বিরল খনিজ কী, কেনই-বা এত গুরুত্বপূর্ণ?

আপডেট : ৩০ মার্চ ২০২৫, ০২:০৪ পিএম


জ্বালানি তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর সংগঠন ওপেকের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের বাজারের ৪১ শতাংশ। এই জোট ও তাদের নিয়ন্ত্রক হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র গোটা বিশ্বে ছড়ি ঘোরানোর ক্ষেত্রে এই সক্ষমতা বিশেষভাবে কাজে লাগিয়েছে। এখন ভবিষ্যতের জ্বালানি হিসেবে বহুল আলোচিত বিরল খনিজের যে আলাপ, সেখানে বাজারের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি চীনের হাতে।

বিশ্বের মোট বিরল খনিজের ৬০ শতাংশ আকরিকের নিয়ন্ত্রণ চীনের হাতে। ওয়াশিংটনভিত্তিক সাময়িকী দ্য ডিপ্লোম্যাট বলছে, ৮৫ শতাংশ আকরিকের উৎপাদন চীনের নিয়ন্ত্রণে। আর বিরল খনিজ থেকে বিভিন্ন ধরনের পণ্য উৎপাদনের হিসাব ধরলে এ নিয়ন্ত্রণ ৯৫ শতাংশ।

বিরল খনিজ নিয়ে বেশ তো আলোচনা হচ্ছে। প্রশ্ন হচ্ছে–এই বিরল খনিজ আসলে কী? কী কাজেই‑বা লাগে? এক কথায় উত্তর দিতে গেলে বলতে হয়, এই সময়ে বিরল খনিজ ও তা ব্যবহারে তৈরি নানা পণ্য মানুষের জীবনের সঙ্গে একেবারে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। হাতে থাকা সেলফোন, কম্পিউটার, টেলিভিশন, গাড়ি থেকে শুরু করে বিচিত্র সব প্রযুক্তি পণ্য, যার ভেতরে চুম্বক থাকে বা যা তৈরিতে চুম্বক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তার সবকিছুতেই রয়েছে এই বিরল খনিজের উপস্থিতি। যোগাযোগ ব্যবস্থা তো বটেই, চিকিৎসা সরঞ্জাম, সামরিক সরঞ্জাম, টেকসই জ্বালানি রূপান্তর–এই সবকিছুই আসলে নির্ভর করছে এই অনবায়নযোগ্য প্রাকৃতিক সম্পদের প্রাপ্যতার ওপর।

এবার একটু গভীরে যাওয়া যাক। বিরল খনিজের মধ্যে আসলে কোনগুলো পড়ে? প্রযুক্তিপণ্য উৎপাদনে কোনগুলোই‑বা কাজে লাগে?

বিরল খনিজ কোনগুলো?

ল্যানথেনাইড সিরিজের ১৫টি মৌল এবং স্ক্যান্ডিয়াম ও ইত্রিয়াম মিলিয়ে ১৭টি ধাতুকে একসঙ্গে বিরল খনিজ বলা হয়। এর মধ্যে ল্যানথেনাইড সিরিজের মৌলগুলোকে একযোগে বলা হয় বিরল মৃত্তিকা ধাতু। এই শ্রেণির নামকরণ থেকেই বোঝা যাচ্ছে যে, মাটিতে এই মৌলগুলো পাওয়া যায়। এমনিতে একে বিরল বলার তেমন কারণ নেই। তবে এর প্রক্রিয়াকরণ জটিল এবং পরিবেশবান্ধব না হওয়ায় এগুলো ‘বিরল’ খেতাব পেয়েছে। মূলত বাণিজ্যিকভাবে এসব মৌলকে বা এগুলোর অক্সাইড উৎপাদনেই মূল জটিলতা। সব ধরনের পরিবেশগত বাধ্যবাধকতা মেনে চলতে গেলে এর উৎপাদন ব্যয় যায় বেড়ে।

এই ১৭টি বিরল মৌলের মধ্যে রয়েছে–স্ক্যান্ডিয়াম, ইত্রিয়াম, সেরিয়াম, প্রাসিওডিমিয়াম, ডিসপ্রোসিয়াম, টারবিয়াম, ল্যানথেনাম, গ্যাডোলিনিয়াম, থুলিয়াম, ইটারবিয়াম, নিওডিমিয়াম, ইউরোপিয়াম, প্রোমিথিয়াম, হলমিয়াম, লুটেসিয়াম, আরবিয়াম ও সামারিয়াম।

তবে এই ১৭ মৌলের মধ্যে মোটাদাগে পাঁচটির গুরুত্ব অন্যগুলোর চেয়ে বেশি। খনি সম্পর্কিত ওয়েবসাইট মাইনিং ডটকমের তথ্যমতে, এই ১৭ বিরল খনিজের মধ্যে নিওডিমিয়াম, ইউরোপিয়াম, টারবিয়াম, ডিসপ্রোসিয়াম ও ইত্রিয়ামের ব্যবহার তুলনামূলক বেশি।

 সে যাক। মোটাদাগে এই বিরল খনিজের জন্য গোটা বিশ্বের তাবড় তাবড় শক্তি এখন হন্যে হয়ে ঘুরছে। এটা অনেকটা ফ্রাঙ্ক হারবার্টের সিনেমা ‘ডিউন’‑এর সঙ্গে তুলনাযোগ্য। সেখানে দেখানো হয়, ‘স্পাইস’ নামের বিশেষ একটি উপাদানের কল্যাণে মানুষ মহাকাশে নিজেদের বিস্তার ঘটাতে পেরেছে। অর্থাৎ, মানুষের এই পৃথিবী ছেড়ে মহাকাশে ঘাঁটি গাড়ার পেছনে আছে বিশেষ এক পদার্থ। বাস্তব পৃথিবীতে বিষয়টি হুবহু এমন নয়। তবে আধুনিক প্রযুক্তি বলতে আমরা যা কিছু জানি, তার সঙ্গে কিন্তু এই বিশেষ এক ধরনের উপাদানের যোগ রয়েছে। এটি অবশ্য একক কিছু নয়। আগেই বলা হয়েছে, ১৭টি মৌল নিয়ে এই বিরল খনিজের দুনিয়াটি গড়ে উঠেছে। আলোচনা আরেকটু গেলে বোঝা যাবে এই বিরল খনিজের হাতছানি মানুষকে মহাকাশেও টেনে নিয়ে যাচ্ছে। সে আলোচনা যথাস্থানে আসবে।

আধুনিক প্রযুক্তি ও বিরল খনিজ

আধুনিক প্রযুক্তি দুনিয়া অনেকাংশেই বিরল খনিজের ওপর নির্ভরশীল। বিজ্ঞান সম্পর্কিত ওয়েবসাইট সায়েন্সনিউজ ডটকমে প্রকাশিত নিবন্ধে বলা হয়েছে, তুলনায় কম গুরুত্বপূর্ণ ধরা হলেও সেরিয়াম পেট্রোলিয়াম পরিশোধনে ব্যবহৃত হয়, আর নিউক্লিয়ার চুল্লিতে নিউট্রন ক্যাপচারের জন্য ব্যহৃত হয় গ্যাডোলিনিয়াম।

তবে বিরল খনিজের সবচেয়ে বেশি ব্যবহার আলো বিকীরণ ও চৌম্বক ধর্মের ওপর নির্ভর করে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, আমাদের হাতে হাতে আজ যে স্মার্টফোন, তার রঙিন স্ক্রিন, কানে থাকা হেডফোন, ব্যাঙ্কনোটের গোপন নিরাপত্তা সংকেত, ক্ষেপণাস্ত্রের শরীরে থাকা তাপসংবেদী কাঠামো, কিংবা সাগরতলে থাকা ফাইবার অপটিক সরবরাহ লাইন–এই সবকিছুতেই ব্যবহৃত হয় বিরল খনিজ। বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য চুম্বক তৈরির পেছনেও রয়েছে এরা। আর যদি বায়ুশক্তি, বিদ্যুচ্চালিত গাড়ির (ইভি) মতো টেকসই প্রযুক্তির কথা বলা হয়, তবে এই বিরল খনিজ ছাড়া উপায়ই নেই। এমনকি কোয়ান্টাম কম্পিউটার নিয়ে এই এত এত যে গবেষণা, তা হয়তো আর ভবিষ্যৎ দেখবে না, যদি এই বিরল খনিজ না থাকে।

এখানে বলে রাখা ভালো যে, বিরল খনিজভুক্ত এই ১৭ মৌলের কী এমন বিশেষত্ব যে, তারা এতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। তাদের বিশেষত্ব মূলত তাদের পরমাণুর কাঠামোর ভেতরে। এই প্রতিটি মৌলের পরমাণুর কাঠামোতে রয়েছে অপূর্ণ এফ অর্বিটাল। বিস্তারিত আলাপে না গিয়ে বলা যায়, পরমাণুর কাঠামোর মধ্যে থাকা এফ অর্বিটালের ইলেকট্রনগুলো উত্তেজিত অবস্থায় ওপরের স্তরে যেতে পারে, যা শক্তি বিকীরণের মাধ্যমে গ্রাউন্ড স্টেট বা আগের স্তরে ফিরে আসে। এই বিকীরিত শক্তিই আসলে তার থেকে পাওয়া নানা বর্ণিল আলোর উৎস। আবার অপূর্ণ অর্বিটাল হওয়ায় এসব পরমাণুর বহিস্তরে ইলেকট্রনগুলো সমরূপ (একই দিকে স্পিন করা) দশাপ্রাপ্ত হতে পারে বেশি। ফলে সহজেই এগুলো চৌম্বক ধর্ম প্রদর্শন করতে পারে। এ নিয়ে যারা আগ্রহী, তাদের একটু রসায়ন ঘাটতে হবে। এ নিয়ে বহু প্রবন্ধ একটু নেট ঘাটলেই পাওয়া যাবে।

প্রতীকী ছবি। পেক্সেলস নেওয়া
কম্পিউটার মনিটর, টেলিভিশন স্ক্রিন কিংবা স্মার্টফোনের স্ক্রিন রঙিন করতে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় টারবিয়াম ও ইউরোপিয়াম। এগুলোতে থাকা এফ‑ইলেকট্রনের কল্যাণেই তাদের এই ব্যবহার। আবার ইত্রিয়ামের ব্যবহার রয়েছে উচ্চ সক্ষমতার লেজারে। মূলত ইত্রিয়াম‑অ্যালুমিনিয়াম‑গারনেট বা ওয়াইএজি ব্যবহার করা হয়। আর এর সাথে যদি নিওডিমিয়ামকে জুড়ে দেওয়া হয়, তবে এর ব্যবহারিক বৈচিত্র্য বেড়ে যায় বহুগুণে। কী কী ক্ষেত্রে? স্টিল কাটা থেকে শুরু করে শরীরে ট্যাটু আঁকা–সবকিছুতেই এর ব্যবহার আছে। একইভাবে আরবিয়াম‑ওয়াইএজি লেজার ব্যবহার করা হয় চিকিৎসায় নানা ধরনের অস্ত্রোপচারের সময়।

ল্যানথেনামের ব্যবহার রয়েছে নাইট ভিশন গগলসে। আরবিয়ামের কল্যাণেই বাধাহীন ইন্টারনেট সেবা সারা দুনিয়ায় পাওয়া সম্ভব হচ্ছে। ইন্টারনেটের মাধ্যমে যে তথ্যপ্রবাহের সঙ্গে আমরা যুক্ত, তা যে আলোক তরঙ্গের মাধ্যমে পাঠানো হয়, তার তরঙ্গদৈর্ঘ্য ১৫৫০ ন্যানোমিটার, আরবিয়ামও একই দৈর্ঘ্যের তরঙ্গ বিকীরণ করে।

যে লেখাটি এখন কি‑বোর্ড চেপে লেখা হচ্ছে, সেই কম্পিউটার হয়তো এভাবে মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছাতই না, যদি বিরল খনিজের নানামাত্রিক ব্যবহার না করা হতো। ১৯৪৫ সালে বিশ্বের প্রথম প্রোগ্রাম্যাবল কম্পিউটার ইনিয়াকের ওজন ছিল মোটামোটি চারটি হাতির সমান। সেই কম্পিউটার এখন ঘরে ঘরে শুধু নয়, কাঁধে বা পকেটে করে ঘুরে বেড়াচ্ছে মানুষের সাথে।

এটি সম্ভব হয়েছে বিরল খনিজের বিস্ময়কর চৌম্বক শক্তির কারণে। অতি ক্ষুদ্রকায় চুম্বক এর মাধ্যমে তৈরি করা যায়, যা সেই বৃহদাকায় চুম্বকের সমমাত্রার কাজ করতে সক্ষম। ঠিক কী পরিমাণ শক্তি? ধরা যাক নিওডিমিয়াম‑আয়রন‑বোরন চুম্বকের কথা। এ ধরনের ৩ কেজির একটি চুম্বক অনায়াসে ৩০০ কেজির বেশি ওজন তুলতে পারে। বিশ্বের স্থায়ী চুম্বকের ৯৫ শতাংশের বেশি এই শঙ্কর দিয়ে তৈরি।

স্মার্টফোনের ভাইব্রেশন, হেডফোনের বা ইয়ারবাডসের শব্দ, হার্ড ডিস্কে তথ্য সংরক্ষণ কিংবা এমআরআই মেশিনে চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরিতে এই নিওডিমিয়াম‑আয়রন‑বোরনের শঙ্করে গড়া চুম্বক ব্যবহার করা হয়। এর সাথে যদি আরেক বিরল খনিজ ডিসপ্রোসিয়াম জুড়ে দেওয়া হয়, তবে এই চুম্বক হয়ে উঠবে তাপসহ, যা ব্যবহার করা হয় বিভিন্ন বিদ্যুচ্চালিত যানবাহনের মোটরে। তবে এ ক্ষেত্রে জনপ্রিয় সামারিয়াম‑কোবাল্ট ম্যাগনেট। এর ব্যহার রয়েছে উড়োজাহাজ থেকে শুরু করে নানা ধরনের যানবাহন, জেনারেটর, স্পিড সেন্সর, রাডার সিস্টেম, কমিউনিকেশন স্যাটেলাইটে।

আসা যাক বায়ুবিদ্যুৎকলের কাছে। বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে গোটা বিশ্ব ক্রমে পরিবেশবান্ধব জ্বালানির দিকে ঝুঁকছে। এ ক্ষেত্রে উইন্ডমিল ও সোলার প্যানেল মনোযোগের কেন্দ্রে চলে এসেছে। এ দুই ক্ষেত্রেই রয়েছে বিরল খনিজের উল্লেখযোগ্য ব্যবহার। বিজ্ঞানীরা বলছেন, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং নিয়ে আজকের যে হইচই, তার উন্নয়নেও বিরল খনিজ ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এ ক্ষেত্রেও এর এফ‑ইলেকট্রন ও এফ অর্বিটালে থাকা ফাঁকা স্থান বিশেষ হয়ে উঠেছে। কারণ, এই ফাঁকা স্থানই এই মৌলগুলোকে বাড়তি তথ্য সংরক্ষণের সক্ষমতা দিচ্ছে।

বাজার কত বড়?

এ তো গেল বিচিত্র সব ব্যবহারের কথা। কিন্তু এই যে নানা ধরনের প্রযুক্তি পণ্য তৈরিতে এই বিরল খনিজ লাগছে, এবং তা নিয়ে এত হল্লা–এটা কেন? কারণ আর কিছুই নয়–বাজার।

ধরা যাক স্মার্টফোনের কথা। ফরচুন বিজনেস ইনসাইটের দেওয়া তথ্যমতে, ২০২৯ সাল নাগাদ বৈশ্বিক স্মার্টফোনের বাজার হবে ৭৯ হাজার ২৫১ কোটি ডলারের। আর পরিসংখ্যানভিত্তিক ওয়েবসাইট স্ট্যাটিস্টা জানাচ্ছে, গৃহস্থালিতে ব্যবহৃত ছোটখাটো স্মার্ট ডিভাইসের বাজারের আকার একই সময়ে দাঁড়াবে ২৫ হাজার কোটি ডলারের।

ইলেকট্রিক ভেহিকল তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ উপাদান বিরল খনিজ। ছবি: রয়টার্সআসা যাক ইলেকট্রিক ভেহিকলের কাছে। ২০২৫ সালে এর বৈশ্বিক বাজার ৭৮ হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাবে, যার মধ্যে প্রায় ৩৮ হাজার কোটি ডলারের বাজার থাকবে চীনের নিয়ন্ত্রণে। আর কম্পিউটার, ল্যাপটপ ইত্যাদির হিসাবে ঢুকলে দেখা যাবে এর বাজার এখনই আছে ৪৬ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের বেশি, যা বছরের শেষ নাগাদ প্রায় ৫০ হাজার কোটি ডলার হবে।

বলা হতে পারে যে, কিন্তু বিরল খনিজের বাজার তো এত বড় নয়। এর বাজার তো ৪০০ কোটি ডলার ছাড়াল এই সেদিন। কিন্তু চিকিৎসা সরঞ্জাম, সামরিক সরঞ্জাম থেকে শুরু করে হাতে বা পকেটে নিয়ে ঘোরা নানা প্রযুক্তি পণ্যের উৎপাদন এর প্রাপ্যতার ওপর এত বেশি নির্ভরশীল যে, এই সবগুলো বাজারকে আমলে না নিলে এর গুরুত্ব অনুধাবন সম্ভব নয়। পাশাপাশি যখন টেকসই জ্বালানির প্রশ্ন আসে, তখন এ নিয়ে বড় শক্তিগুলোর দ্বন্দ্বের কারণটি বোঝা খুব একটা কঠিন কিছু নয়।

জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে টেকসই জ্বালানির দিকে যাওয়ার প্রবণতা দিনদিন বাড়ছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প যতই ‘বৈশ্বিক উষ্ণায়ন’ ও ‘জলবায়ু পরিবর্তনকে’ ‘গুজব’ বলে উড়িয়ে দেন না কেন, তিনি ও তাঁর প্রশাসনও জানে এই জ্বালানি রূপান্তর ছাড়া সামনের পৃথিবীতে টেকা মুশকিল হবে। ইলন মাস্ক ভালো করেই জানেন তাঁর টেসলা ততদিন রাজত্ব কায়েম করতে পারবে না, যতদিন তিনি বিরল খনিজের নির্ভরযোগ্য ও বিপুল ভান্ডার নিশ্চিত করতে না পারছেন। বিচিত্র ধরনের প্রযুক্তি পণ্যের বাজার যে সম্প্রসারণ বৈ অন্য কিছু হবে না, এবং তার বাজারের আকার যে শনৈ শনৈ বাড়তে থাকবে, তাতে আর সন্দেহ কী!

ফলে এ নিয়ে দ্বন্দ্বমুখর হওয়া ছাড়া পরাশক্তিগুলোর কোনো গত্যন্তর নেই। এমনকি পরাশক্তির তকমা টিকিয়ে রাখতে হলেও এই দ্বন্দ্ব তো বটেই তাতে জয়ী হওয়া ছাড়া তাদের সামনে আর কোনো উপায় নেই। ঠিক যেমন বর্তমান বিশ্বের নিয়ন্তা হয়ে বসে আছে জ্বালানি তেল, তার মজুতদার, উৎপাদক ও রপ্তানিকারক এবং তাদের নিয়ন্ত্রকেরা, ঠিক তেমনি ভবিষ্যতের পৃথিবীর নিয়ন্ত্রণও নির্ভর করছে বিরল খনিজের নিয়ন্ত্রণের ওপর।

আগামীকাল পড়ুন: চীন‑মার্কিন দ্বন্দ্ব তবে বিরল খনিজ নিয়ে?

লেখক: উপবার্তা সম্পাদক, ডিজিটাল বিভাগ, ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন

[এই মতামত লেখকের নিজস্ব। এর সঙ্গে ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের প্রাতিষ্ঠানিক সম্পাদকীয় নীতিমালার কোনো সম্পর্ক নেই।]

চীনের সাম্প্রতিক বাংলাদেশ–সম্পৃক্ততা নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা, পরিবর্তনশীল আঞ্চলিক ভূরাজনীতি এবং কৌশলগত ভারসাম্যের প্রয়োজনীয়তাকে সামনে এনেছে। দ্বিপাক্ষিক কূটনীতির সীমা ছাড়িয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ সফর ছিল...
​সম্প্রতি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে আটক এবং পরবর্তী ঘোষণা অনুযায়ী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের বিষয়টি আন্তর্জাতিক রাজনীতির ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ও...
আমি বলছি না যে সাক্ষাৎকার নেওয়া সাংবাদিক বা সংবাদমাধ্যমগুলো ঘুষ খেয়েছে। কিন্তু যে জনসংযোগ–লবিং প্রতিষ্ঠান এত নিখুঁতভাবে এই প্রচার অভিযান সাজিয়েছে, বর্ণনা নিয়ন্ত্রণ করেছে, তারা নিশ্চয়ই মোটা...
ভারতের সঙ্গে ৫৪টি আন্তঃসীমান্ত নদী ভাগাভাগি এ অঞ্চলের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও ন্যায্য পানি–অধিকারের প্রশ্নকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। কিন্তু দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক টানাপড়েন, ক্ষমতার অসমতা এবং...
বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার আগে ফ্রান্স কোচ দিদিয়ের দেশম স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এই ম্যাচ খেলতে তাদের তেমন কোনো আগ্রহ নেই। তবে জাতীয় দলের দায়িত্বের...
গত বছরের ২৭ মে তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনকে গ্রেপ্তার করে সেনাবাহিনী। আরও গ্রেপ্তার হয় তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী মোল্লা মাসুদ, শ্যুটার আরাফাত ও শরীফ। ২৪ এর ৫ আগস্টের পর একের পর এক হত্যাকাণ্ডে...
আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ এবং পর্যায়ক্রমে সারা দেশে আন্তর্জাতিক মানের ১০টি স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণ করা হবে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী...
সংবাদ সম্মেলনে মেজর ফারহান মাহমুদ মোক্তাদা জানান, চক্রটি সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নাম-ছবি ব্যবহার করে অবৈধ সুবিধা আদায়ের অপচেষ্টা চালাচ্ছিল। গ্রেপ্তারকৃতের কাছ থেকে ১টি মাইক্রোবাস, ৭টি মোবাইল...
লোডিং...
পঠিতনির্বাচিত

এলাকার খবর