অস্ট্রেলিয়ার ভিসা বাতিলের বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে ওঠা আলোচনার বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ। আজ সোমবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এ বিষয়ে তাঁর বিস্তারিত বক্তব্য তুলে ধরেন।
শায়খ আহমাদুল্লাহ জানান, প্রবাসী বাংলাদেশিদের আমন্ত্রণে গত সপ্তাহে তিনি অস্ট্রেলিয়ায় একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন। জরুরি কাজে গত শনিবার দেশে ফিরে আসার পর আজ (সোমবার) সকালে তিনি জানতে পারেন যে, তাঁর অস্ট্রেলীয় ভিসাটি বাতিল করা হয়েছে।
ভিসা বাতিলের আনুষ্ঠানিক চিঠিটিকে ফরমাল লেটার বলে পোস্টে উল্লেখ করেন তিনি। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আবেদনকারী যে উদ্দেশ্যে অস্ট্রেলিয়া এসেছিলেন, তা ইতোমধ্যে সম্পন্ন করে তিনি ফিরে গেছেন। তাই ভিসার প্রয়োজনীয়তা আর অবশিষ্ট নেই।
আহমাদুল্লাহ জানান, বিভিন্ন মিডিয়ায় বিষয়টি যেভাবে মুখরোচক করে প্রচার করা হচ্ছে, চিঠিতে তেমন কিছু নেই।
এর পেছনে অস্ট্রেলিয়ার কয়েকজন বিরোধী রাজনীতিক ও ইসলামবিদ্বেষী মহলের প্রচারণাকে দায়ী করেছেন তিনি। শায়খ আহমাদুল্লাহর মতে, কিছু চিহ্নিত ইসলাম বিদ্বেষী তাঁর বক্তব্যের খণ্ডিত অংশ এবং বিকৃত অনুবাদ সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দিয়েছে। এর ফলে ভিসা কর্তৃপক্ষ প্রভাবিত হয়ে থাকতে পারেন বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
আহমাদুল্লাহ বলেন, ‘যেকোনো অভিযোগ আমলে নেওয়ার পূর্বে সঠিক তথ্য যাচাই-বাছাই এবং ন্যায্যতা ও নিরপেক্ষতা প্রতিফলিত হওয়া প্রয়োজন।’
পুরো বিষয়টির পেছনে একটি আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিয়ে তিনি জানান, গত জানুয়ারি মাসে ইসলামোফোবিক কনটেন্ট তৈরির অভিযোগে সামি ইয়াহুদ নামে একজন ইসরায়েলি ইনফ্লুয়েন্সারের ভিসা বাতিল করেছিল অস্ট্রেলিয়া সরকার। সেই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় শক্তিশালী ইসরায়েলি লবির চাপের মুখে তাঁর বিরুদ্ধে এই প্রচারণা চালানো হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন।
পোস্টের শেষে তিনি লিখেছেন, ‘কোনো ধর্ম, জাতি বা গোষ্ঠীর প্রতি আমাদের ব্যক্তিগত কোনো বিদ্বেষ নেই। বরং বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের প্রতি যেকোনো বিচ্ছিন্ন অন্যায় আচরণেরও আমরা বিরোধিতা করি।’
উল্লেখ্য, গত বছরও তিনি সিডনিতে বাংলাদেশি কমিউনিটির অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন বলে পোস্টে উল্লেখ করেন আহমাদুল্লাহ।
এদিকে গতকালই বাংলাদেশের আরেক পরিচিত ইসলামিক বক্তা মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারীর ভিসা বাতিল করেছে অস্ট্রেলিয়া। তার বিরুদ্ধে ইহুদিবিদ্বেষী ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ আনে দেশটি।



