সরকার জানিয়েছে, মিসইনফরমেশন, প্রোপাগান্ডা এবং এসবকে কেন্দ্র করে চরিত্রহননের বাইরে দেশের কোনো পত্রিকার সংবাদ, সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত পোস্ট, ভিডিও কনটেন্ট, রিলস, অনলাইন আর্টিকেল কিংবা কোনো রাজনৈতিক সমালোচনামূলক কনটেন্ট সরাতে সরকার কখনো কোনো প্ল্যাটফর্মকে অনুরোধ জানায়নি। আজ শুক্রবার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, মিসইনফরমেশন, প্রোপাগান্ডা এবং চরিত্রহনন–কেন্দ্রিক বেআইনি মানহানিকর তথ্য অপসারণের অনুরোধ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির মাধ্যমে বিটিআরসিতে যায়।
বর্তমান সরকার সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ন্ত্রণে আওয়ামী লীগের সিআরআই বা এ ধরনের কোনো বটবাহিনী পরিচালনা করে—এ দাবি সঠিক নয় বলে উল্লেখ করা হয়। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বিটিআরসি বা এনটিএমসিসহ বাংলাদেশের কোনো সংস্থা সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের কনটেন্ট ডাউন করার ক্ষমতা রাখে না; সেজন্য প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মকে অনুরোধ জানাতে হয়।
গুগলের জানুয়ারি–জুন ২০২৫ ট্রান্সপারেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, এ সময়ে বাংলাদেশ থেকে মোট ২৭৯টি অনুরোধ পাঠানো হয়েছে। যা আওয়ামী লীগ সরকারের জুন–ডিসেম্বর ২০২২ সময়কার ৮৬৭টি অনুরোধের এক-তৃতীয়াংশেরও কম।
তার আগের ছয় মাস, অর্থাৎ জুলাই–ডিসেম্বর ২০২৪-এ পাঠানো হয় মাত্র ১৫৩টি অনুরোধ—যা আওয়ামী লীগ আমলের সর্বোচ্চ সংখ্যার প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ। এমনকি আওয়ামী আমলের সর্বনিম্ন সংখ্যক অনুরোধ (জুন–ডিসেম্বর ২০২৩-এর ৫৯১টি) এরও অর্ধেকের কম।
রিপোর্ট অনুযায়ী, এসব অনুরোধের প্রায় ৬৫ শতাংশের ক্ষেত্রে ‘নট এনাফ ইনফরমেশন’ মন্তব্য এসেছে, অর্থাৎ এগুলোর বেশিরভাগই বিশেষ উদ্দেশ্যপূর্ণ ছিল না।
বিবৃতিতে বলা হয়, জানুয়ারি–জুন ২০২৫ সময়ে বাংলাদেশ ভেতর ও বাইরে থেকে অনাকাঙ্ক্ষিত হারে মিসইনফরমেশন ক্যাম্পেইনের শিকার হয়। বিশেষত প্রতিবেশী দেশের একটি অংশের মিডিয়ায় বাংলাদেশবিরোধী প্রচারণা চলতে থাকে। এসবের বিরুদ্ধে রিপোর্ট করতে সরকারকে গুগলকে বিভিন্ন তথ্য দিতে হয়েছে।
একইসঙ্গে উল্লেখ করা হয়, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ার পর এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার শুরু হলে দলটি সাইবার স্পেসে সরকার ও দেশের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক মিসইনফো প্রচার শুরু করে।
দেশের সাইবার স্পেসকে নিরাপদ রাখা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষার অংশ হিসেবে সরকার প্ল্যাটফর্মগুলোকে নিয়মিত কিছু দায়িত্বশীল রিপোর্ট দিয়েছে। পাশাপাশি অনলাইন জুয়া ও গ্যাম্বলিং সংক্রান্ত টেকডাউন রিকোয়েস্টও করা হয়েছে।
সরকার দাবি করেছে, আন্তর্জাতিক সূচকে বাংলাদেশের বাকস্বাধীনতা ও ইন্টারনেট স্বাধীনতায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। বিশেষ করে ফ্রিডম হাউসের ‘ফ্রিডম অন দ্য নেট–২০২৫’ রিপোর্টে জানানো হয়েছে—ইন্টারনেট স্বাধীনতায় বাংলাদেশ বিশ্বের মধ্যে সর্বোচ্চ অগ্রগতি অর্জনকারী দেশ।
স্কোর গত বছরের ৪০ থেকে বেড়ে ৪৫-এ উন্নীত হয়েছে—সাত বছরে সর্বোচ্চ অগ্রগতি। রিপোর্টে বলা হয়, ২০২৪ সালের আগস্টে শিক্ষার্থী নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের পর দমনমূলক সরকার অপসারিত হওয়া এবং অন্তর্বর্তী সরকারের ইতিবাচক পদক্ষেপের ফলে এই উন্নতি হয়েছে।



