গাজীপুরের কাপাসিয়ায় অবস্থিত সরকারি শহিদ তাজউদ্দীন আহমদ ডিগ্রি কলেজের নাম পরিবর্তন নিয়ে সমালোচনার মধ্যেই এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরওয়ার ফারুকী। সোমবার বিকেলে দেওয়া এই পোস্টে শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরারের বরাত দিয়ে তিনি উল্লেখ করেছেন, কলেজটির নাম অপরিবর্তিত রাখতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
দেশের ৩৭ জেলার ৬৮টি সরকারি কলেজের নাম পরিবর্তন করে গত ২৮ মে প্রজ্ঞাপন জারি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ। যার মধ্যে রয়েছে গাজীপুরের কাপাসিয়ায় অবস্থিত সরকারি শহিদ তাজউদ্দীন আহমদ ডিগ্রি কলেজের নাম। বর্তমানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির নতুন নাম ‘কাপাসিয়া সরকারি ডিগ্রি কলেজ’। বিষয়টি নিয়ে তাজউদ্দীন আহমেদের ছেলে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তানজিম আহমেদ সোহেল তাজসহ অনেকে সমালোচনা করেছেন।
নিজের ভরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে মোস্তফা সরওয়ার ফারুকি লেখেন– ‘গত কয়দিন সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই তাজউদ্দীন আহমদ কলেজের নাম পরিবর্তন বিষয়ে আমাকে ট্যাগ করে পোস্ট দিয়েছেন, যদিও এটা আমার মন্ত্রণালয়ের বিষয় না। মন্ত্রণালয়ের কাজে ট্যুরে থাকায় এই বিষয়ে মনোযোগ দিতে পারি নাই। আজকে শিক্ষা উপদেষ্টা আবরার ভাইয়ের সাথে এই বিষয়ে কথা বলার সুযোগ হয়। উনি স্পষ্ট বলেছেন, তাজউদ্দীন আহমদ ডিগ্রি কলেজের নাম পরিবর্তন না করার জন্য ইতিমধ্যেই নির্দেশনা দিয়েছেন। এটা প্রক্রিয়াধীন আছে।’
ফেসবুক পোস্টে সংস্কৃতি উপদেষ্টা উল্লখ করেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ আমাদের জাতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। মুক্তিযুদ্ধের নায়কদের ব্যাপারে আমাদের শ্রদ্ধাও সেইরকমই। মুক্তিযুদ্ধ এবং জুলাই কোনো বিপরীতধর্মী বিষয় না। যে গণতান্ত্রিক, জুলুমহীন, সার্বভৌম বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল, সেটা বাস্তবায়ন হয় নাই বলেই জুলাই এসেছিল এই বাংলাদেশে। ফলে যারা মুক্তিযুদ্ধ আর জুলাইকে মুখোমুখি দাঁড় করাতে চায় তাদের উদ্দেশ্যই হলো মুক্তিযুদ্ধের আড়াল নিয়ে ১৬ বছরের অপকর্ম ঢাকা। কিন্তু সত্য হলো এই- মুক্তিযুদ্ধের চাদরে ঢাকা যাবে না গুমের শিকার শত শত পরিবারের আহাজারি, বিডিআর কার্নেজ, ব্যাংক লুট, ভোট গুম, আর হাজারে হাজার সরকারি খুন।’
প্রসঙ্গত, তাজউদ্দীন আহমেদ ডিগ্রি কলেজের নাম পরিবর্তনের বিষয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তানজিম আহমেদ সোহেল তাজ গত ২৯ মে দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট করেন।
সোহেল তাজ লেখেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে আমার কিছু বলার নাই। কারণ, আমার বাবা এবং মা এই দেশ এবং এই দেশের মানুষকে অনেক ভালোবাসতেন। আর তাই এই দেশের জন্য অনেক ত্যাগ করেছেন কিছু পাওয়ার জন্য না- তাই ওনাদের কর্মের স্বীকৃতি এই দেশ কোনোদিন যদি নাও দেয়- ইটস ওকে। বাংলাদেশ ভাল থাকলেই হল।’
কলেজের একজন প্রাক্তন ছাত্র হিসেবে নিজের অনুভূতি জানিয়ে সোহেল তাজ আরও লেখেন, ‘‘মুছে যাক আমার নাম, তবু বেঁচে থাকুক বাংলাদেশ’- তাজউদ্দীন আহমদ। শহীদ বঙ্গতাজ তাজউদ্দীন আহমদ আমাদের কাপাসিয়ার গর্ব ও অহংকারের নাম! বঙ্গতাজ তাজউদ্দীন আহমদ সাহেবের পরিবার এবং ব্রিগেডিয়ার হান্নান শাহ্ সাহেবের পরিবার এটা আমাদের কাপাসিয়ার ঐতিহ্য।’’



