সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের দাবিতে বিভিন্ন জেলায় মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছে শিক্ষার্থীরা। সোমবার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগ থেকে সাইন্সল্যাব পর্যন্ত সড়ক অবরুদ্ধ করে শিক্ষার্থীরা। অবরোধের কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
এর আগে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে তারা। কোটা ব্যবস্থা বাতিলের দাবিতে ৬৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছেন শিক্ষার্থীরা। ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ ব্যানারে এই আন্দোলন চলছে।
এদিকে, রাজশাহীতে বিশ্ববিদ্যালয়ে চলছে রেলপথ অবরোধ। সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন শিক্ষার্থীরা। একই দাবিতে ময়নসিংহে দেড় ঘণ্টার জন্য রেলপথ অবরোধ করে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
এদিকে বিকেলে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এর আগে সকালে বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা। এছাড়া, ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা
গতকালও পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নেয় শিক্ষার্থীরা। রাজধানী ছাড়াও দেশের বিভিন্ন এলাকায়ও একই কর্মসূচি পালন করা হয়। শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে তীব্র যানজট তৈরি হয়। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন রাজধানীর বাসিন্দারা। পরে রোববারের মতো সোমবারও সড়ক অবরোধের ঘোষণা দিয়ে রাত ৮টায় শাহবাগ ছাড়েন শিক্ষার্থীরা। তারা বলছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ক্লাস-পরীক্ষায় অংশ নেবেন না তারা। কোটা বাতিলের দাবিতে ৭ তম দিনের মতো আজও রাজপথে আছেন শিক্ষার্থীরা।
এদিকে, ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এসময় মহাসড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়। দেড় ঘণ্টা পর আন্দোলকারীরা অবরোধ তুলে নিলে স্বাভাবিক হয় যান চলাচল। এ সময় শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, সরকারি চাকরিতে মেধা ভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। নইলে চলমান এ আন্দোলন আরও কঠোরভাবে চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণাও দেন তারা।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিধি-১ শাখা নবম গ্রেড এবং ১০ম থেকে ১৩তম গ্রেড পর্যন্ত সরাসরি নিয়োগে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল করে একটি পরিপত্র জারি করা করে। নারী কোটা ১০ শতাংশ, মুক্তিযোদ্ধা কোটা ৩০ শতাংশ এবং জেলা কোটা ১০ শতাংশ বাতিল করে এ পরিপত্র জারি করা হয়।
পরে ওই পরিপত্র চ্যালেঞ্জ করে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও প্রজন্ম কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সভাপতি অহিদুল ইসলাম তুষারসহ সাতজন হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করেন। ওই রিটের শুনানি শেষে গত ৫ জুন সরকারের জারি করা পরিপত্র অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেয় হাইকোর্ট। সরকারি চাকরিতে আবারও কোটা ফিরে আসে।
বিষয়টি আপিলে গেলে গত ৯ জুন হাইকোর্টের রায় বহাল রেখে বিষয়টি আপিল বিভাগের বেঞ্চে শুনানীর জন্য পাঠান চেম্বার বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম। ৪ জুলাই আপিল বেঞ্চ জানায়, হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর মামলাটির শুনানি শুরু হবে। মূলত এরপর থেকেই আবারও কোটা সংস্কারের দাবিতে জোর আন্দোলন শুরু করেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।



