সাকিব, সাংবাদিকরাই কি শুধু অল্প বোঝেন?

আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০২৪, ০৩:৪১ পিএম

সাকিব আল হাসান আবার ফর্মে ফিরেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ১২ বলে ৬ রানের সঙ্গে ৩ ওভারে মাত্র ১৬ রান দিয়েছিলেন। পরের ম্যাচে অবশ্য দলের সবচেয়ে খরুচে বোলিং করেছেন। ২৩ বলে ৩০ রান করে ব্যাট হাতে সেটা পুষিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলেও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আউট হয়ে যাওয়ার দল হেরে বসেছে।

ফলে, সাকিব আসলেই ব্যাটে-বলে ফর্মে ফিরেছেন কি না, সেটি এখনই পরিষ্কার না। সাকিবের ফর্মটা আসলে সাংবাদিককে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করায়।

দ্বিতীয় ম্যাচ শেষে বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে যুক্তরাষ্ট্রে সিরিজ আয়োজন নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেছেন। বলেছেন, প্রস্তুতি নেওয়ার কথা থাকলেও বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা পর্যাপ্ত সুযোগ পায়নি। আবার যেদিন সুযোগ পেয়েছেন, সেদিন সুযোগ পুরোপুরি নেননি। অর্থাৎ দুই পক্ষের দায় আছে।

এমন মন্তব্যের পর উপস্থিত সাংবাদিক প্রশ্ন করেছিলেন, বিশ্বকাপের আগমুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হারের পর কন্ডিশনের দোহাই দেওয়াটা ঠিক হচ্ছে কি না।

এমন প্রশ্নে সাকিব সাংবাদিকের জ্ঞান নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন, ‘আমি তো বলি নাই সন্তুষ্ট না। যেটা হয়েছে, আমি সেটা বললাম। আপনি যদি অল্প বোঝেন, এটা সমস্যা। ভালো করে বুঝতে হবে কথাটা। আমি বললাম যে সুযোগটা আমাদের নেওয়ার দরকার ছিল, সেটা আমরা নিতে পারিনি। আমি কি বলছি যে ওই কারণে আমরা হারছি? বলি নাই তো। তাহলে আপনি কেন বললেন?’

সাকিবের কথা বাস্তব। তিনি তো শুধু বলেছেন, তাঁদের জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা করা হয়নি এবং যতটুকু মিলেছে, তার সদ্ব্যবহার করা হয়নি। তবু সাংবাদিক কেন বলতে গেলেন, ‘এই যে বললেন, সুযোগ-সুবিধা যেটা পেয়েছেন, তাতে সন্তুষ্ট না…’

যদিও একটু আগেই সাকিব নিজেই তাদের মাত্র তিনটি উইকেটে খেলার সুযোগ দেওয়া হয়েছে এমনটা জানিয়ে যোগ করেছেন, ‘আমার কাছে এটা আইডিয়াল মনে হয় না। এই জিনিসগুলো (প্রিপারেশনগুলো) আরও বেটার হওয়া দরকার ছিল।’

এই কথা থেকে ‘সন্তুষ্ট না’–এর মতো সিদ্ধান্তে চলে যাওয়ায় মহা অপরাধ করে ফেলেছেন উপস্থিত সাংবাদিক। এ কারণেই, বহু আগ থেকে নির্ধারিত এক সিরিজে কেন পর্যাপ্ত ফ্যাসিলিটিসের ব্যবস্থা হলো না, সে দায়টা কার—সে প্রশ্ন হিউস্টন থেকে বহু দূরে ঢাকায় বসে আরেক সাংবাদিকের করা ঠিক হবে না। প্রথমত, এর উত্তর কেউ হয়তো দিতে রাজি হবেন না। আর সাকিবের কথার সুরে দায়টা কার—সেটা বোঝা গেলেও, তাঁর কথা থেকে কিছু বুঝতে যাওয়াটা যে বোকামি, সেটা গত পরশু সংবাদ সম্মেলনে যাওয়া সাংবাদিকরাই টের পেয়েছেন। 

সাকিব আল হাসান। ছবি: ফেসবুকসাংবাদিকদের অপ্রস্তুত করায় সাকিবের আশপাশে বাংলাদেশের ক্রিকেটে কেউ নেই। সংবাদ সম্মেলনে কাউকে পাত্তা না দেওয়ার শরীরী ভাষাতেও তিনি অনন্য। সেদিনই যেমন বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে এমন হার বিশ্বকাপে প্রভাব ফেলবে কিনা, এমন প্রশ্নেও হাসতে হাসতে বলেছেন, ‘অবশ্যই পড়তে পারে। আবার নাও পড়তে পারে।’

সাকিবের এমন কথাবার্তা সবাই মেনে নেন। কারণ, বাংলাদেশে একমাত্র তিনিই আছেন, যিনি শত সমালোচনার জবাব মাঠেই দিতে পারেন। ক্রিকেটীয় মস্তিষ্কেও তাঁর ধারেকাছে কেউ নেই। এবং তিনি যা বলেন, তা করে দেখান। ফলে তিনি বলতেই পারেন, সাংবাদিক কম বোঝেন!

তবে কয়েকটা ‘কিন্তু’ রয়ে যাচ্ছে। এতক্ষণ যে সাকিবের কথা বলা হলো, তাঁকে বহুদিন ধরেই পায় না বাংলাদেশ। বরং ইদানিং কথা ও কাজে অনেক ফারাক দেখা যাচ্ছে। উদাহরণ চাই?

সর্বশেষ সাকিব এভাবে সরাসরি সাংবাদিককে ব্যক্তি আক্রমণ করেছিলেন গত ফেব্রুয়ারিতে। চোখের সমস্যা ও রাজনৈতিক ব্যস্ততায় ক্রিকেট থেকে দূরে থাকা সাকিব বিপিএল দিয়ে ফিরেছিলেন ক্রিকেটে। হ্যান্ড-আই কোঅর্ডিনেশন নিয়ে প্রশ্ন তোলায় চশমা পরিহিত সাংবাদিককে খোঁচা দিয়েছিলেন এই বলে—‘চোখে কোনো সমস্যা নেই। চশমা দিয়ে আপনি যা দেখেন, খালি চোখে এর চেয়ে ভালো দেখি।’

কিন্তু জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজে দেখা গেছে উইকেটে বল পিচ করার পর তাঁর মাথার অবস্থান শট খেলার জন্য এখনো সেরা পজিশনে যাচ্ছে না। ব্যাট হাতে তাঁর পারফরম্যান্স তাই এখনো আস্থা জাগাচ্ছে না।

আর চোখের সমস্যার কথাতেই সাকিবের অন্য এক মন্তব্য মনে পড়তে পারে। বিশ্বকাপের আগে একটি টিভি চ্যানেলকে সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন সাকিব। চোট শঙ্কায় সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালের দলের না থাকা প্রসঙ্গে বিশ্বকাপের অধিনায়কত্বর ভার পাওয়া অলরাউন্ডার বলেছিলেন, ‘কোনো খেলোয়াড় যদি শতভাগ ফিট না হয়ে খেলা চালিয়ে যায়, তবে দলের সঙ্গে প্রতারণা করছেন তিনি।’

এ মন্তব্য নিয়ে কারও আপত্তি থাকার কথা নয়। কিন্তু সেই সাকিবই পরে জানালেন পুরো বিশ্বকাপ তিনি নিজে চোখের সমস্যা নিয়ে খেলেছেন, ‘শুধু বিশ্বকাপের দুই ম্যাচ না, বিশ্বকাপজুড়েই চোখের সমস্যা ছিল।’ তিন মাস আগে তাঁর নিজের মন্তব্য অনুযায়ী একে প্রতারণা বলা যেতে পারে। কিন্তু সাংবাদিকরা তো আবার অল্প বোঝেন!

সাধারণত সাকিবের কথার মূল্য সবাই দেন, এমনকি অল্প বোঝা সাংবাদিকেরাও। তাই সাকিব আল হাসান যখন বলেছিলেন ‘২০২৩ হবে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের সেরা বছর’, তখন সবাই আশায় বুঁদ হয়েছিলেন। কিন্তু ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড তো বটেই, ঘরের মাঠেই আফগানিস্তানের কাছে ওয়ানডে সিরিজ হার। এশিয়া কাপে ব্যর্থতার পর বিশ্বকাপে সাকিবের অধিনায়কত্বে স্মরণকালের সবচেয়ে বাজে পারফরম্যান্স এই বছরকে সবচেয়ে খারাপ বছরগুলোর একটি বানিয়ে ফেলেছিল।

সাংবাদিকরা শুধু কম নন, সাকিবের চোখে মাঝে মাঝে ‘বেশি’ও বোঝেন। বিপিএলে খেললেও শ্রীলঙ্কা সিরিজে সাকিবকে পাওয়া নিয়ে শঙ্কা ছিলই। কিন্তু বিপিএল চলাকালে এ নিয়ে প্রশ্ন হতেই বেশ উষ্মা দেখান সাকিব। বলে বসেন, ‘আমি কি কাউকে বলেছি, খেলব না? গুঞ্জনকে গুঞ্জন থাকতে দিন।’ ফেব্রুয়ারি, মার্চ পেরিয়ে এপ্রিল আসতেই দেখা গেল, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজের এক ম্যাচেও দেখা যায়নি সাকিবকে। টেস্টও খেলেছেন মাত্র একটি।

সর্বশেষ এই মাসের শুরুতে বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে বোর্ড যে দুটি সিরিজ আয়োজন করেছেন, তা নিয়ে নিজের মত জানিয়েছিলেন সাকিব। বলেছিলেন, ‘আমার ধারণা, প্রস্তুতির জন্য জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলাটা আদর্শ না। দেখুন, জিম্বাবুয়ে-যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে খেলা বিবেচনা করে আমরা যদি বিশ্বকাপ চিন্তা করি, আমার কাছে মনে হয় খুবই ভুল হবে।’ বলেছিলেন, ২০২২ বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ড ও পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রস্তুতি বেশি কাজে লেগেছিল। সে তুলনায়, ‘অবশ্যই জিম্বাবুয়ের সাথে খেলা আদর্শ না।’

এ মন্তব্যে কোনো ভুল নেই। বড় কোনো প্রতিপক্ষের বিপক্ষে হাত মকশো করে নিলেই বিশ্বকাপের আদর্শ প্রস্তুতি হতো। কিন্তু যে দলের সঙ্গে খেলে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি নেওয়া আদর্শ না, সে দলের কাছে যখন দল হেরে যায় এবং শক্তিতে পিছিয়ে থাকা সে দলগুলোর বিপক্ষেই সাকিবরা হারের হ্যাটট্রিক করেন, তখন তো প্রশ্ন জাগে।

জিম্বাবুয়েকে আদর্শ প্রতিপক্ষ না মানা সাকিবকেই এখন বলতে হচ্ছে, ‘এখানে (টি-টোয়েন্টিতে) সব সময় চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। কাউকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।’ অন্য প্রশ্নের জবাবেও বলেছেন, ‘টি-টোয়েন্টিতে ছোট দল-বড় দল বলে কিছু নেই।’

তিন সপ্তাহের ব্যবধানেই কি মত বদলে ফেললেন সাকিব? নাকি এমন কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছালে সাকিব আবার ধরে নেবেন সাংবাদিকরা ‘কম বোঝেন?’

লেখক: সহকারী ক্রীড়া সম্পাদক, ডিজিটাল বিভাগ, ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন

[এই মতামত লেখকের নিজস্ব। এর সঙ্গে ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের প্রাতিষ্ঠানিক সম্পাদকীয় নীতিমালার কোনো সম্পর্ক নেই।]

আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের চিরন্তন দ্বৈরথের বাইরে এসে বাংলাদেশে জন্ম নিচ্ছে এক নতুন ফুটবল বসন্ত। কোনো পূর্বপুরুষের প্রভাব ছাড়াই, সম্পূর্ণ নিজস্ব পছন্দে একটি দেশের নতুন প্রজন্ম পর্তুগালের লাল-সবুজ...
বাজেটে ক্রীড়ায় বরাদ্দ কম হবে, সেটা অনুমান করা কঠিন না। অনেক ছোট দেশের তুলনায় আমাদের ক্রীড়া বাজেট কম। কর্মকর্তাদের অদূরদর্শিতা ও গাফিলতির কারণে এই বাজেটে তারমত্য ঘটে না। অবাক করা বিষয় হলো, প্রতি বছর...
দেখতে দেখতে ১৬ বছর হয়ে গেল তিনি বাফুফে সভাপতির চেয়ারে। যে আশা জাগিয়ে দায়িত্বটা নিয়েছিলেন, তার বিপরীতে সময় যত গড়িয়েছে, হতাশার ভারই বেড়েছে শুধু। দুর্নীতির নানা খবরে ক্ষোভ বেড়েছে, তাঁর নানা অবিশ্বাস্য...
মানুষের জীবনে খাওয়া-দাওয়া ও পড়াশোনা খুব জরুরি দুটি বিষয়। তাই, এ দুই বিষয়ে শৈশব থেকেই আগ্রহ ও আনন্দ—দুটিই থাকা জরুরি। কিন্তু, শিশুর জন্মের পর থেকেই এ দুটিকে শুধু অপছন্দের বিষয়ই নয়, রীতিমতো ‘শাস্তি’...
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘দেশের চিকিৎসা খাতের ঘাটতি দূর করে সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করবে সরকার। তৃণমূলের মানুষ ভিআইপিদের...
জামায়াত আমির বলেন, ২০০৬ সাল থেকে শুরু করে ২৪ সাল পর্যন্ত টানা ১৯টি বছর মানুষ রক্ত দিয়েছে, জীবন দিয়েছে, আয়নাঘরের সঙ্গী হয়েছে। কিন্তু মানুষ ফ্যাসিবাদের কাছে মাথা নত করেনি। আসল ফ্যাসিবাদকে জনগণ...
রবিবার (১৯ জুলাই) একই দিনে চার গুণী ব্যক্তিত্বকে স্মরণ ও শুভেচ্ছা জানাতে বিশেষ অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করেছে চ্যানেল আই। এদিন প্রয়াত কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার ও নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদের প্রয়াণ দিবস।...
একসময় ‘কুচ কুচ হোতা হ্যায়’ সিনেমায় ছোট্ট অঞ্জলি চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের হৃদয় জয় করেছিলেন সানা সাঈদ। ১৯৯৮ সালে মুক্তি পাওয়া শাহরুখ খান ও কাজল অভিনীত সেই সিনেমার শিশুশিল্পী এবার প্রকাশ...
লোডিং...
পঠিতনির্বাচিত

এলাকার খবর