শান্ত–লিটনদের সহজ খেলা কঠিন করে জেতা, অতঃপর…

আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০২৪, ০৬:৪৯ পিএম

ধরুন, একটা ক্যাচ উঠল আকাশে। ওই, উল্টোপাল্টা ব্যাট লাগিয়ে বল তুলে দেওয়ার মতো। ফিল্ডার ফিল্ডে মজুত আছে, জায়গামতোই আছে। শুধু হাত বাড়িয়ে রাখলেই যে ক্যাচ ধরা যায়, সেটি ফিল্ডার মিস করল। সাথে সাথে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা আরেক ফিল্ডার বলের দিকে ঝাঁপাল। তার হাতে লেগে বল গেলে একই জায়গায় একটু দূরে দাঁড়িয়ে থাকা তৃতীয় ফিল্ডারের কাছে। আর সেটি লুফে নিয়ে তৃতীয়জন হাসলেন বিশ্বজয়ের হাসি!

একে বলে, সহজ ক্যাচ কঠিন করে ধরা। ক্রিকেট ম্যাচে এ ধরনের ঘটনা যখন ঘটে, তখন তাতে তারিফ জোটে না। অন্তত আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তো নয়ই। আপনি যদি সহজ কাজ কঠিন করে ফেলে তারপর সেটি সম্পন্ন করেন, তবে কে আপনাকে প্রশংসায় ভাসিয়ে দেবে? বরং কিছুটা আক্ষেপ জমা হবে কন্ঠে। ঠিক তেমনটাই হচ্ছে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ হওয়ার পর। উচ্ছ্বাস আসছে, ফসকে যেতে যেতে শেষ পর্যন্ত জয় পকেটে পুরেছে বলে। কিন্তু শান্ত–লিটনদের এই ‘থ্রিলার’ দেখতে মজা কতটা?

গত কিছুদিন ধরেই সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের জাতীয় পুরুষ ক্রিকেট দল নিয়ে ট্রলের শেষ নেই। মায়ের দোয়া টিম থেকে শুরু করে আরও কত কত অভিধা! সাধারণ দর্শকেরা বা ভক্তরা এত কিছু বুঝতে চান না। প্রায় অপেশাদারদের নিয়ে তৈরি যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিকেট দলের কাছে বাংলাদেশের সিরিজ হারের পরই তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে চলেছেন। সেই ক্ষোভে যুক্তি সব সময় থাকে না। অযৌক্তিকভাবেও বেশির ভাগ সময় খেলোয়াড়দের নিয়ে ট্রল চলে, অনেক সময় তা কুৎসার পর্যায়েও চলে যায়। এসব সব সময়ই নিন্দাযোগ্য এবং তা হওয়াও উচিত।

এ ছাড়া বিভিন্ন টক শো’তে চলে খেলার ব্যবচ্ছেদ, খেলোয়াড়দের ব্যবচ্ছেদ। আসে ঘরোয়া ক্রিকেটের প্রসঙ্গ, পিচ, খেলার পরিবেশ থেকে শুরু করে নানা কথা। অবশ্য একটা জয় কোনোক্রমে এলেই সেসব আবার উড়ে চলে যায়। কেউ আর সে কথা মনে রাখে কিনা, তা নিয়ে সন্দেহ ওঠে! আবার হারলেই নতুন করে ফিরে আসে পুরনো কথা। আবার চলে চর্বিতচর্বণ।

একটি কথা স্পষ্টভাবে বলে দেওয়া যায় যে, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে কষ্ট করে জিতেছে বাংলাদেশ। হ্যাঁ, আয়াসে জেতার মতো পরিবেশ তৈরি করেছিলেন ক্রিকেটাররা। ১২৫ রানের জয়ের লক্ষ্যে খেলতে নেমে এক সময় ৩ উইকেট হারিয়েই ৯১ রান উঠেছিল স্কোরবোর্ডে। এর পরের ২২ রানের মধ্যে আমরা সেই সহজ অবস্থাকে কঠিন করে তুলেছি, হারিয়েছি ৫টি উইকেট। এরপর এসে গেল বলের সঙ্গে রানের হিসাব। তৈরি হলো থ্রিলার। শেষে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ছক্কা মেরেছেন, দৌড়ে রান নিয়ে জয়টা এনে দিয়েছেন। কিন্তু যে দৌড়ে জয়সূচক শেষ দুটো রান এসেছে, সেটিকে কোনোভাবেই সুচিন্তিত বলা যাবে না। বরং আমাদের ক্রিকেটাররা যেন ধরেই নিয়েছিলেন, শ্রীলঙ্কার ফিল্ডারদের হাতে বল থাকলেও, তারা টাইমলি থ্রো করলেও, স্ট্যাম্পে লাগবেই না! এটা অনেকটা ‘আমি খারাপ খেললেও, ওরা আরও খারাপ খেলবেই’ ঘরানার আত্মবিশ্বাস। এমন বিশ্বাসের ঝড়ে কখনও কখনও বক মরলেও, ফকিরের কেরামতি আসলে বাড়ে না।

ক্রিকেটে দেশের খেলোয়াড়েরা একটু খারাপ করলেই আমরা মিরপুরের পিচ যে স্পোর্টিং নয়, প্রস্তুতি হিসেবে খেলা সিরিজের প্রতিপক্ষ যে আদর্শ নয়, ঘরোয়া ক্রিকেট যে উচ্চ মানের হতে পারছে না—এমন নানা বিষয় টক অব দ্য কান্ট্রি হয়। চলে আলাপ, আলোচনা, সমালোচনা ইত্যাদি ইত্যাদি। তবে সমাধানে কোনো পদক্ষেপ আর চোখে পড়ে না। আবার নতুন আরেক বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট এলে, ব্যর্থ হলে, আবার শুরু হয় আলোচনা–সমালোচনা। এ যেন এক পুণরাবৃত্তীয় প্রক্রিয়া, যার কোনো শেষ নেই।

মজার বিষয় হলো, ওপরে তোলা অভিযোগগুলো এই লেখক যতদিন ধরে ক্রিকেট বুঝতে শিখেছেন, ততদিন ধরেই শুনছেন। বছরের হিসাবে দুই দশকের বেশি তো হবেই। এতদিন ধরে আমরা কেবল কথাই বলে যাচ্ছি। নইলে আর একই সমস্যা বার বার চোখের সামনে আসবে কেন?

এই সময়কালে এ দেশের ক্রিকেট অবশ্যই এগিয়েছে। পুরুষেরা যেমন এগিয়েছে, এগিয়েছে নারীরাও। কিন্তু কিছু বেসিক সমস্যার যে সমাধান হচ্ছে না পুরোপুরি, তা নিশ্চিত। ফলে জেতার জন্য মরিয়া আমরা প্রতিপক্ষের হাতে বল দেখেও দৌড় দিচ্ছি। দোয়া করছি, যেন ছোড়া বল স্ট্যাম্পে না লাগে! এভাবে জয় এলেও সই। জয়টাই যে দরকার সমালোচকদের মুখ বন্ধ করতে। কারণ এ দেশে আমরা সবাই ইনস্ট্যান্ট কফির মতো সব কিছুই ইনস্ট্যান্ট চাই। তা খেলে পেটে সমস্যা হলেও কিচ্ছুটি যায় আসে না। কফি খেয়েছি তো!

এ কারণে আমাদের কোনো সমস্যার দীর্ঘমেয়াদী ও টেকসই সমাধান হয় না। শান্ত–লিটনেরা এর পরের ম্যাচে চূড়ান্ত খারাপ করলে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ট্রল তো করাই যাবে। এরপরে মনের মতো কোনো জিম্বাবুয়ে পাওয়া গেলে জেতা হবে। এভাবেই চলতে থাকবে।

তাই শান্ত–লিটনরা সহজ ম্যাচ কঠিন করেই জিতবেন। আমরাও লিখব ‘থ্রিলার’–এর গল্প। সেই থ্রিলারে আদৌ সত্যিকারের থ্রিল থাকুক আর না–ই থাকুক। তবে এতটুকু বলে দেওয়া যায় যে, প্রকৃত ক্রিকেটমোদীরা এমন থ্রিলারে অন্তত স্মৃতিচারণের মজা পান না কোনোভাবেই!

লেখক: উপবার্তা সম্পাদক, ডিজিটাল বিভাগ, ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন

[এই মতামত লেখকের নিজস্ব। এর সঙ্গে ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের প্রাতিষ্ঠানিক সম্পাদকীয় নীতিমালার কোনো সম্পর্ক নেই।]

আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের চিরন্তন দ্বৈরথের বাইরে এসে বাংলাদেশে জন্ম নিচ্ছে এক নতুন ফুটবল বসন্ত। কোনো পূর্বপুরুষের প্রভাব ছাড়াই, সম্পূর্ণ নিজস্ব পছন্দে একটি দেশের নতুন প্রজন্ম পর্তুগালের লাল-সবুজ...
নেপালসহ দেশে দেশে সরকার পতন ও এরপরের ‘খিচুড়ি’ হয়ে যাওয়া পরিস্থিতিতে সেসব অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলো না হয় ‘ডাল’ আর ‘চাল’-এর ভূমিকা নিয়েছে। আগুন হিসেবে কাজ করেছে জেন জি-র ক্ষোভ। কিন্তু খিচুড়ি রান্নার...
আরেকটি সাধারণ আশঙ্কা হলো–এআই দিয়ে তৈরি লেখা, ছবি ও কণ্ঠস্বর জনমত ও নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারকারী অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। এই উদ্বেগগুলো যৌক্তিক। তবুও এসব উদ্বেগ আদতে আরও অস্বস্তিকর ও মৌলিক...
গাজা যুদ্ধের দুই বছর হতে চলল। জাতিসংঘে সাধারণ পরিষদের অধিবেশন সামনে রেখে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, কানাডার মতো জি৭ জোটভুক্ত তিন দেশ ও অস্ট্রেলিয়া ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতির বিষয়ে ঘোষণা দিয়ে রেখেছে। এই ঘোষণা...
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘দেশের চিকিৎসা খাতের ঘাটতি দূর করে সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করবে সরকার। তৃণমূলের মানুষ ভিআইপিদের...
জামায়াত আমির বলেন, ২০০৬ সাল থেকে শুরু করে ২৪ সাল পর্যন্ত টানা ১৯টি বছর মানুষ রক্ত দিয়েছে, জীবন দিয়েছে, আয়নাঘরের সঙ্গী হয়েছে। কিন্তু মানুষ ফ্যাসিবাদের কাছে মাথা নত করেনি। আসল ফ্যাসিবাদকে জনগণ...
রবিবার (১৯ জুলাই) একই দিনে চার গুণী ব্যক্তিত্বকে স্মরণ ও শুভেচ্ছা জানাতে বিশেষ অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করেছে চ্যানেল আই। এদিন প্রয়াত কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার ও নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদের প্রয়াণ দিবস।...
একসময় ‘কুচ কুচ হোতা হ্যায়’ সিনেমায় ছোট্ট অঞ্জলি চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের হৃদয় জয় করেছিলেন সানা সাঈদ। ১৯৯৮ সালে মুক্তি পাওয়া শাহরুখ খান ও কাজল অভিনীত সেই সিনেমার শিশুশিল্পী এবার প্রকাশ...
লোডিং...
পঠিতনির্বাচিত

এলাকার খবর