১৯৬৭ সালের সিক্স ডে ওয়ারের পর এমন ঘটনা আর ঘটেনি। এই বন্ধের ঘটনা বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ আল-আকসা?
আল-আকসা মসজিদ অবস্থিত পবিত্র হারাম আল-শরিফ প্রাঙ্গণে। যাকে ‘নোবেল স্যাংচুয়ারি’ নামেও ডাকা হয়। ইসলাম ধর্মে এটি তৃতীয় পবিত্রতম স্থান। শত শত বছর ধরে এটি মুসলমানদের ইবাদত ও তীর্থস্থানের কেন্দ্র।
ঈদের দিন এখানে যে পরিবেশ তৈরি হয়। শুধু ধর্মীয় নয়, এটি এক ধরনের সাংস্কৃতিক মিলনমেলাও। পুরোনো শহরের সরু রাস্তায় পরিবারগুলো হেঁটে আসে, দোকানপাট ভোরেই খুলে যায়। আর চারপাশে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে।
‘আল-আকসা’ নামের অর্থ ‘দূরবর্তী মসজিদ’। ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সাঃ) ইসরা ও মিরাজের সময় এই স্থান সফর করেছিলেন। এই ঘটনাটি মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র ও তাৎপর্যপূর্ণ।
প্রায় ৩৫ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত এই কমপ্লেক্সে রয়েছে নামাজের স্থান। এছাড়াও রয়েছে খোলা প্রাঙ্গণ, ঐতিহাসিক স্থাপনা ও ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এর কাছেই রয়েছে বিখ্যাত ডোম অব দ্য রক। যার সোনালি গম্বুজ বিশ্বজুড়ে পরিচিত একটি স্থাপনা।
বন্ধ থাকার প্রভাব কী?
আল-আকসা শুধু একটি মসজিদ নয়। এটি কোটি মানুষের বিশ্বাস, ইতিহাস ও পরিচয়ের প্রতীক। তাই এর দরজা বন্ধ থাকলে প্রভাব পড়ে পুরো বিশ্বের মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর।
ঈদের মতো গুরুত্বপূর্ণ দিনে সেখানে যেতে না পারা অনেকের জন্য গভীর মানসিক ও ধর্মীয় কষ্টের কারণ। একই সঙ্গে এটি দেখায়, কীভাবে একটি ঐতিহাসিক শহরে ধর্ম, রাজনীতি ও সংস্কৃতি একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে আছে।
এই কারণেই আল-আকসা মসজিদের প্রতিটি ঘটনা শুধু স্থানীয় নয়, বরং বৈশ্বিক গুরুত্ব বহন করে।



