গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় বৃহস্পতিবার। এই রায় ঘোষণা করবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও রংপুরের পুলিশ কমিশনারসহ মোট আসামি ৩০ জন। প্রসিকিউশন জানায়, ট্রাইব্যুনালে সবচেয়ে বেশি আসামি এই মামলায়। পর্যাপ্ত তথ্য উপাত্ত দিয়ে তাঁদের অপরাধ প্রমাণ করতে পারায় যথাযথ সাজা হবে বলে আশা করছে রাষ্ট্রপক্ষ।
২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রংপুরে শহীদ হওয়ার আগে পুলিশের গুলির সামনে আবু সাঈদের বুক পেতে দাঁড়ানোর এই দৃশ্য এখন প্রতিরোধের প্রতীকী ছবি।
রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ছাত্র ছিলেন আবু সাঈদ। তাঁর হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ৩০ আসামির বিরুদ্ধে গত বছরের ৬ আগস্ট অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় বিচার।
মামলার প্রধান আসামি বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সে-সময়ের উপাচার্য ড. হাসিবুর রশিদ। তালিকায় আরও আছেন চার শিক্ষক, আরএমপির সাবেক কমিশনার মনিরুজ্জামানসহ আট পুলিশ, ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী। এদের মধ্যে এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার মাত্র ছয়জন। ৫ মাস ২০ দিনের বিচারিক কার্যক্রম শেষ হয় গত ২৭ জানুয়ারি। মামলায় সাক্ষ্য দেন ২৫ জন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আবু সাঈদের হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি জাতিসংঘের রিপোর্টে উঠে আসে। তদন্তে সন্দেহাতীতভাবে আমরা এটির অকাট্য প্রমাণ পেয়েছি। যাদেরকে আমরা বিচারের সম্মুখীন করেছি, যেহেতু মামলা প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি তাই আমরা বিশ্বাস করি এখানে আমরা আশানুরুপ রায় পাব।’
আসামিপক্ষের দাবি, আবু সাঈদ পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন, তা প্রমাণ করতে পারেনি রাষ্ট্রপক্ষ। মাথার পেছনে আঘাতে মৃত্যু হয় তাঁর। এ ছাড়া ঘাটতি ছিল আরও তথ্য প্রমাণের।
আসামি পুলিশের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু বলেন, ‘যে ছয়জন পুলিশ কর্মকর্তা আবু সাঈদের মাথায় লাঠিচার্জ করেছেন, এর মধ্যে পাঁচজনকে বাদ দিয়েই রিপোর্ট দাখিল করা হয়েছে। মরদেহে কোনো গুলির গর্ত না থাকা এবং গুলির কার্তুজের কোনো অংশবিশেষের উপস্থিতি না থাকা ইত্যাদি কারণে আসামীগণ বেকসুর খালাস পাবেন।’
আবু সাঈদ হত্যায় ঊর্ধ্বতন নির্দেশদাতা হিসেবে এরই মধ্যে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামানকে যাবজ্জীবন সাজা দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল–১। আর কাল ট্রাইব্যুনাল দুইয়ের রায়ে জানা যাবে সরাসরি হত্যা দায় আসলে কাদের।



