সীতাকুণ্ডের শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে একসঙ্গে ৯ শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় আবারো সামনে এসেছে নিরাপত্তার ভয়াবহ চিত্র। মেয়াদ শেষ হওয়া একটি জাহাজ কাটতে গিয়ে বিষক্রিয়ায় প্রাণ হারিয়েছেন তারা। মাত্র কিছু দিন আগেই নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ত্রুটি থাকায় ফেরদৌস শিপ ইয়ার্ডের বিরুদ্ধে মামলা করেছে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা। এরপরও কেন ঝুঁকিপূর্ণ কার্যক্রম বন্ধ হয়নি- তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
উল্লেখ্য, ২৫ বছরের পুরনো জাহাজ এমটি রাসি। ২৮০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৪৩ মিটার প্রস্থের জাহাজটি এলএনজি পরিবহনে ব্যবহার করা হতো। গত বছরের জুলাইয়ে এটি আনা হয় সীতাকুণ্ডের ফেরদৌস স্টিল শিপ ইয়ার্ডে। প্রায় ১ বছর ধরে জাহাজটি কাটা হচ্ছিল। শুক্রবার কাজের সময় বিষক্রিয়ায় মৃত্যু হয় কর্মরত শ্রমিকদের।
এতো প্রাণহানির পর প্রশ্ন উঠেছে ইয়ার্ড ও শ্রমিকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে। গ্রিন সনদ পাওয়া ফেরদৌস শিপ ইয়ার্ডের নিরাপত্তা ত্রুটি খুঁজে পায় কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর। গত মাসে শ্রম আদালতে মামলাও হয় প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে।
কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপ মহাপরিদর্শক মোহাম্মদ মাহবুবুল হাসান মুঠোফোনে জানান, 'আমরা তাদের সাথে মিটিং করেছি, আলোচনা করেছি। পরবর্তীতে তাদেরকে একটি নোটিশ দেওয়া হয়। মালিক ও শ্রমিক উভয় পক্ষকেই মোটিভেট করা হয় যে, এই কাজগুলো করতে হবে, কারণ এটা একটা শিল্প ইন্ডাস্ট্রি। এর পরবর্তীতে আবার যখন গিয়েছি, সে (এগুলো) বাস্তবায়ন করে নাই, তখন আবার তাকে বোঝানো হয়েছে, কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।'
শ্রমিকদের অভিযোগ, নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে ছুটির দিনে জোর করে কাজ করানোর কারণেই এতো প্রাণহানি। তাদেরই একজন বলেন, মাঝে মাঝে জোর করে শুক্রবারেও কাজে নামায়, যদি না নামায় তাহলে শনিবার গিয়ে অ্যাবসেন্ট দিয়ে দেয়।
শিপ ব্রেকিং শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক কে এম শহীদ উল্ল্যাহ জানান, যেকোনো জাহাজ কাটার জন্য অনুমতি লাগে এবং সেজন্য বিভিন্ন দপ্তরের লোকজন সেটা পরিদর্শনে আসে। কিন্তু সেখানে কোনো শ্রমিক প্রতিনিধির পরিদর্শনের সুযোগ নাই। শুধুমাত্র উনারাই পরিদর্শন করবে।
প্রতিষ্ঠানটির সব নিরাপত্তা সনদ ও ছাড়পত্র নেয়া ছিলো বলে দাবি শিপ ব্রেকিং আ্যাসোসিয়েশনের নেতার। দুর্ঘটনায় শ্রমিক-মালিক দুইপক্ষের দায় রয়েছে বলেও মত তার।
শিপ ব্রেকার্স অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক আমজাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, 'আমাদের শ্রমিক পক্ষ, মালিক পক্ষ উভয়েরই দায় থাকে অনেক সময়। শ্রমিকরা অনেক সময় সাবধানতা অবলম্বন না করে কাজ করে, সেজন্য দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আবার কোনো কোনো মালিক পক্ষ থেকেও ল্যাপস থাকতে পারে।'
উল্লেখ্য, সীতাকুণ্ডে শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডগুলোতে ৩ বছরে দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ১৮ জনের।



