বন্যার ক্ষতি কিছুটা কাটিয়ে উঠতে দেশের হাওরাঞ্চল ও উপকূলীয় এলাকায় বিশেষ জাতের ধানের বীজ অবমুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী, মৎস ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আমিনুর রশিদ ইয়াছিন। শনিবার কুমিল্লা সার্কিট হাউজে কৃষি মন্ত্রণালয় এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, বন্যার ক্ষতি কমাতে হাওরাঞ্চলে আগাম জাতের বিরি-১১৮ জাতের ধান অবমুক্ত করা হবে। যে ধান আগে রোপন করে আগেই ফলন তোলা সম্ভব। তাই এই মৌসুমে ৩০ টন বীজ হাওরাঞ্চলে সরবরাহ করা হবে, পরের মৌসুমে যেন বীজের কোনো সঙ্কট না হয়। এছাড়া স্যালাইন টলারেন্স জাতের ধান উপকূলীয় অঞ্চলে অবমুক্ত করা হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে অসময়ে বৃষ্টিপাত, বন্যা ও খরা হচ্ছে। তাই, আগামী মৌসুমে হাওড় অঞ্চলের কৃষকদের জন্য বিরি–১১৮ জাতের নতুন ধানের বীজ সরবরাহের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রথম ধাপে ৩০ টন বিজ বিতরণ করা হবে। নতুন উদ্ভাবিত এসব জাতের ধান শীতল আবহাওয়াতেও সহজে অঙ্কুরোদগম করতে সক্ষম হবে। ফলে প্রতিকূল আবহাওয়া কিংবা শীতের কারণে ফসলের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা কমবে। একই সঙ্গে আকস্মিক বন্যা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষতি মোকাবিলায় কৃষকরা আরও সক্ষম হবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
আমিনুর রশিদ ইয়াছিন বলেন, এছাড়া, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কৃষি জমিতে লবনাক্ততা ছড়িয়ে পড়ছে। উপকূলীয় এলাকার কৃষকদের জন্য লবণাক্ততা সহনশীল নতুন জাতের ধানের বীজ উদ্ভাবনে সরকার কাজ করছে। এসব জাতের ধান লবণাক্ত পরিবেশেও ভালো ফলন দেবে। এর ফলে উপকূলীয় অঞ্চলে কৃষি উৎপাদন বাড়বে এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন কৃষি অধিদপ্তর খামার বাড়ির সরেজমিন উইংয়ের পরিচালক মো. ওবায়দুর রহমান মন্ডল, পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ও আইসিটি উইংয়ের পরিচালক মো. রওশন আলম, কৃষি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম, কুমিল্লা জেলা প্রশাসক রোজি আক্তারসহ কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন কুমিল্লা জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন দপ্তর এবং সংস্থার কর্মকর্তারা।



