সেকশন

রোববার, ২৩ জুন ২০২৪, ৯ আষাঢ় ১৪৩১
Independent Television
ad
ad
 

লেগুনা–সিএনজি–বাসে, ঢাকার জীবন কাটে ত্রাসে!

আপডেট : ২১ মে ২০২৪, ১১:১২ এএম

যাত্রীবাহী বাস চলছিল রাস্তার মাঝ বরাবর। চলতে চলতে হঠাৎ কি হলো, কথা নেই বার্তা নেই, বাতি জ্বালিয়ে সংকেত দেওয়া নেই, চালক বাসটিকে চাপাতে থাকলেন রাস্তার বামে। ওদিকে রাস্তার বামের লেনে ছিল ধীর গতির যান রিকশা, বাইসাইকেল। এদের সবার যাওয়ার পথ আটকে দিল বাসের সামনের অংশটি। আর বাসের পেছনের অংশের কারণে আটকে গেল এর পেছনে থাকা সকল ধরনের যানবাহনের গতিপথ, ব্রেক কষতে হলো কষে।

কী ভাবছেন? রাস্তাঘাটের কোনো জরুরি পরিস্থিতির কথা? না, না। এক যাত্রী রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে স্রেফ হাত তুলেছিলেন যাওয়ার জন্য। ওমনি পুরো বাস রাস্তায় থাকা সবাইকে আটকে এভাবেই দাঁড়িয়ে গিয়েছিল। সেই জট ছুটতে লেগেছিল প্রায় ২০ মিনিট।

ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে এই ঘটনার উল্লেখ করলেও, এমনটা রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন সড়কে অহরহ ঘটে। এতে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কাও তৈরি হয়। দুর্ঘটনা ঘটেও প্রায় সময়। কারও কারও প্রাণটাও যায়। তবে ঢাকার সড়কের এমন আদি–অকৃত্রিম চরিত্রের কোনো পরিবর্তন হয় না। এর সঙ্গে আছে আবার বাসের চালক ও চালকের সহকারীর অযাচিত ব্যবহার এবং বাসভাড়ার ন্যায্যতার প্রসঙ্গে। সেরের ওপর সোয়া সেরের মতো এসবের সাথে যদি ঢাকার সড়কে চলা সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও লেগুনার বিষয়টিও যুক্ত করা হয়, তবে অসহায় কণ্ঠে উচ্চারণ করতেই হবে যে—‘লেগুনা–সিএনজি–বাসে, ঢাকার জীবন কাটে ত্রাসে!’

ত্রাসের মাত্রা কতটা, সেটি নিশ্চয়ই ওপরের ঘটনার বর্ণনায় বোঝা গেছে ভালোমতোই। আমরা যারা বিত্তের হিসাবে নিম্ন ও মধ্য নামের গোত্রভুক্ত, তারা মাত্রই এ সম্পর্কে ওয়াকিবহাল। বাসের ভাড়ার হিসাব করতে বসলে দেখবেন, ভাড়ার ন্যায্যতা কিংবা বাসের চালক ও তার সহকারীর আচরণের প্রতিবাদ করা বা সে ব্যাপারে প্রশ্ন তোলা মানেই হলো যেচে ঝামেলায় জড়ানো। এর ফলাফল হিসেবে যেমন আপনার বাক্যক্ষয় হবে, তেমনি শারীরিকভাবেও আক্রমণের শিকার হতে পারেন। আর গালিগালাজ তো আছেই। ঢাকায় পা রাখা ইস্তক প্রায় ১৬/১৭ বছর ধরে এই শহরের যাত্রীবাহী বাসগুলোর এসব সমস্যা প্রত্যক্ষ করা হচ্ছে। কোনো পরিবর্তন এখন পর্যন্ত চক্ষুগোচর হয়নি। উল্টো দিনকে দিন এসবের তীব্রতা যেন বাড়ছেই।

একই অবস্থা সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও লেগুনার ক্ষেত্রেও। সংবাদমাধ্যমের সাম্প্রতিক খবরে প্রকাশ,  গণপরিবহন সংকটের সুযোগে যাত্রীদের কাছ থেকে ইচ্ছামতো ভাড়া আদায় করছে সিএনজিচালিত অটোরিকশাগুলো। মিটার থাকলেও তা চালানো হচ্ছে কেবলই মামলার ভয়ে। অর্থাৎ, ধরা না খেলে মিটার চলে না। ফলে যাত্রীকে ভাড়া মেটাতে হয় চুক্তিতেই। এসব দেখভালের জন্য রয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ও ট্রাফিক পুলিশ বিভাগ। কিন্তু তাদের উত্তরও দায়সারা।

ফাইল ছবি: ইনডিপেনডেন্টআর অন্যদিকে রুট পারমিট, ফিটনেস সার্টিফিকেট, চালকের লাইসেন্স—কোনো কিছু না থাকা সত্ত্বেও রাজধানীর সড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে হিউম্যান হলার, যা লেগুনা নামেই বেশি পরিচিত। সড়কে আতঙ্ক ছড়ানো এসব লেগুনার রুট পারমিট দেওয়া অন্তত দুই বছর ধরে বন্ধ রেখেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), করছে না নবায়নও। তবুও প্রশাসনের নাকের ডগার ওপর দিয়ে চলছে এসব লেগুনা।

আজ থেকে প্রায় ৮ বছর আগে সিএনজিচালিত অটোরিকশা নিয়ে কাজ করা হয়েছিল। পেশাগত কারণে এ নিয়ে প্রতিবেদন তৈরির কাজ জুটেছিল। মজার বিষয় হলো, প্রতিবেদন তৈরি করতে গিয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশার বিষয়ে তখনো যেসব অভিযোগ জানা হয়েছিল, সেসব আজও বহাল তবিয়তে বিদ্যমান। তখনো ভাড়া নেওয়ার ক্ষেত্রে মিটার মানা হতো না, আজও হয় না। যাত্রীদের কাছ থেকে তখনো ইচ্ছেমতো ভাড়া নেওয়া হতো, এখনো হয়। তখনো বিআরটিএ ছিল, ট্রাফিক পুলিশ ছিল, এখনো অবশ্য আছে। আর চিরায়ত সত্যের মতো টিকে আছে নৈরাজ্য।

সমস্যা হলো, তখন যাত্রীদের পক্ষ থেকে কিছুটা ট্যাঁ–ফোঁ করার চিত্র পাওয়া যেত। আর এখন আপামর যাত্রীদের অবস্থা হয়ে গেছে ফাঁদে আটকে পড়া ইঁদুরের মতো। যাত্রীরা হয়তো এখন মেনেই নিয়েছেন যে, তাদের পকেট কাটা পড়বেই! তাই চুক্তির ভাড়া নিয়ে দর কষাকষি করার বদলে তা পরিণত হয়েছে খানিকটা অনুনয়ে। যদি দয়া করে সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকেরা একটু ভাড়া কমান আর কি!

প্রতিবেদক হিসেবে এ নিয়ে কাজ করার সূত্রেই জানি যে, সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকদেরও কিছু পাল্টা যুক্তি আছে। সেগুলো হলো: সরকারিভাবে জমার টাকা কম হলেও বাস্তবে তা বেশি; মিটারে গেলে জমার টাকা উঠলেও নিজের বেতন হয় না; ২০১৫ সালের নির্ধারিত ভাড়াতে অটোরিকশা চালিয়ে জমার টাকাও তোলা সম্ভব নয় ইত্যাদি ইত্যাদি। এসব নিয়ে সংবাদমাধ্যমে লেখালেখি কম হয়নি। কিন্তু যাদের এসব দেখার কথা, তাঁরা নাকে তেল দিয়ে যে কুম্ভকর্ণের ঘুম দিয়েছেন, সে কি ভাঙা সহজ কথা!

ফাইল ছবি: ইনডিপেনডেন্টএকই অবস্থা লেগুনার ক্ষেত্রেও। এসবে যে অনিয়মগুলো হচ্ছে, তা অনেকদিন ধরেই সবাই জানে, শোনে। কিন্তু পকেট কাটা বা ভোগান্তির ক্ষেত্রে শিকার যেহেতু শুধুই সাধারণ জনগণ, তাই এসবের কোনো সমাধানই হয় না। মাঝে মাঝে হুংকার আসে অবশ্য। তবে ওই পর্যন্তই। নৈরাজ্য দূরীভূত হয় না, ভোগান্তিও কমে না। কারণ, জনতার নোট নষ্ট হলে কার কী যায় আসে! আর যে নোট নষ্ট হয়, তা কারও না কারও সৌভাগ্যের কারণ তো অবশ্যই। এটি দিনের আলোর মতোই সত্য, অনিয়মের ক্ষতি কারও না কারও সৌভাগ্যের হেতু। বাংলা প্রবাদেই তো আছে, ‘কারও পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ’।

তাই পরিস্থিতি কেবল খারাপ থেকে খারাপই হচ্ছে। এত ধরনের অনিয়মে জেরবার ঢাকার সড়কে যানের জট হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ব্যুরো অব ইকোনমিক রিসার্চ বলছে, বিশ্বের ১৫২টি দেশের ১ হাজার ২০০ শহরের মধ্যে সবচেয়ে ধীরগতির শহর ঢাকা। বিশ্বব্যাংক ও বুয়েটের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৭ সালে ঢাকার সড়কে গড় গতি ছিল ঘণ্টায় ২১ কিলোমিটার। ২০২২ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৪ দশমিক ৮ কিলোমিটারে। অর্থাৎ, যাত্রা কেবলই ক্রমাবনতির দিকে। এতে আর্থিক ক্ষতিও হচ্ছে ব্যাপকভাবে। চলতি বছরের এপ্রিলে জানা গেল, ঢাকার যানজটের কারণে দিনে ক্ষতি হয় প্রায় ১৪০ কোটি টাকার। ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (ডিসিসিআই) আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় ব্যবসায়ী নেতারাই এই তথ্য দিয়েছেন। তাঁরা বলেছেন, রাজধানীর যানজটের কারণে প্রতিদিন নষ্ট হওয়া কর্মঘণ্টার আর্থিক মূল্য এমনই। এবার তবে বছরের হিসাব করে ফেলুন। অঙ্কটা বের করে চমকে যাবেন নিশ্চিত। আর এর সঙ্গে শারীরিক ও মানসিক হ্যাপার বিষয়টি যোগ করলে নিদারুণ হতাশায় ডুবে যাওয়া ছাড়া মনে হয় গত্যন্তর নেই।

তাহলে কি এসব সমস্যা সমাধানের অযোগ্য? না, কখনোই নয়। সমাধান করার সৎ চেষ্টা থাকলে, এই পৃথিবীতে সব সমস্যারই সমাধান করা সম্ভব। এর জন্য প্রকৃত ইচ্ছা থাকতে হবে। সময় লাগতেই পারে, কিন্তু সমাধানই করা অসম্ভব—তা বলা যাবে না। কিন্তু এই ঢাকায় এতদিন ধরে চলে আসা এমন সংকটের স্বরূপ অবলোকন করতে করতে মনে হতেই পারে যে, সমাধানের বদলে সংকট টিকিয়ে রাখতেই আসলে শ্রম ও মেধা বিনিয়োগ হচ্ছে হয়তো! নইলে কি আর এমন নৈরাজ্য দিনের পর দিন চলে?

লেখক: উপবার্তা সম্পাদক, ডিজিটাল বিভাগ, ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন

এ দেশের বর্তমানের সরকারি কর্মচারীরা ১৫০ বছর আগে জন্ম নিলেই হয়ে যেতেন রাজকর্মচারী। ওই সময় এই দেশে রাজা-রানির শাসনই বিরাজমান ছিল। তবে রাজসময়ের অনেক পরে জন্ম নিলেও তাঁরা আছেন রাজার হালেই। তা নইলে কি...
বেইলি রোডের ঘটনার রাজধানীতে এ ধরনের বহুতল ও অপরিকল্পিত (হয়তো অননুমোদিতও) রেস্টুরেন্টে ভিড় কমেছে, এমন কোনো তথ্য অন্তত আমার জানা নেই। আসলে ‘আমরা যদি না জাগি মা কেমনে সকাল হবে?’ শুধু মুখে বড় বড় বুলি...
বেইলি রোডের গ্রিন কোজি কটেজ ভবনে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখা গ্যাস সিলিন্ডারের স্তূপ, কিংবা ওই ভবনে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা না থাকা–সব তো আমার-আপনার মতো কিছু এ দেশীয় নাগরিকই করেছেন, তাই না? কীসের...
বাজারে গেলে, বিশেষ করে ঢাকায় সাধারণ মানুষের ধুকপুকুনি বাড়তে থাকে। গত দিন যে দামে তিনি জিনিসপত্র কিনে নিয়ে গেছেন, আজও অন্তত সেই দামে কিনতে পারবেন কিনা–এ নিয়ে দুশ্চিন্তার শেষ নেই। মাছ-মাংস-ডিমের মতো...
মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা অর্জনে নেতৃত্বদানকারী দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী রোববার। এদেশের বৃহত্তম ও সর্ব প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ...
হাথুরুসিংহেকে কেউই বোনাস দিচ্ছে না। ভারতকে ১৯৬ রানের পাহাড় গড়তে দিয়েই ম্যাচ হেরে গিয়েছিল বাংলাদেশ। তাড়া করতে নেমে ব্যাটসম্যানরা নিজেদের 'ফর্ম' ধরে রাখলেন। নয়জন ব্যাটসম্যান নিয়েও ৫০ রানে হারল বাংলাদেশ।
নারায়ণগঞ্জ সিদ্ধিরগঞ্জের হিরাঝিল এলাকার একটি বাসায় ঘুমন্ত স্বামী সুমন মিয়ার (৩০)গোপনাঙ্গ কাটার অভিযোগ পাওয়া গেছে দ্বিতীয় স্ত্রী নাজমা বেগমের বিরুদ্ধে। 
নিখোঁজের সাতদিন পর পাবনার ঈশ্বরদীতে বাক্সের ভেতর থেকে তপু হোসেন (১৫) নামে এক কিশোরের অর্ধগলিত খণ্ড-বিখণ্ড মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। 
লোডিং...

এলাকার খবর

 
By clicking ”Accept”, you agree to the storing of cookies on your device to enhance site navigation, analyze site usage, and improve marketing.